২০/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১৩৪-[৩১] - টিড্ডি সম্পর্কে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর উত্তর
যেসব প্রাণী খাওয়া হালাল ও হারাম - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
গনীমাত হলো ঐ সম্পদ যা মুশরিকদের সাথে যুদ্ধের মাধ্যমে (তাদের নিকট থেকে) অর্জিত হয় এটা নাল থেকে ‘আম বা ব্যাপক, আর ফাই হলো গনীমাত থেকে ‘আম্। কেননা আহলে শির্ক থেকে মুসলিমদের হাতে অর্জিত সকল সম্পদই গনীমাত। আবূ বাক্ আর্ রাযী (রহঃ) বলেন, গনীমাত ফাই জিয্ইয়াও ফাই, সন্ধি চুক্তিবদ্ধের সম্পদও ফাই, জমির খিরাজ বা খাজনাও ফাই; কেননা এর প্রত্যেকটি মুশরিকদের নিকট থেকে আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদের হাতে সমর্পণ করেছেন।‘আল্লামাহ্ ত্বীবী উল্লেখ করেছেন, ফুকাহাগণের অনেকের মতে মুশরিকদের নিকট থেকে যে মালই গ্রহণ বৈধ সেটাই ‘ফাই’। ‘আল্লামাহ্ ইবনুল হুমাম (রহঃ) বলেন : যুদ্ধের মাধ্যমে মুশরিকদের নিকট থেকে যা নেয়া হয় তাকে গনীমাত বলা হয়। আর যুদ্ধ ছাড়া যা অর্জিত হয় যেমন জিয্ইয়াহ্, খিরাজ ইত্যাদি তাকে ‘ফাই’ বলা হয়। ৩৯৮৫-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আমাদের পূর্বে কারো জন্য গনীমাতের মাল (ভোগ করা) জায়িয ছিল না। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের দুর্বলতা ও অক্ষমতা দেখে তা আমাদের জন্য জায়িয করে দিয়েছেন। (বুখারী, মুসলিম) ১২২৫
টিড্ডি খাওয়া: না খাওয়া ও হারাম না বলার বর্ণনা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪১৩৪-[৩১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪১৩৪-[৩১]
وَعَن سلمَان قَالَ: سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْجَرَادِ فَقَالَ: «أَكْثَرُ جُنُودِ اللَّهِ لَا آكُلُهُ وَلَا أُحَرِّمُهُ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدُ وَقَالَ محيي السّنة: ضَعِيف
সালমান (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন নবী (ﷺ)-কে টিড্ডি (খাওয়া) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বললেন : আল্লাহর এমন বহু সৃষ্টজীব জাতি আছে, যা আমি খাইও না এবং হারামও বলি না।
[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৩৮১৩, ইবনু মাজাহ ৩২১৯, য‘ঈফাহ্ ১৫৩৩, য‘ঈফ আল জামি‘ ১০৯৭, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৬০২৬, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৯৪৬৬। হাদীসটি য‘ঈফ হওয়ার কারণ হলো এর সানাদটি মুরসাল। ‘‘সুলায়মান আত্ তামীমী’’ মুরসাল বর্ণনাকারী। বিস্তারিত দেখুন- সিলসিলাতুয্ য‘ঈফাহ্ ৪/৪২-৪৩ পৃঃ, হাঃ১৫৩৩।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১৩৪-[৩১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সালমান (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে টিড্ডি খাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি বলেন, আল্লাহর এমন বহু সৃষ্টজীব জাতি আছে; আমি তা খাইও না এবং হারামও বলি না। টিড্ডি খাওয়া বিষয়ে এই বর্ণনা একটি ভারসাম্যপূর্ণ কথা জানায়: না খাওয়া মানেই হারাম বলা নয়। কেউ কোনো খাবার না-ও খেতে পারেন, কিন্তু হাদিসের ভাষায় যদি হারাম বলা না হয়, তাহলে আলাদা করে হারাম দাবি করা উচিত নয়। তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ একটি নোট আছে—মুহয়িইউস্ সুন্নাহ্ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, বর্ণনাটি দুর্বল। তাই এই হাদিস ব্যবহার করলে দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে সতর্কভাবে বলা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কোনো খাবার না খাওয়া মানেই সেটিকে হারাম বলা নয়।
- টিড্ডি সম্পর্কে এই বর্ণনায় ‘খাই না, হারামও বলি না’ বলা হয়েছে।
- বর্ণনাটিকে দুর্বল বলা হয়েছে, তাই উদ্ধৃতিতে সতর্কতা দরকার।
