২০/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১২৯-[২৬] - খায়বারে নিষিদ্ধ গোশতের তালিকা
যেসব প্রাণী খাওয়া হালাল ও হারাম - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
গনীমাত হলো ঐ সম্পদ যা মুশরিকদের সাথে যুদ্ধের মাধ্যমে (তাদের নিকট থেকে) অর্জিত হয় এটা নাল থেকে ‘আম বা ব্যাপক, আর ফাই হলো গনীমাত থেকে ‘আম্। কেননা আহলে শির্ক থেকে মুসলিমদের হাতে অর্জিত সকল সম্পদই গনীমাত। আবূ বাক্ আর্ রাযী (রহঃ) বলেন, গনীমাত ফাই জিয্ইয়াও ফাই, সন্ধি চুক্তিবদ্ধের সম্পদও ফাই, জমির খিরাজ বা খাজনাও ফাই; কেননা এর প্রত্যেকটি মুশরিকদের নিকট থেকে আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদের হাতে সমর্পণ করেছেন।‘আল্লামাহ্ ত্বীবী উল্লেখ করেছেন, ফুকাহাগণের অনেকের মতে মুশরিকদের নিকট থেকে যে মালই গ্রহণ বৈধ সেটাই ‘ফাই’। ‘আল্লামাহ্ ইবনুল হুমাম (রহঃ) বলেন : যুদ্ধের মাধ্যমে মুশরিকদের নিকট থেকে যা নেয়া হয় তাকে গনীমাত বলা হয়। আর যুদ্ধ ছাড়া যা অর্জিত হয় যেমন জিয্ইয়াহ্, খিরাজ ইত্যাদি তাকে ‘ফাই’ বলা হয়। ৩৯৮৫-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আমাদের পূর্বে কারো জন্য গনীমাতের মাল (ভোগ করা) জায়িয ছিল না। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের দুর্বলতা ও অক্ষমতা দেখে তা আমাদের জন্য জায়িয করে দিয়েছেন। (বুখারী, মুসলিম) ১২২৫
হারাম গোশত: খায়বারের দিনের স্পষ্ট নিষেধ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪১২৯-[২৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪১২৯-[২৬]
وَعنهُ حَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْنِي يَوْمَ خَيْبَرَ الْحُمُرَ الْإِنْسِيَّةَ وَلُحُومَ الْبِغَالِ وَكُلَّ ذِي نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ وَكُلَّ ذِي مِخْلَبٍ مِنَ الطَّيْرِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيث غَرِيب
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বার যুদ্ধের দিন গৃহপালিত গাধা, খচ্চরের গোশত, প্রত্যেক (তীক্ষ্ণ) দাঁতওয়ালা হিংস্র জানোয়ার এবং পাঞ্জাবিশিষ্ট (শিকারি) পাখি খাওয়া হারাম করেছেন।
[১] সহীহ : তিরমিযী ১৪৭৮, মুসনাদে আহমাদ ১৪৪৬৩, মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ৩৬৮৯৩, নাসায়ী ৪৩৪৮, ইরওয়া ২৪৮৮, ইবনু মাজাহ ৩২৩৪, আবূ দাঊদ ৩৮০৫, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ১৬৭৩।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১২৯-[২৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে খায়বার যুদ্ধের দিনের একটি খাদ্য বিধান এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) গৃহপালিত গাধা, খচ্চরের গোশত, প্রত্যেক তীক্ষ্ণ দাঁতওয়ালা হিংস্র জানোয়ার এবং পাঞ্জাবিশিষ্ট শিকারি পাখি খাওয়া হারাম করেছেন। হারাম গোশত সম্পর্কে এই বর্ণনা তালিকার মতো করে কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করেছে। এখানে প্রাণীর ধরনও স্পষ্ট: গৃহপালিত গাধা, খচ্চর, দাঁতওয়ালা হিংস্র জানোয়ার এবং নখর বা পাঞ্জা দিয়ে শিকার করা পাখি। তিরমিজি এ হাদিসকে গরীব বলেছেন—এটিও বর্ণনার অংশ। ব্যাখ্যার সময় এই নির্দিষ্ট তালিকাকে সম্মান করতে হবে। খাবারের ব্যাপারে শুধু রুচি নয়, নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নিষেধ ও হালাল-হারামের সীমা মেনে চলা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খায়বারের দিনে কয়েক ধরনের গোশত হারাম বলা হয়েছে।
- দাঁতওয়ালা হিংস্র জানোয়ার ও পাঞ্জাবিশিষ্ট পাখির কথা স্পষ্ট এসেছে।
- খাদ্য বাছাইয়ে হালাল-হারামের সীমা মানতে হয়।
