২০/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১৩৫-[৩২] - মোরগকে গালি না দেওয়ার শিক্ষা
যেসব প্রাণী খাওয়া হালাল ও হারাম - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
গনীমাত হলো ঐ সম্পদ যা মুশরিকদের সাথে যুদ্ধের মাধ্যমে (তাদের নিকট থেকে) অর্জিত হয় এটা নাল থেকে ‘আম বা ব্যাপক, আর ফাই হলো গনীমাত থেকে ‘আম্। কেননা আহলে শির্ক থেকে মুসলিমদের হাতে অর্জিত সকল সম্পদই গনীমাত। আবূ বাক্ আর্ রাযী (রহঃ) বলেন, গনীমাত ফাই জিয্ইয়াও ফাই, সন্ধি চুক্তিবদ্ধের সম্পদও ফাই, জমির খিরাজ বা খাজনাও ফাই; কেননা এর প্রত্যেকটি মুশরিকদের নিকট থেকে আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদের হাতে সমর্পণ করেছেন।‘আল্লামাহ্ ত্বীবী উল্লেখ করেছেন, ফুকাহাগণের অনেকের মতে মুশরিকদের নিকট থেকে যে মালই গ্রহণ বৈধ সেটাই ‘ফাই’। ‘আল্লামাহ্ ইবনুল হুমাম (রহঃ) বলেন : যুদ্ধের মাধ্যমে মুশরিকদের নিকট থেকে যা নেয়া হয় তাকে গনীমাত বলা হয়। আর যুদ্ধ ছাড়া যা অর্জিত হয় যেমন জিয্ইয়াহ্, খিরাজ ইত্যাদি তাকে ‘ফাই’ বলা হয়। ৩৯৮৫-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আমাদের পূর্বে কারো জন্য গনীমাতের মাল (ভোগ করা) জায়িয ছিল না। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের দুর্বলতা ও অক্ষমতা দেখে তা আমাদের জন্য জায়িয করে দিয়েছেন। (বুখারী, মুসলিম) ১২২৫
মোরগকে গালি নয়: সালাতের স্মরণ করায়
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪১৩৫-[৩২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪১৩৫-[৩২]
وَعَن زيدِ بن خالدٍ قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ سَبِّ الدِّيكِ وَقَالَ: «إِنَّهُ يُؤَذِّنُ للصَّلاةِ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
যায়দ ইবনু খালিদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মোরগকে গালি দিতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন, তা সালাতের জন্য আজান দেয়।
[১] সহীহ লিগয়রিহী : শারহুস্ সুন্নাহ্ ৩২৭০, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২৭৯৮, মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল ২১৭২৩, শু‘আবুল ঈমান ৫১৭৩, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৫০৬০।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১৩৫-[৩২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মোরগকে গালি দিতে নিষেধ করেছেন। তিনি কারণও বলেছেন—তা সালাতের জন্য আযান দেয়। মোরগকে গালি না দেওয়ার এই শিক্ষা শুধু একটি প্রাণীকে নিয়ে নয়; এখানে ভাষা, আচরণ এবং সালাতের স্মরণ—তিনটি দিক আছে। মোরগের ডাক মানুষকে নামাজের সময় বা জাগরণের কথা মনে করাতে পারে—বর্ণনায় সেটিকে সালাতের জন্য আযান বলা হয়েছে। তাই কোনো প্রাণীকে অহেতুক গালি দেওয়া ঠিক নয়, বিশেষ করে যখন তার কাজ মানুষের জন্য ভালো স্মরণ হতে পারে। হাদিসটি সহজ ভাষায় শেখায়, মুসলিমের মুখ যেন অকারণ গালিতে অভ্যস্ত না হয়। সালাতের সঙ্গে যুক্ত স্মরণকে সম্মান করা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মোরগকে গালি দিতে নিষেধ করা হয়েছে।
- বর্ণনায় মোরগের ডাককে সালাতের জন্য আযান বলা হয়েছে।
- ভাষা ব্যবহারে সংযম ও ভালো স্মরণকে সম্মান করা দরকার।
