২০/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪০৭৬-[১৩] - প্রাণ আছে এমন কিছুকে লক্ষ্য নয়
শিকার ও যবেহ প্রসঙ্গে - প্রথম অনুচ্ছেদ
হারামের বাইরে মুহরিম ছাড়া অন্যদের জন্য শিকার করা হালাল। আর ভক্ষণযোগ্য প্রাণী কেবল শিকারীর জন্য শিকার করা বৈধ। আল্লাহ সুবহানাহূ ওয়া তা‘আলা বলেন: (وَإِذَا حَلَلْتُمْ فَاصْطَادُوا) ’’...যখন তোমরা ইহরাম মুক্ত হবে তখন শিকার করতে পার...’’- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ২)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, (وَحُرِّمَ عَلَيْكُمْ صَيْدُ الْبَرِّ مَا دُمْتُمْ حُرُمًا) ’’...তোমরা যতক্ষণ ইহরামে থাকবে ততক্ষণ স্থলে শিকার তোমাদের জন্য হারাম...’’- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৯৬)।এখানে আমর বা নির্দেশসূচক শব্দ দ্বারা মুস্তাহাব উদ্দেশ্য, কেননা তা (শিকার করা একটি উপার্জন এবং এর দ্বারা সৃষ্টিকুলের উপকার হয়, অতএব তা) বৈধ। আসলে এখানে মূল বিষয় হলো আল্লাহ তা‘আলার কথা: (وَمَا عَلَّمْتُمْ مِنَ الْجَوَارِحِ مُكَلِّبِينَ تُعَلِّمُونَهُنَّ مِمَّا عَلَّمَكُمُ اللهُ) ’’...শিকারী পশু-পাখি যাদেরকে তোমরা শিকার শিখিয়েছ আল্লাহ তোমাদেরকে যা শিখিয়েছেন তা থেকে তোমরা তাদেরকে শিখিয়ে থাক...’’- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৪)। অর্থাৎ তোমরা যে সকল প্রাণীকে শিকার করার উপর প্রশিক্ষণ দিয়েছ যথাক্রমে কোন হিংস্র প্রাণী, পাখি, কুকুর, চিতাবাঘ, বাজ পাখিসহ অন্যান্য প্রাণী যদি শিকার করে তোমাদের জন্য বহন করে নিয়ে আসে তবে তা থেকে তোমরা খেতে পার। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
প্রাণ আছে এমন কিছুকে লক্ষ্য বানাবেন না
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪০৭৬-[১৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪০৭৬-[১৩]
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا تَتَّخِذُوا شَيْئًا فِيهِ الرُّوحُ غَرَضًا». رَوَاهُ مُسلم
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন : যে জিনিসের মধ্যে প্রাণ আছে, তোমরা তাকে লক্ষ্যবস্তু করো না।
[১] সহীহ : সহীহ মুসলিম ৫১৭১, সুনানুন্ নাসায়ী ৪৪৪৩, সুনান ইবনু মাজাহ ৩১৮৭, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৬০৮, মুসনাদে আহমাদ ২৫৩২, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৮৫১৭, সহীহুল জামি‘ ৭২১৮।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪০৭৬-[১৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم সরাসরি বলেছেন, যে জিনিসের মধ্যে প্রাণ আছে, তোমরা তাকে লক্ষ্যবস্তু করো না। কথা সংক্ষিপ্ত হলেও শিক্ষা খুব পরিষ্কার। জীবন্ত প্রাণীকে দাঁড় করিয়ে বা বেঁধে আঘাতের লক্ষ্য বানানো ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়। এটি প্রাণীদয়া, পশুর অধিকার এবং অযথা কষ্ট না দেওয়ার বড় শিক্ষা। কোনো প্রাণীকে খাবারের প্রয়োজন বা বৈধ কারণে যবেহ করার নিয়ম আলাদা, কিন্তু খেলাচ্ছলে বা অনুশীলনের নামে তাকে লক্ষ্য করা নিষেধ। হাদিসটি আমাদের শেখায়, শক্তি থাকলেই দুর্বল প্রাণীর ওপর তা ব্যবহার করা ঠিক নয়। দয়া ও সংযম মুমিনের আচরণে থাকা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রাণ আছে এমন কিছুকে লক্ষ্যবস্তু করা যাবে না।
- দুর্বল প্রাণীর ওপর শক্তি দেখানো নিন্দিত কাজ।
- অযথা কষ্ট দেওয়া থেকে দূরে থাকা উচিত।
- প্রাণীর সঙ্গেও দয়াময় আচরণ করতে হয়।
