১৯/৭. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৯৯৩-[৯] - খায়বারের খুমুস ও বানী মুতালিব

গনীমাতের সম্পদ বণ্টন এবং তা আত্মসাৎ করা - প্রথম অনুচ্ছেদ

গনীমাত হলো ঐ সম্পদ যা মুশরিকদের সাথে যুদ্ধের মাধ্যমে (তাদের নিকট থেকে) অর্জিত হয়। এটা নফল থেকে ‘আম বা ব্যাপক, আর ফাই হলো গনীমাত থেকে ‘আম্। কেননা আহলে শির্ক থেকে মুসলিমদের হাতে অর্জিত সকল সম্পদই গনীমাত। আবূ বকর আর্ রাযী (রহঃ) বলেন, গনীমাত ফাই, জিয্ইয়াহ্ও ফাই, সন্ধি চুক্তিবদ্ধের সম্পদও ফাই, জমির খিরাজ বা খাজনাও ফাই; কেননা এর প্রত্যেকটি মুশরিকদের নিকট থেকে আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদের হাতে সমর্পণ করেছেন। ‘আল্লামা ত্বীবী উল্লেখ করেছেন, ফুকাহাগণের অনেকের মতে মুশরিকদের নিকট থেকে যে মালই গ্রহণ বৈধ সেটাই ‘ফাই’।‘আল্লামা ইবনুল হুমাম (রহঃ) বলেনঃ যুদ্ধের মাধ্যমে মুশরিকদের নিকট থেকে যা নেয়া হয় তাকে গনীমাত বলা হয়। আর যুদ্ধ ছাড়া যা অর্জিত হয় যেমন জিয্ইয়াহ্, খিরাজ ইত্যাদি তাকে ‘ফাই’ বলা হয়।

খুমুস বণ্টনে বানী হাশিম ও বানী মুতালিবের অবস্থান

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৯৯৩-[৯]

وَعَن جُبيرِ بن مُطعمٍ قَالَ: مَشَيْتُ أَنَا وَعُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْنَا: أَعْطَيْتَ بَنِي الْمُطَّلِبِ مِنْ خُمُسِ خَيْبَرَ وَتَرَكْتَنَا وَنَحْنُ بِمَنْزِلَةٍ وَاحِدَةٍ مِنْكَ؟ فَقَالَ: «إِنَّمَا بَنُو هَاشِمٍ وَبَنُو المطلبِ وَاحِدٌ». قَالَ جُبَيْرٌ: وَلَمْ يَقْسِمِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِبَنِي عَبْدِ شَمْسٍ وَبَنِي نوفلٍ شَيْئا. رَوَاهُ البُخَارِيّ

জুবায়র ইবনু মুত’ইম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদিন আমি ও উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) নবী (ﷺ)-এর নিকট গিয়ে বললাম, আপনি খায়বারের পঞ্চমাংশ হতে বানী মুতালিবকে (স্বীয় আপনজন হিসেবে) মাল দিলেন, কিন্তু আমাদেরকে (বানী নাওফাল ও আব্দ শামস-কে) বঞ্চিত করলেন। অথচ আমরা ও তারা আপনার নিকট একই মান-মর্যাদার অধিকারী। উত্তরে তিনি (ﷺ) বলেন, অবশ্যই বানী হাশিম ও বানী মুতালিব এক ও অভিন্ন। বর্ণনাকারী (জুবায়র (রাঃ) বলেন, নবী (ﷺ) বানী আব্দ শামস্ ও বানী নাওফাল-কে তা হতে কিছু দেননি।

[১] সহীহ : বুখারী ৪২২৯।

অনুবাদের উৎস

প্রকাশক:
হাদিস একাডেমী
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৯৯৩-[৯]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে জুবায়র ইবনু মুতইম (রাঃ) বলেন, তিনি ও উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে গিয়ে প্রশ্ন করেন। তাঁরা বলেন, খায়বারের পঞ্চমাংশ থেকে বানী মুতালিবকে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বানী নাওফাল ও বানী আব্দ শামসকে দেওয়া হয়নি; অথচ সম্পর্কের দিক থেকে তাঁরা একই পর্যায়ের বলে মনে করেন। উত্তরে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, বানী হাশিম ও বানী মুতালিব এক ও অভিন্ন। বর্ণনাকারী জানান, নবী (صلى الله عليه وسلم) বানী আব্দ শামস ও বানী নাওফালকে তা থেকে কিছু দেননি। এই হাদিসে খুমুস বণ্টন, আত্মীয়তার বিশেষ বিবেচনা এবং নববী সিদ্ধান্তের বিষয় এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • খুমুস বণ্টন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হয়েছে।
  • বানী হাশিম ও বানী মুতালিবকে এক হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
  • প্রশ্ন করা সাহাবীদের আদবের অংশ ছিল।
  • সব আত্মীয়তার দাবি একইভাবে গ্রহণ করা হয়নি।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন