২০/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১১৪-[১১] - সমুদ্রের মৃত মাছ ও আল্লাহর রিযক
যেসব প্রাণী খাওয়া হালাল ও হারাম - প্রথম অনুচ্ছেদ
সমুদ্রের বিশাল মাছ: ক্ষুধার সময়ে আল্লাহর রিযক
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪১১৪-[১১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪১১৪-[১১]
وَعَن جابرٍ قَالَ: غَزَوْتُ جَيْشَ الْخَبْطِ وَأُمِّرَ عَلَيْنَا أَبُو عُبَيْدَةَ فَجُعْنَا جُوعًا شَدِيدًا فَأَلْقَى الْبَحْرُ حُوتًا مَيِّتًا لَمْ نَرَ مِثْلَهُ يُقَالُ لَهُ: الْعَنْبَرُ فَأَكَلْنَا مِنْهُ نِصْفَ شَهْرٍ فَأَخَذَ أَبُو عُبَيْدَةَ عَظْمًا مِنْ عِظَامِهِ فَمَرَّ الرَّاكِبُ تَحْتَهُ فَلَمَّا قَدِمْنَا ذَكَرْنَا ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «كُلُوا رِزْقًا أَخْرَجَهُ اللَّهُ إِلَيْكُمْ وَأَطْعِمُونَا إِنْ كَانَ مَعَكُمْ» قَالَ: فَأَرْسَلْنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْهُ فَأَكله
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি খাব্ত্ব বাহিনীর অভিযানে শরিক ছিলাম আবূ ‘উবায়দাহ্ (রাঃ)-কে বাহিনীর আমির নিযুক্ত করা হয়েছিল। (তথায়) আমরা এক সময় ভীষণ ক্ষুধায় পতিত হয়েছিলাম। তখন সমুদ্রের (তীরে) একটি মৃত মাছ উঠে এসেছিল। তার মতো এত বিশালাকার মাছ ইতঃপূর্বে আমরা দেখিনি। তাকে বলা হত, ‘আম্বার। আমরা অর্ধ মাস পর্যন্ত তা হতে খেলাম। পরে আবূ ‘উবায়দাহ্ তার হাড়সমূহ হতে একখানা হাড় নিয়ে খাড়া করলেন। আর তার নিচে দিয়ে একজন উটে আরোহিত হয়ে অনায়াসে অতিক্রম করল।অতঃপর মাদীনায় এসে আমরা নবী (ﷺ)-কে (বিষয়টি) বর্ণনা করলে তিনি বললেন : তোমরা খাও, আল্লাহ তা'আলা তোমাদের জন্য রিক্ত হিসেবে তা পাঠিয়েছেন। আর যদি তোমাদের কাছে তার অবশিষ্ট কিছু মওজুদ থাকে, আমাদেরকেও খেতে দাও। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমাতে তার কিছু অংশ পাঠিয়ে দিলাম। তিনি (ﷺ) তা খেলেন।
[১] সহীহ : বুখারী ৪৩৬১, ৪৩৬২, ৫৬৯৩, ৫৬৯৪; মুসলিম (১৯৩৫)-১৭, (১৯৩৫)-১৮; মুসনাদে আহমাদ ১৪৩১৫, নাসায়ী ৪৩৫৩, আবূ দাঊদ ৩৮৪০, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫২৬০, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৯৪৩১।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১১৪-[১১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জাবির (রাঃ) খাব্ত্ব বাহিনীর অভিযানের কথা বলেন। আবূ উবায়দাহ্ (রাঃ) ছিলেন বাহিনীর আমির। তারা ভীষণ ক্ষুধায় পড়েন। তখন সমুদ্রের তীরে একটি মৃত বিশাল মাছ উঠে আসে, যার নাম ছিল আম্বার। তারা অর্ধ মাস পর্যন্ত তা থেকে খান। পরে মদীনায় ফিরে নবী صلى الله عليه وسلم-কে ঘটনা জানালে তিনি বলেন, তোমরা খাও; আল্লাহ তোমাদের জন্য রিযক হিসেবে তা বের করেছেন। আর অবশিষ্ট থাকলে তাঁকেও দিতে বলেন। পরে নবী صلى الله عليه وسلم নিজেও তা খান। এই হাদিস সামুদ্রিক খাদ্য, বিপদের সময় রিযক এবং আল্লাহর দয়ার কথা মনে করায়। এখানে বিশেষভাবে সমুদ্র থেকে পাওয়া মৃত মাছের ঘটনা এসেছে, তাই সাধারণ মৃত প্রাণীর বিধানের সঙ্গে এক করে ফেলা ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভীষণ ক্ষুধার সময়ে আল্লাহ সমুদ্রের মাছকে রিযক হিসেবে দিয়েছেন।
- নবী صلى الله عليه وسلم সেই মাছ খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন এবং নিজেও খেয়েছেন।
- সামুদ্রিক খাদ্যের বিষয়ে এই ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক দেখায়।
- একটি বিশেষ ঘটনার বিধান বুঝতে হাদিসের কথাগুলো আলাদা করে দেখা দরকার।
