২০/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪০৭৯-[১৬] - সদাকাহর উট চিহ্নিত করার নিয়ম
শিকার ও যবেহ প্রসঙ্গে - প্রথম অনুচ্ছেদ
হারামের বাইরে মুহরিম ছাড়া অন্যদের জন্য শিকার করা হালাল। আর ভক্ষণযোগ্য প্রাণী কেবল শিকারীর জন্য শিকার করা বৈধ। আল্লাহ সুবহানাহূ ওয়া তা‘আলা বলেন: (وَإِذَا حَلَلْتُمْ فَاصْطَادُوا) ’’...যখন তোমরা ইহরাম মুক্ত হবে তখন শিকার করতে পার...’’- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ২)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, (وَحُرِّمَ عَلَيْكُمْ صَيْدُ الْبَرِّ مَا دُمْتُمْ حُرُمًا) ’’...তোমরা যতক্ষণ ইহরামে থাকবে ততক্ষণ স্থলে শিকার তোমাদের জন্য হারাম...’’- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৯৬)।এখানে আমর বা নির্দেশসূচক শব্দ দ্বারা মুস্তাহাব উদ্দেশ্য, কেননা তা (শিকার করা একটি উপার্জন এবং এর দ্বারা সৃষ্টিকুলের উপকার হয়, অতএব তা) বৈধ। আসলে এখানে মূল বিষয় হলো আল্লাহ তা‘আলার কথা: (وَمَا عَلَّمْتُمْ مِنَ الْجَوَارِحِ مُكَلِّبِينَ تُعَلِّمُونَهُنَّ مِمَّا عَلَّمَكُمُ اللهُ) ’’...শিকারী পশু-পাখি যাদেরকে তোমরা শিকার শিখিয়েছ আল্লাহ তোমাদেরকে যা শিখিয়েছেন তা থেকে তোমরা তাদেরকে শিখিয়ে থাক...’’- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৪)। অর্থাৎ তোমরা যে সকল প্রাণীকে শিকার করার উপর প্রশিক্ষণ দিয়েছ যথাক্রমে কোন হিংস্র প্রাণী, পাখি, কুকুর, চিতাবাঘ, বাজ পাখিসহ অন্যান্য প্রাণী যদি শিকার করে তোমাদের জন্য বহন করে নিয়ে আসে তবে তা থেকে তোমরা খেতে পার। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
সদাকাহর উট চিহ্নিত করার নববী শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪০৭৯-[১৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪০৭৯-[১৬]
وَعَن أنس قَالَ: غَدَوْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ لِيُحَنِّكَهُ فَوَافَيْتُهُ فِي يَدِهِ الْمِيسَمُ يَسِمُ إِبِلَ الصَّدَقَة
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন ভোরে আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ ত্বলহাহ্-কে মিষ্টিমুখ করানোর জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমাতে নিয়ে এলাম। তখন আমি তাঁকে এমন অবস্থায় পেলাম যে, তাঁর হাতে ছিল একখানা দাগ লাগানোর যন্ত্র। তা দ্বারা তিনি সদাক্বাহ্-যাকাতের উটগুলো দাগাচ্ছেন।
[১] সহীহ : সহীহুল বুখারী ১৫০২, সহীহ মুসলিম ৫৬৮০, সহীহ ইবনু হিব্বান ৪৫৩৩, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৩৬৩৫, মা‘রিফাতুস্ সুনান ওয়াল আসার লিল বায়হাক্বী ৪২৬২, মুসনাদে আহমাদ ১৪০২৭।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪০৭৯-[১৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস (রাঃ) বলেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আবূ ত্বলহাহকে মিষ্টিমুখ করানোর জন্য নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে নিয়ে যান। তখন তিনি দেখেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর হাতে দাগ লাগানোর যন্ত্র আছে এবং তিনি সদাকাহ-যাকাতের উটগুলো দাগ দিয়ে চিহ্নিত করছেন। এখানে পশু চিহ্নিত করা, যাকাতের উট এবং সম্পদ আলাদা করে রাখার ব্যবহারিক দিক দেখা যায়। আগের হাদিসগুলোতে মুখে দাগ দেওয়ার নিষেধ এসেছে; এই হাদিসে শুধু চিহ্নিত করার কাজের কথা আছে। তাই বোঝা যায়, পশু চিহ্নিত করা নিজে নিষিদ্ধ নয়, তবে কষ্ট ও নিষিদ্ধ স্থান থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যাকাতের পশু আলাদা করে চিহ্নিত করা যেতে পারে।
- সম্পদ ব্যবস্থাপনায় পরিচয় ও হিসাব রাখা দরকার।
- পশু চিহ্নিত করার ক্ষেত্রেও দয়ার সীমা মানতে হবে।
- মুখে দাগ নিষেধ হলেও চিহ্নিত করার বৈধ পদ্ধতি থাকতে পারে।
