২০/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১২৬-[২৩] - জাল্লালার গোশত, দুধ ও সওয়ারি
যেসব প্রাণী খাওয়া হালাল ও হারাম - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
গনীমাত হলো ঐ সম্পদ যা মুশরিকদের সাথে যুদ্ধের মাধ্যমে (তাদের নিকট থেকে) অর্জিত হয় এটা নাল থেকে ‘আম বা ব্যাপক, আর ফাই হলো গনীমাত থেকে ‘আম্। কেননা আহলে শির্ক থেকে মুসলিমদের হাতে অর্জিত সকল সম্পদই গনীমাত। আবূ বাক্ আর্ রাযী (রহঃ) বলেন, গনীমাত ফাই জিয্ইয়াও ফাই, সন্ধি চুক্তিবদ্ধের সম্পদও ফাই, জমির খিরাজ বা খাজনাও ফাই; কেননা এর প্রত্যেকটি মুশরিকদের নিকট থেকে আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদের হাতে সমর্পণ করেছেন।‘আল্লামাহ্ ত্বীবী উল্লেখ করেছেন, ফুকাহাগণের অনেকের মতে মুশরিকদের নিকট থেকে যে মালই গ্রহণ বৈধ সেটাই ‘ফাই’। ‘আল্লামাহ্ ইবনুল হুমাম (রহঃ) বলেন : যুদ্ধের মাধ্যমে মুশরিকদের নিকট থেকে যা নেয়া হয় তাকে গনীমাত বলা হয়। আর যুদ্ধ ছাড়া যা অর্জিত হয় যেমন জিয্ইয়াহ্, খিরাজ ইত্যাদি তাকে ‘ফাই’ বলা হয়। ৩৯৮৫-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আমাদের পূর্বে কারো জন্য গনীমাতের মাল (ভোগ করা) জায়িয ছিল না। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের দুর্বলতা ও অক্ষমতা দেখে তা আমাদের জন্য জায়িয করে দিয়েছেন। (বুখারী, মুসলিম) ১২২৫
জাল্লালার গোশত ও দুধ: নিষেধের সরল শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪১২৬-[২৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪১২৬-[২৩]
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ أَكْلِ الْجَلَّالَةِ وَأَلْبَانِهَا. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَفِي رِوَايَةِ أَبِي دَاوُدَ: قَالَ: نُهِيَ عَنْ ركوبِ الْجَلالَة
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জাল্লালার গোশত খেতে এবং তার দুধ পান করতে নিষেধ করেছেন। আর আবূ দাঊদ-এর রিওয়ায়াতের মধ্যে আছে, তিনি (নবী (ﷺ)) জাল্লালায় সওয়ার হতেও নিষেধ করেছেন।
[১] সহীহ : তিরমিযী ১৮২৪, আবূ দাঊদ ৩৭৮৫, ২৫৫৭; ইবনু মাজাহ ৩৭৮৯, ইরওয়া ২৫০৩, সহীহুল জামি‘ ৬৮৫৫, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৯৯৫২, আস্ সুনানুস সুগরা ৪২৬১, মা‘রিফাতুস্ সুনান ওয়াল আসার লিল বায়হাক্বী ৫৯৩৭।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১২৬-[২৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জাল্লালা সম্পর্কে পরিষ্কার নিষেধ এসেছে। ইবনু উমার (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জাল্লালার গোশত খেতে এবং তার দুধ পান করতে নিষেধ করেছেন। আর আবূ দাঊদের বর্ণনায় আছে, জাল্লালায় সওয়ার হতেও নিষেধ করা হয়েছে। জাল্লালা বলতে বর্ণনায় যে প্রাণীর কথা এসেছে, তার গোশত, দুধ এবং সওয়ার—এই তিনটি দিকই এখানে আলোচনায় এসেছে। জাল্লালার গোশত বিষয়ে এই হাদিস খাদ্য গ্রহণে সতর্কতার শিক্ষা দেয়। শুধু স্বাদ বা সুবিধা দেখলেই হবে না; নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নিষেধ থাকলে তা থেকে দূরে থাকা দরকার। তবে বর্ণনার বাইরে বিস্তারিত কারণ বা শর্ত এখানে যোগ করা উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জাল্লালার গোশত খেতে নিষেধ এসেছে।
- জাল্লালার দুধ পান থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
- আবূ দাঊদের বর্ণনায় জাল্লালায় সওয়ার হওয়ার নিষেধও এসেছে।
