২০/২. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১৩৮-[৩৫] - সাপ মারার নির্দেশ ও ভয়ের ভুল ধারণা

যেসব প্রাণী খাওয়া হালাল ও হারাম - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

গনীমাত হলো ঐ সম্পদ যা মুশরিকদের সাথে যুদ্ধের মাধ্যমে (তাদের নিকট থেকে) অর্জিত হয় এটা নাল থেকে ‘আম বা ব্যাপক, আর ফাই হলো গনীমাত থেকে ‘আম্। কেননা আহলে শির্ক থেকে মুসলিমদের হাতে অর্জিত সকল সম্পদই গনীমাত। আবূ বাক্ আর্ রাযী (রহঃ) বলেন, গনীমাত ফাই জিয্ইয়াও ফাই, সন্ধি চুক্তিবদ্ধের সম্পদও ফাই, জমির খিরাজ বা খাজনাও ফাই; কেননা এর প্রত্যেকটি মুশরিকদের নিকট থেকে আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদের হাতে সমর্পণ করেছেন।‘আল্লামাহ্ ত্বীবী উল্লেখ করেছেন, ফুকাহাগণের অনেকের মতে মুশরিকদের নিকট থেকে যে মালই গ্রহণ বৈধ সেটাই ‘ফাই’। ‘আল্লামাহ্ ইবনুল হুমাম (রহঃ) বলেন : যুদ্ধের মাধ্যমে মুশরিকদের নিকট থেকে যা নেয়া হয় তাকে গনীমাত বলা হয়। আর যুদ্ধ ছাড়া যা অর্জিত হয় যেমন জিয্ইয়াহ্, খিরাজ ইত্যাদি তাকে ‘ফাই’ বলা হয়। ৩৯৮৫-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আমাদের পূর্বে কারো জন্য গনীমাতের মাল (ভোগ করা) জায়িয ছিল না। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের দুর্বলতা ও অক্ষমতা দেখে তা আমাদের জন্য জায়িয করে দিয়েছেন। (বুখারী, মুসলিম) ১২২৫

সাপ হত্যা: প্রতিশোধের ভয়ে ছেড়ে দেওয়া নয়

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪১৩৮-[৩৫]

وَعَن عكرمةَ عَن ابنِ عبَّاسٍ قَالَ: لَا أَعْلَمُهُ إِلَّا رَفَعَ الْحَدِيثَ: أَنَّهُ كَانَ يَأْمُرُ بِقَتْلِ الْحَيَّاتِ وَقَالَ: «مَنْ تَرَكَهُنَّ خَشْيَةَ ثَائِرٍ فَلَيْسَ مِنَّا». رَوَاهُ فِي شَرْحِ السّنة

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমার দৃঢ় বিশ্বাস তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন : তিনি (রাসূল (ﷺ)) সাপ মেরে ফেলার জন্য নির্দেশ দিতেন। তিনি আরো বলেছেন : প্রতিশোধ গ্রহণের ভয়ে যে ব্যক্তি তাদেরকে ছেড়ে দেয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।

[১] সহীহ : শারহুস্ সুন্নাহ্ ৩২৬৫, মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল ৩২৫৪, মুসান্নাফ ‘আবদুর রায্যাক ১৯৬১৭, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১০২০১।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১৩৮-[৩৫]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাপ মেরে ফেলার জন্য নির্দেশ দিতেন। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি প্রতিশোধ গ্রহণের ভয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। সাপ মারার নির্দেশ এখানে ভয়ের ভুল ধারণা দূর করে। কেউ যদি মনে করে সাপকে মারলে তারা প্রতিশোধ নেবে, আর সেই ভয়ে ক্ষতিকর সাপকে ছেড়ে দেয়, তাহলে তা বর্ণনায় কঠোরভাবে নিন্দিত হয়েছে। হাদিসটি ভয়, কুসংস্কার এবং ক্ষতিকর প্রাণী থেকে বাঁচার বাস্তব ব্যবস্থা—এই তিনটি দিক দেখায়। তবে ঘরের সাপের ব্যাপারে অন্য বর্ণনায় সতর্ক করার ধাপ এসেছে; তাই বর্ণনাগুলোকে নিজ নিজ ভাষা অনুযায়ী বুঝতে হবে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সাপ মেরে ফেলার নির্দেশ বর্ণনায় এসেছে।
  • প্রতিশোধের ভয়ে সাপ ছেড়ে দেওয়া নিন্দিত হয়েছে।
  • ক্ষতিকর প্রাণী সম্পর্কে কুসংস্কার নয়, হাদিসের নির্দেশনা মানতে হয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন