২০/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১৩৯-[৩৬] - সাপের ভয়ে ছেড়ে না দেওয়ার শিক্ষা
যেসব প্রাণী খাওয়া হালাল ও হারাম - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
গনীমাত হলো ঐ সম্পদ যা মুশরিকদের সাথে যুদ্ধের মাধ্যমে (তাদের নিকট থেকে) অর্জিত হয় এটা নাল থেকে ‘আম বা ব্যাপক, আর ফাই হলো গনীমাত থেকে ‘আম্। কেননা আহলে শির্ক থেকে মুসলিমদের হাতে অর্জিত সকল সম্পদই গনীমাত। আবূ বাক্ আর্ রাযী (রহঃ) বলেন, গনীমাত ফাই জিয্ইয়াও ফাই, সন্ধি চুক্তিবদ্ধের সম্পদও ফাই, জমির খিরাজ বা খাজনাও ফাই; কেননা এর প্রত্যেকটি মুশরিকদের নিকট থেকে আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদের হাতে সমর্পণ করেছেন।‘আল্লামাহ্ ত্বীবী উল্লেখ করেছেন, ফুকাহাগণের অনেকের মতে মুশরিকদের নিকট থেকে যে মালই গ্রহণ বৈধ সেটাই ‘ফাই’। ‘আল্লামাহ্ ইবনুল হুমাম (রহঃ) বলেন : যুদ্ধের মাধ্যমে মুশরিকদের নিকট থেকে যা নেয়া হয় তাকে গনীমাত বলা হয়। আর যুদ্ধ ছাড়া যা অর্জিত হয় যেমন জিয্ইয়াহ্, খিরাজ ইত্যাদি তাকে ‘ফাই’ বলা হয়। ৩৯৮৫-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আমাদের পূর্বে কারো জন্য গনীমাতের মাল (ভোগ করা) জায়িয ছিল না। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের দুর্বলতা ও অক্ষমতা দেখে তা আমাদের জন্য জায়িয করে দিয়েছেন। (বুখারী, মুসলিম) ১২২৫
সাপের সঙ্গে আপোষ নয়: ভয়ের বদলে নির্দেশ মানা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪১৩৯-[৩৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪১৩৯-[৩৬]
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا سَالَمْنَاهُمْ مُنْذُ حَارَبْنَاهُمْ وَمَنْ تَرَكَ شَيْئًا مِنْهُمْ خِيفَةً فَلَيْسَ منَّا». رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : যখন হতে আমরা তাদের (সাপের) সঙ্গে লড়াই করা আরম্ভ করেছি, তখন হতে আমরা আর কখনও তাদের সাথে আপোষ করিনি। তখন যে ব্যক্তি ভয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয়, সে আমাদের দলের অন্তর্ভুক্ত নয়।
[১] হাসান সহীহ : আবূ দাঊদ ৫২৪৮, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৬৪৪, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২৯৮৩, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১০৮৭, আল মু‘জামুল আওসাত্ব ৬২২৩।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১৩৯-[৩৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন: যখন থেকে আমরা তাদের, অর্থাৎ সাপের সঙ্গে লড়াই করা শুরু করেছি, তখন থেকে আমরা আর কখনও তাদের সঙ্গে আপোষ করিনি। যে ব্যক্তি ভয়ে তাদের কাউকে ছেড়ে দেয়, সে আমাদের দলের অন্তর্ভুক্ত নয়। সাপের সঙ্গে আপোষ নয়—এই বাক্যটি ক্ষতিকর সাপের বিষয়ে দৃঢ়তার শিক্ষা দেয়। বর্ণনায় ভয়ের কারণে ছেড়ে দেওয়ার কথা নিন্দিত হয়েছে। এখানে মূল সমস্যা সাপের প্রতিশোধের ভয় বা এমন অমূলক ভীতি। হাদিসটি শেখায়, ক্ষতিকর বিষয় সামনে এলে কেবল ভয়ে পিছু হটা ঠিক নয়; বরং নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাপের ব্যাপারে আপোষ না করার কথা বর্ণনায় এসেছে।
- ভয়ের কারণে সাপ ছেড়ে দেওয়া নিন্দিত হয়েছে।
- ক্ষতিকর প্রাণীর ক্ষেত্রে অমূলক ভীতির বদলে নির্দেশনা মানা দরকার।
