২০/২. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১২৮-[২৫] - বিড়াল খাওয়া ও তার মূল্য

যেসব প্রাণী খাওয়া হালাল ও হারাম - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

গনীমাত হলো ঐ সম্পদ যা মুশরিকদের সাথে যুদ্ধের মাধ্যমে (তাদের নিকট থেকে) অর্জিত হয় এটা নাল থেকে ‘আম বা ব্যাপক, আর ফাই হলো গনীমাত থেকে ‘আম্। কেননা আহলে শির্ক থেকে মুসলিমদের হাতে অর্জিত সকল সম্পদই গনীমাত। আবূ বাক্ আর্ রাযী (রহঃ) বলেন, গনীমাত ফাই জিয্ইয়াও ফাই, সন্ধি চুক্তিবদ্ধের সম্পদও ফাই, জমির খিরাজ বা খাজনাও ফাই; কেননা এর প্রত্যেকটি মুশরিকদের নিকট থেকে আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদের হাতে সমর্পণ করেছেন।‘আল্লামাহ্ ত্বীবী উল্লেখ করেছেন, ফুকাহাগণের অনেকের মতে মুশরিকদের নিকট থেকে যে মালই গ্রহণ বৈধ সেটাই ‘ফাই’। ‘আল্লামাহ্ ইবনুল হুমাম (রহঃ) বলেন : যুদ্ধের মাধ্যমে মুশরিকদের নিকট থেকে যা নেয়া হয় তাকে গনীমাত বলা হয়। আর যুদ্ধ ছাড়া যা অর্জিত হয় যেমন জিয্ইয়াহ্, খিরাজ ইত্যাদি তাকে ‘ফাই’ বলা হয়। ৩৯৮৫-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আমাদের পূর্বে কারো জন্য গনীমাতের মাল (ভোগ করা) জায়িয ছিল না। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের দুর্বলতা ও অক্ষমতা দেখে তা আমাদের জন্য জায়িয করে দিয়েছেন। (বুখারী, মুসলিম) ১২২৫

বিড়াল খাওয়া ও মূল্য নেওয়া: হাদিসের নির্দেশনা

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪১২৮-[২৫]

وَعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ أَكْلِ الْهِرَّةِ وَأَكْلِ ثَمَنِهَا. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) বিড়াল খেতে এবং তার মূল্য ভোগ করতে নিষেধ করেছেন।

[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৩৮০৭, তিরমিযী ১২৮০, য‘ঈফ আল জামি‘উস্ সগীর ৬০৩৩। হাদীসটি য‘ঈফ হওয়ার কারণ হলো, এর সনদে ‘‘উমার ইবনু যায়দ’’ নামের বর্ণনাকারী য‘ঈফ। বিস্তারিত দেখুন- সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৬/৪৭০ পৃঃ, ২৯৭১ নং হাদীসের আলোচনা দ্রঃ, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৯৮৫৩, আল মু‘জামুল আওসাত্ব ৪৩৭৬, দারাকুত্বনী ৭৯।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১২৮-[২৫]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে জাবির (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে নবী (صلى الله عليه وسلم) বিড়াল খেতে এবং তার মূল্য ভোগ করতে নিষেধ করেছেন। বিড়াল সম্পর্কে হাদিসটি দুই দিক নির্দেশ করে: এক, বিড়াল খাওয়ার নিষেধ; দুই, তার দাম বা মূল্য ভোগ করার নিষেধ। তাই এটি শুধু খাদ্য বিষয়ে নয়, লেনদেনের দিকেও সতর্ক করে। বিড়াল খাওয়া নিষেধ—এই মূল কথাটি পরিষ্কার। একই সঙ্গে তার মূল্য নেওয়ার বিষয়েও বর্ণনায় নিষেধ এসেছে। ব্যাখ্যা করার সময় অন্য প্রাণী বা অন্য ধরনের বেচাকেনার বিধান এখানে জুড়ে দেওয়া ঠিক নয়। হাদিসটি যতটুকু বলেছে, ততটুকুই মেনে চলা নিরাপদ ও সুন্দর।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • বিড়াল খাওয়া থেকে নিষেধ এসেছে।
  • বিড়ালের মূল্য ভোগ করতেও নিষেধ করা হয়েছে।
  • খাদ্য ও লেনদেন—দুই ক্ষেত্রেই হাদিসের সীমা মানতে হয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন