২০/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১৩৬-[৩৩] - মোরগ সালাতের জন্য সজাগ করে
যেসব প্রাণী খাওয়া হালাল ও হারাম - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
গনীমাত হলো ঐ সম্পদ যা মুশরিকদের সাথে যুদ্ধের মাধ্যমে (তাদের নিকট থেকে) অর্জিত হয় এটা নাল থেকে ‘আম বা ব্যাপক, আর ফাই হলো গনীমাত থেকে ‘আম্। কেননা আহলে শির্ক থেকে মুসলিমদের হাতে অর্জিত সকল সম্পদই গনীমাত। আবূ বাক্ আর্ রাযী (রহঃ) বলেন, গনীমাত ফাই জিয্ইয়াও ফাই, সন্ধি চুক্তিবদ্ধের সম্পদও ফাই, জমির খিরাজ বা খাজনাও ফাই; কেননা এর প্রত্যেকটি মুশরিকদের নিকট থেকে আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদের হাতে সমর্পণ করেছেন।‘আল্লামাহ্ ত্বীবী উল্লেখ করেছেন, ফুকাহাগণের অনেকের মতে মুশরিকদের নিকট থেকে যে মালই গ্রহণ বৈধ সেটাই ‘ফাই’। ‘আল্লামাহ্ ইবনুল হুমাম (রহঃ) বলেন : যুদ্ধের মাধ্যমে মুশরিকদের নিকট থেকে যা নেয়া হয় তাকে গনীমাত বলা হয়। আর যুদ্ধ ছাড়া যা অর্জিত হয় যেমন জিয্ইয়াহ্, খিরাজ ইত্যাদি তাকে ‘ফাই’ বলা হয়। ৩৯৮৫-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আমাদের পূর্বে কারো জন্য গনীমাতের মাল (ভোগ করা) জায়িয ছিল না। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের দুর্বলতা ও অক্ষমতা দেখে তা আমাদের জন্য জায়িয করে দিয়েছেন। (বুখারী, মুসলিম) ১২২৫
মোরগকে গালি দিও না: সালাতের জন্য সজাগ করে
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪১৩৬-[৩৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪১৩৬-[৩৩]
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَسُبُّوا الدِّيكَ فَإِنَّهُ يُوقِظُ للصلاةِ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
যায়দ ইবনু খালিদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : তোমরা মোরগকে গালি দিয়ো না। কেননা তা সালাতের জন্য সজাগ (আহ্বান) করে।
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৫১০১, সহীহ আল জামি‘উস্ সগীর ৭৩১৪, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২৭৯৭, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৫০৬১, য‘ঈফাহ্ ৩৬১৮ নং হাদীসের আলোচনা দ্রঃ।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১৩৬-[৩৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, তোমরা মোরগকে গালি দিয়ো না। কারণ তা সালাতের জন্য সজাগ করে। আগের বর্ণনার মতো এখানেও মোরগের ডাককে নামাজের স্মরণ ও জাগরণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। মোরগ সালাতের জন্য সজাগ করে—এই বাক্য থেকে বোঝা যায়, যে জিনিস মানুষকে ভালো কাজের কথা মনে করায়, তাকে অবহেলা বা গালি দেওয়া ঠিক নয়। হাদিসটি খুব সহজ একটি দৈনন্দিন শিক্ষা দেয়। অনেক সময় মানুষ বিরক্ত হয়ে প্রাণী বা জিনিসকে গালি দেয়। কিন্তু মুসলিমের কথা পরিমিত হওয়া উচিত। এখানে মূল কথা হলো, মোরগকে গালি না দেওয়া এবং সালাতের স্মরণকে সম্মান করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মোরগকে গালি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
- মোরগের ডাককে সালাতের জন্য সজাগ করার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- ভালো কাজের স্মরণ করায় এমন বিষয়কে তুচ্ছ করা উচিত নয়।
