২০/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১২৪-[২১] - ঘির বিধানের আরেক বর্ণনা
যেসব প্রাণী খাওয়া হালাল ও হারাম - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
গনীমাত হলো ঐ সম্পদ যা মুশরিকদের সাথে যুদ্ধের মাধ্যমে (তাদের নিকট থেকে) অর্জিত হয় এটা নাল থেকে ‘আম বা ব্যাপক, আর ফাই হলো গনীমাত থেকে ‘আম্। কেননা আহলে শির্ক থেকে মুসলিমদের হাতে অর্জিত সকল সম্পদই গনীমাত। আবূ বাক্ আর্ রাযী (রহঃ) বলেন, গনীমাত ফাই জিয্ইয়াও ফাই, সন্ধি চুক্তিবদ্ধের সম্পদও ফাই, জমির খিরাজ বা খাজনাও ফাই; কেননা এর প্রত্যেকটি মুশরিকদের নিকট থেকে আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদের হাতে সমর্পণ করেছেন।‘আল্লামাহ্ ত্বীবী উল্লেখ করেছেন, ফুকাহাগণের অনেকের মতে মুশরিকদের নিকট থেকে যে মালই গ্রহণ বৈধ সেটাই ‘ফাই’। ‘আল্লামাহ্ ইবনুল হুমাম (রহঃ) বলেন : যুদ্ধের মাধ্যমে মুশরিকদের নিকট থেকে যা নেয়া হয় তাকে গনীমাত বলা হয়। আর যুদ্ধ ছাড়া যা অর্জিত হয় যেমন জিয্ইয়াহ্, খিরাজ ইত্যাদি তাকে ‘ফাই’ বলা হয়। ৩৯৮৫-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আমাদের পূর্বে কারো জন্য গনীমাতের মাল (ভোগ করা) জায়িয ছিল না। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের দুর্বলতা ও অক্ষমতা দেখে তা আমাদের জন্য জায়িয করে দিয়েছেন। (বুখারী, মুসলিম) ১২২৫
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে ঘির বিধানের বর্ণনা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪১২৪-[২১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪১২৪-[২১]
وَرَوَاهُ الدَّارمِيّ عَن ابْن عَبَّاس
আর দারিমী এ হাদীসটি ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১২৪-[২১]-এর সারসংক্ষেপ
এই সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় বলা হয়েছে, দারিমী একই হাদিসটি ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। এখানে নতুন কোনো আলাদা বিধান বলা হয়নি; বরং আগের ঘি ও ইঁদুর সম্পর্কিত হাদিসের আরেকটি সূত্র জানানো হয়েছে। তাই এই হাদিস বুঝতে হলে এর সঙ্গে যুক্ত মূল কথাটি মনে রাখতে হয়: ঘিয়ের মধ্যে ইঁদুর পড়লে জমাট ঘি হলে ইঁদুর ও তার আশেপাশের অংশ ফেলে দেওয়া, আর তরল হলে তা ব্যবহার না করা। খাদ্য পবিত্রতা বিষয়ে হাদিসের সূত্র জানা শিক্ষার্থীর জন্য দরকারি। এতে বোঝা যায়, একই বিষয় সাহাবিদের ভিন্ন বর্ণনাতেও আসতে পারে। তবে এখানে ব্যাখ্যা আগের বর্ণনার সীমার মধ্যেই রাখা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- এই বর্ণনা মূল হাদিসের আরেকটি সূত্র জানায়।
- খাদ্য পবিত্রতার বিধান বুঝতে মূল বর্ণনার সঙ্গে এই সূত্র মিলিয়ে দেখা যায়।
- সংক্ষিপ্ত বর্ণনা হলেও হাদিসের সূত্র জানা শিক্ষার অংশ।
