২০/২. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১২৫-[২২] - হুবারা গোশত খাওয়ার বর্ণনা

যেসব প্রাণী খাওয়া হালাল ও হারাম - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

গনীমাত হলো ঐ সম্পদ যা মুশরিকদের সাথে যুদ্ধের মাধ্যমে (তাদের নিকট থেকে) অর্জিত হয় এটা নাল থেকে ‘আম বা ব্যাপক, আর ফাই হলো গনীমাত থেকে ‘আম্। কেননা আহলে শির্ক থেকে মুসলিমদের হাতে অর্জিত সকল সম্পদই গনীমাত। আবূ বাক্ আর্ রাযী (রহঃ) বলেন, গনীমাত ফাই জিয্ইয়াও ফাই, সন্ধি চুক্তিবদ্ধের সম্পদও ফাই, জমির খিরাজ বা খাজনাও ফাই; কেননা এর প্রত্যেকটি মুশরিকদের নিকট থেকে আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদের হাতে সমর্পণ করেছেন।‘আল্লামাহ্ ত্বীবী উল্লেখ করেছেন, ফুকাহাগণের অনেকের মতে মুশরিকদের নিকট থেকে যে মালই গ্রহণ বৈধ সেটাই ‘ফাই’। ‘আল্লামাহ্ ইবনুল হুমাম (রহঃ) বলেন : যুদ্ধের মাধ্যমে মুশরিকদের নিকট থেকে যা নেয়া হয় তাকে গনীমাত বলা হয়। আর যুদ্ধ ছাড়া যা অর্জিত হয় যেমন জিয্ইয়াহ্, খিরাজ ইত্যাদি তাকে ‘ফাই’ বলা হয়। ৩৯৮৫-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আমাদের পূর্বে কারো জন্য গনীমাতের মাল (ভোগ করা) জায়িয ছিল না। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের দুর্বলতা ও অক্ষমতা দেখে তা আমাদের জন্য জায়িয করে দিয়েছেন। (বুখারী, মুসলিম) ১২২৫

হুবারা গোশত: নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে খাওয়ার বর্ণনা

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪১২৫-[২২]

وَعَنْ سَفِينَةَ قَالَ: أَكَلْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَحْمَ حُبَارَى. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

সাফীনাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে হুবারা-এর গোশত খেয়েছি।

[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৩৭৯৭, তিরমিযী ১৮২৮। হাদীসটি য‘ঈফ হওয়ার কারণ হলো এর সনদে ‘‘বুরায়হ ইবনু সাফিনাহ্ আল হাশিমী’’ নামক একজন বর্ণনাকারী আছেন। যিনি তার পিতার থেকে অনেক মুনকার হাদীস বর্ণনা করেছেন। দেখুন- মিজানুল ই‘তিদাল ৩/২০১ পৃঃ, হাঃ ৬৪২৬। শারহুস্ সুন্নাহ্ ২৮০৮, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৯৮৯০, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৬৩২১।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১২৫-[২২]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সাফীনা (রাঃ) নিজের দেখা একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলেছেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সাথে হুবারা-এর গোশত খেয়েছেন। হুবারা গোশত সম্পর্কে হাদিসটি সরাসরি খাওয়ার ঘটনা জানায়। এখানে দীর্ঘ কোনো আলোচনা নেই, কোনো শর্তও উল্লেখ নেই। তাই ব্যাখ্যায় অতিরিক্ত কথা যোগ না করে বলা যায়, সাহাবি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে এই গোশত খাওয়ার কথা বর্ণনা করেছেন। খাদ্য বিধান বিষয়ে এমন বর্ণনা অনেক সময় বাস্তব কাজের মাধ্যমে শিক্ষা দেয়। মানুষ কী খাবে বা কী খাবে না—এ ক্ষেত্রে হাদিসের ভাষা যতটুকু বলেছে, ততটুকুই ধরা নিরাপদ। এই বর্ণনায় হুবারা পাখির গোশত খাওয়ার ঘটনা স্পষ্টভাবে এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সাহাবি নিজের দেখা খাবারের ঘটনা বর্ণনা করেছেন।
  • হুবারা গোশত খাওয়ার কথা এই বর্ণনায় সরাসরি এসেছে।
  • খাদ্য বিষয়ে হাদিসের ভাষার বাইরে বাড়তি দাবি করা ঠিক নয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন