২১/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪২০১-[৪৩] - বিসমিল্লাহ ছাড়া খাবারে শয়তানের অংশ
খাদ্য - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
(আরবি) দ্বারা উদ্দেশ্য (আরবি) অর্থাৎ পরস্পর দু’দলের মধ্যে সন্ধি স্থাপন। ইবনুল হুমাম বলেন : ইমাম যদি মনে করেন যে, শত্রুপক্ষের মালের বিনিময়ে অথবা মাল ব্যতিরেকেই সন্ধি করার মধ্যে কল্যাণ নিহিত আছে তাহলে তিনি সন্ধি করতে পারেন। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন : “তারা যদি শান্তির (সন্ধির) দিকে ঝুঁকে পড়ে তাহলে তুমি সেদিকে ঝুঁকে পড়ো।” (সূরাহ্ আল আনফাল ৮ : ৬১) যদিও আয়াতে কল্যাণের কথা উল্লেখ নেই তথাপি ফাকীহগণ একমত যে, মুসলিমদের কল্যাণ আছে বলে ইমামের নিকট সাব্যস্ত হলে তবেই শুধুমাত্র সন্ধি করা বৈধ। আর যদি সন্ধির মধ্যে কোনো কল্যাণ পরিলক্ষিত না হয় তাহলে সন্ধি করা বৈধ নয়।
খাবারে বিসমিল্লাহ ও বারাকাতের শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪২০১-[৪৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪২০১-[৪৩]
عَن أبي أَيُّوب قَالَ: كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُرِّبَ طَعَامٌ فَلَمْ أَرَ طَعَامًا كَانَ أَعْظَمَ بَرَكَةً مِنْهُ أَوَّلَ مَا أَكَلْنَا وَلَا أَقَلَّ بَرَكَةً فِي آخِرِهِ قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ هَذَا؟ قَالَ: «إِنَّا ذَكَرْنَا اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ حِينَ أَكَلْنَا ثُمَّ قَعَدَ مَنْ أَكَلَ وَلَمْ يُسَمِّ اللَّهَ فَأَكَلَ مَعَهُ الشَّيْطَانُ». رَوَاهُ فِي شرح السّنة
আবূ আইয়ূব আল আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন আমরা নবী (ﷺ) এর কাছে ছিলাম, এমন সময় খাবার আনা হলো। আমি অদ্যাবধি ওর চেয়ে বেশি বারাকাতময় খাবার কখনো দেখিনি, প্রথমভাগে যা আমরা খেয়েছিলাম। আর না অতি অল্প বারাকাত যা তার শেষ ভাগে ছিল। আমরা জিজ্ঞেস করলাম : হে আল্লাহর রাসূল! এমনটি হলো কেন? তিনি বললেন : আমরা যখন খাচ্ছিলাম, তখন আল্লাহর নাম নিয়ে আরম্ভ করেছিলাম। অতঃপর এক লোক (আমাদের সাথে) খেতে বসেছে, সে আল্লাহর নাম নেয়নি, ফলে তার সাথে শয়তানও খাবার খেয়েছে।
[১] য‘ঈফ : শারহুস্ সুন্নাহ্ ২৮২৪। এ হাদীসটি য‘ঈফ হওয়ার কারণ হলো এর সনদে ‘‘আবূ মুহাম্মাদ ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুস্ সমাদ আল জাওযাজানী’’ নামক একজন বর্ণনাকারী আছেন, যিনি মাজহূলুল হাল। এছাড়াও ইবনু লাহী‘আহ্ নামক বর্ণনাকারী য‘ঈফ। এছাড়াও হাদীস আছে, মুসনাদে আহমাদে ২৩৫২২।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪২০১-[৪৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে খাবারের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলার গুরুত্ব খুব সহজভাবে বোঝানো হয়েছে। সাহাবীরা দেখলেন, খাবারের প্রথম দিকে বারাকাত ছিল বেশি, কিন্তু শেষ দিকে তা কমে গেল। তারা কারণ জানতে চাইলে নবী صلى الله عليه وسلم বললেন, শুরুতে যারা খাচ্ছিলেন তারা আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করেছিলেন। পরে একজন এসে খেতে বসে আল্লাহর নাম নেয়নি; ফলে তার সঙ্গে শয়তানও খাবার খেয়েছে। তাই এই বর্ণনার মূল বার্তা হলো, খাবারের আদব শুধু সামাজিক শিষ্টাচার নয়; এটি আল্লাহর স্মরণ, বারাকাত এবং শয়তানের অংশ নেওয়া থেকে বাঁচার বিষয়। “খাবার শুরুতে বিসমিল্লাহ” এবং “খাবারের বারাকাত” এই হাদিসের প্রধান শিক্ষা। ঘরের খাবার, দস্তরখান ও সাধারণ পানাহারের সময়ও আল্লাহর নাম নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ নববী আদব।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খাবার শুরু করার আগে আল্লাহর নাম নেওয়া নববী আদব।
- বিসমিল্লাহ না বললে খাবারের বারাকাত কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
- খাবারের সময় আল্লাহর স্মরণ শয়তানের অংশ নেওয়া থেকে বাঁচার কারণ।
- খাবারের ছোট আদবও ঈমানি জীবনের অংশ।
