১৯/৭. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৯৮৫-[১] - গনীমাতের মাল হালাল হওয়ার শিক্ষা
গনীমাতের সম্পদ বণ্টন এবং তা আত্মসাৎ করা - প্রথম অনুচ্ছেদ
গনীমাত হলো ঐ সম্পদ যা মুশরিকদের সাথে যুদ্ধের মাধ্যমে (তাদের নিকট থেকে) অর্জিত হয়। এটা নফল থেকে ‘আম বা ব্যাপক, আর ফাই হলো গনীমাত থেকে ‘আম্। কেননা আহলে শির্ক থেকে মুসলিমদের হাতে অর্জিত সকল সম্পদই গনীমাত। আবূ বকর আর্ রাযী (রহঃ) বলেন, গনীমাত ফাই, জিয্ইয়াহ্ও ফাই, সন্ধি চুক্তিবদ্ধের সম্পদও ফাই, জমির খিরাজ বা খাজনাও ফাই; কেননা এর প্রত্যেকটি মুশরিকদের নিকট থেকে আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদের হাতে সমর্পণ করেছেন। ‘আল্লামা ত্বীবী উল্লেখ করেছেন, ফুকাহাগণের অনেকের মতে মুশরিকদের নিকট থেকে যে মালই গ্রহণ বৈধ সেটাই ‘ফাই’।‘আল্লামা ইবনুল হুমাম (রহঃ) বলেনঃ যুদ্ধের মাধ্যমে মুশরিকদের নিকট থেকে যা নেয়া হয় তাকে গনীমাত বলা হয়। আর যুদ্ধ ছাড়া যা অর্জিত হয় যেমন জিয্ইয়াহ্, খিরাজ ইত্যাদি তাকে ‘ফাই’ বলা হয়।
গনীমাতের মাল: আল্লাহর দেওয়া সহজতার শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৯৮৫-[১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৯৮৫-[১]
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «فَلَمْ تَحِلَّ الْغَنَائِمُ لِأَحَدٍ مِنْ قَبْلِنَا ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ رَأَى ضعفنا وعجزنا فطيها لنا»
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমাদের পূর্বে কারো জন্য গনীমাতের মাল (ভোগ করা) জায়িয ছিল না। আল্লাহ তা'আলা আমাদের দুর্বলতা ও অক্ষমতা দেখে তা আমাদের জন্য জায়িয করে দিয়েছেন।
[১] সহীহ : বুখারী ৩১২৪, মুসলিম ১৭৪৭, আহমাদ ৮২০০, সহীহাহ্ ২৭৪২।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৯৮৫-[১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, আমাদের পূর্বে কারো জন্য গনীমাতের মাল ভোগ করা বৈধ ছিল না। আল্লাহ তা’আলা মুসলিম উম্মতের দুর্বলতা ও অক্ষমতা দেখে তা তাদের জন্য বৈধ করেছেন। এখানে গনীমাতের মাল সম্পর্কে একটি মৌলিক শিক্ষা এসেছে। এটি নিজের ইচ্ছামতো নেওয়ার বিষয় নয়; বরং আল্লাহর অনুমতি ও নববী বিধানের অধীনে বৈধ হয়েছে। হাদিসটি মুসলিমদের জন্য আল্লাহর সহজতা ও দয়ার একটি দিক বুঝায়। একই সঙ্গে মনে করিয়ে দেয়, বৈধ হওয়া মানে সীমাহীন ব্যবহার নয়। গনীমাতের মাল বণ্টন, খুমুস, নাফল এবং খিয়ানত থেকে বাঁচার বিষয়গুলো অন্য বর্ণনাগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে বোঝা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গনীমাতের মাল মুসলিম উম্মতের জন্য আল্লাহর অনুমতিতে বৈধ হয়েছে।
- এই বৈধতা আল্লাহর দয়া ও সহজতার একটি দিক।
- গনীমাতের মাল নিজের ইচ্ছায় নয়, নির্ধারিত নিয়মে গ্রহণ করতে হয়।
- বৈধ সম্পদেও খিয়ানত থেকে বেঁচে থাকা জরুরি।
