২০/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪০৮০-[১৭] - পশু চিহ্নিতকরণ ও কানের দাগ
শিকার ও যবেহ প্রসঙ্গে - প্রথম অনুচ্ছেদ
হারামের বাইরে মুহরিম ছাড়া অন্যদের জন্য শিকার করা হালাল। আর ভক্ষণযোগ্য প্রাণী কেবল শিকারীর জন্য শিকার করা বৈধ। আল্লাহ সুবহানাহূ ওয়া তা‘আলা বলেন: (وَإِذَا حَلَلْتُمْ فَاصْطَادُوا) ’’...যখন তোমরা ইহরাম মুক্ত হবে তখন শিকার করতে পার...’’- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ২)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, (وَحُرِّمَ عَلَيْكُمْ صَيْدُ الْبَرِّ مَا دُمْتُمْ حُرُمًا) ’’...তোমরা যতক্ষণ ইহরামে থাকবে ততক্ষণ স্থলে শিকার তোমাদের জন্য হারাম...’’- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৯৬)।এখানে আমর বা নির্দেশসূচক শব্দ দ্বারা মুস্তাহাব উদ্দেশ্য, কেননা তা (শিকার করা একটি উপার্জন এবং এর দ্বারা সৃষ্টিকুলের উপকার হয়, অতএব তা) বৈধ। আসলে এখানে মূল বিষয় হলো আল্লাহ তা‘আলার কথা: (وَمَا عَلَّمْتُمْ مِنَ الْجَوَارِحِ مُكَلِّبِينَ تُعَلِّمُونَهُنَّ مِمَّا عَلَّمَكُمُ اللهُ) ’’...শিকারী পশু-পাখি যাদেরকে তোমরা শিকার শিখিয়েছ আল্লাহ তোমাদেরকে যা শিখিয়েছেন তা থেকে তোমরা তাদেরকে শিখিয়ে থাক...’’- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৪)। অর্থাৎ তোমরা যে সকল প্রাণীকে শিকার করার উপর প্রশিক্ষণ দিয়েছ যথাক্রমে কোন হিংস্র প্রাণী, পাখি, কুকুর, চিতাবাঘ, বাজ পাখিসহ অন্যান্য প্রাণী যদি শিকার করে তোমাদের জন্য বহন করে নিয়ে আসে তবে তা থেকে তোমরা খেতে পার। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পশু চিহ্নিত করতে কানের দাগের শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪০৮০-[১৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪০৮০-[১৭]
وَعَنْ هِشَامِ بْنِ زَيْدٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ فِي مِرْبَدٍ فَرَأَيْتُهُ يَسِمُ شَاءَ حسبته قَالَ: فِي آذانها
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (রাঃ) বলেন, আমি নবী (ﷺ)-এর নিকট গেলাম, তখন তিনি পশুর আস্তাবলে ছিলেন। আমি তাঁকে দেখলাম, তিনি ছাগল-বকরীগুলোকে দাগ দিচ্ছেন। (হিশাম বলেন,) আমার ধারণা, আনাস (রাঃ) বলেছেন : রাসূল (ﷺ) ঐ পশুগুলোর কানের মধ্যেই দাগ দিয়েছেন।
[১] সহীহ : সহীহুল বুখারী ৫৫৪২, সহীহ মুসলিম ৫৬৭৮, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৬২৯, মুসনাদে আহমাদ ১২৭২৫, মুসান্নাফ ‘আবদুর রায্যাক ৮৪৫২, মা‘রিফাতুস্ সুনান ওয়াল আসার লিল বায়হাক্বী ৪২৬২, আস্ সুনানুন কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭৩৮১।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪০৮০-[১৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস (রাঃ) বলেন, তিনি নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে গিয়ে দেখেন, তিনি পশুর আস্তাবলে আছেন এবং ছাগল-বকরীগুলোকে দাগ দিচ্ছেন। হিশাম বলেন, তাঁর ধারণা আনাস (রাঃ) বলেছেন, রাসূল صلى الله عليه وسلم ঐ পশুগুলোর কানের মধ্যেই দাগ দিয়েছেন। এই বর্ণনা পশু চিহ্নিত করার একটি ব্যবহারিক রূপ দেখায়। আগের হাদিসে মুখে দাগ দেওয়া নিষিদ্ধ হয়েছে, আর এখানে কানের মধ্যে দাগের কথা এসেছে। তাই পশু চিহ্নিতকরণ, সম্পদ পরিচর্যা এবং মুখমণ্ডলে কষ্ট না দেওয়ার ভারসাম্য বোঝা যায়। হাদিসটি পশুর সঙ্গে আচরণে নিয়ম, দরকার ও দয়ার সমন্বয় শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পশু চিহ্নিত করার বৈধ পদ্ধতি থাকতে পারে।
- মুখমণ্ডলে দাগ নিষেধ; তাই স্থান নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ।
- পশুর পরিচর্যা ও হিসাব রাখাও দায়িত্বের অংশ।
- প্রয়োজনের কাজেও প্রাণীর কষ্ট কমানো উচিত।
