২০/২. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১৩৩-[৩০] - সমুদ্রের মাছ ও ভেসে ওঠা মাছ

যেসব প্রাণী খাওয়া হালাল ও হারাম - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

গনীমাত হলো ঐ সম্পদ যা মুশরিকদের সাথে যুদ্ধের মাধ্যমে (তাদের নিকট থেকে) অর্জিত হয় এটা নাল থেকে ‘আম বা ব্যাপক, আর ফাই হলো গনীমাত থেকে ‘আম্। কেননা আহলে শির্ক থেকে মুসলিমদের হাতে অর্জিত সকল সম্পদই গনীমাত। আবূ বাক্ আর্ রাযী (রহঃ) বলেন, গনীমাত ফাই জিয্ইয়াও ফাই, সন্ধি চুক্তিবদ্ধের সম্পদও ফাই, জমির খিরাজ বা খাজনাও ফাই; কেননা এর প্রত্যেকটি মুশরিকদের নিকট থেকে আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদের হাতে সমর্পণ করেছেন।‘আল্লামাহ্ ত্বীবী উল্লেখ করেছেন, ফুকাহাগণের অনেকের মতে মুশরিকদের নিকট থেকে যে মালই গ্রহণ বৈধ সেটাই ‘ফাই’। ‘আল্লামাহ্ ইবনুল হুমাম (রহঃ) বলেন : যুদ্ধের মাধ্যমে মুশরিকদের নিকট থেকে যা নেয়া হয় তাকে গনীমাত বলা হয়। আর যুদ্ধ ছাড়া যা অর্জিত হয় যেমন জিয্ইয়াহ্, খিরাজ ইত্যাদি তাকে ‘ফাই’ বলা হয়। ৩৯৮৫-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আমাদের পূর্বে কারো জন্য গনীমাতের মাল (ভোগ করা) জায়িয ছিল না। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের দুর্বলতা ও অক্ষমতা দেখে তা আমাদের জন্য জায়িয করে দিয়েছেন। (বুখারী, মুসলিম) ১২২৫

মরা মাছ: তীরে পাওয়া ও ভেসে ওঠা মাছের বিধান

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪১৩৩-[৩০]

وَعَن أبي الزُّبيرِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «مَا ألقاهُ البحرُ وجزر عَنْهُ الْمَاءُ فَكُلُوهُ وَمَا مَاتَ فِيهِ وَطَفَا فَلَا تَأْكُلُوهُ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ مُحْيِي السُّنَّةِ: الْأَكْثَرُونَ عَلَى أَنَّهُ مَوْقُوفٌ على جَابر

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : যে মাছ সমুদ্র তীরের দিকে ফেলে দেয় এবং তা হতে (ভাটার সময়) পানি সরে যায়, তা তোমরা খাবে। আর যে মাছ পানিতে মরে ভেসে উঠে তা খেও না। (আবূ দাউদ ও ইবনু মাজাহ) ইমাম মুহয়িইউস্ সুন্নাহ্ (রহঃ) বলেন : অধিকাংশের মতে এ হাদীসটি জাবির (রাঃ) হতে মাওকূফ হিসেবে বর্ণিত।

[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৩৮১৫, ইবনু মাজাহ ৩২৪৭, দারাকুত্বনী ৮, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৯৪৬২, ৯/২৫৫ পৃঃ। হাদীসটি য‘ঈফ হওয়ার কারণ হলো, এর সনদে একজন বর্ণনাকারী আছেন যার নাম ‘‘ইয়াহ্ইয়া ইবনু সুলায়ম আত্ব ত্বয়িফী’’। ইমাম বায়হাক্বী (রহঃ) বলেন, ইয়াহ্ইয়া ইবনু সুলায়ম আত্ব ত্বয়িফী প্রচুর ভুলকারী রাবী এবং তার স্মৃতিশক্তি খারাপ।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১৩৩-[৩০]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে মাছ খাওয়া নিয়ে দুই অবস্থার কথা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর নামে বর্ণিত হয়েছে, সমুদ্র যে মাছ তীরে ফেলে দেয় এবং পানি সরে যায়, তা খেতে বলা হয়েছে। আর যে মাছ পানিতে মরে ভেসে ওঠে, তা খেতে নিষেধ করা হয়েছে। মরা মাছ বিষয়ে এই বর্ণনা তাই দুই অবস্থাকে আলাদা করে: এক, সমুদ্রের তীরে ফেলে যাওয়া মাছ; দুই, পানির মধ্যে মরে ভেসে ওঠা মাছ। বর্ণনার শেষে ইমাম মুহয়িইউস্ সুন্নাহ্ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, অধিকাংশের মতে এটি জাবির (রাঃ) থেকে মাওকূফ হিসেবে বর্ণিত। তাই ব্যাখ্যায় এই নোটটি মনে রাখা দরকার। খাদ্য বিষয়ে সতর্কতা ও বর্ণনার মান জানা—দুটিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • তীরে ফেলে যাওয়া মাছ খাওয়ার কথা বর্ণনায় এসেছে।
  • পানিতে মরে ভেসে ওঠা মাছ খেতে নিষেধ বলা হয়েছে।
  • বর্ণনার শেষে মাওকূফ হওয়ার নোট উল্লেখ আছে, তাই সতর্কভাবে বুঝতে হয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন