২১/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪২২৪-[৬৬] - আজওয়াহ খেজুর ও চিকিৎসার নির্দেশ
খাদ্য - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
(আরবি) দ্বারা উদ্দেশ্য (আরবি) অর্থাৎ পরস্পর দু’দলের মধ্যে সন্ধি স্থাপন। ইবনুল হুমাম বলেন : ইমাম যদি মনে করেন যে, শত্রুপক্ষের মালের বিনিময়ে অথবা মাল ব্যতিরেকেই সন্ধি করার মধ্যে কল্যাণ নিহিত আছে তাহলে তিনি সন্ধি করতে পারেন। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন : “তারা যদি শান্তির (সন্ধির) দিকে ঝুঁকে পড়ে তাহলে তুমি সেদিকে ঝুঁকে পড়ো।” (সূরাহ্ আল আনফাল ৮ : ৬১) যদিও আয়াতে কল্যাণের কথা উল্লেখ নেই তথাপি ফাকীহগণ একমত যে, মুসলিমদের কল্যাণ আছে বলে ইমামের নিকট সাব্যস্ত হলে তবেই শুধুমাত্র সন্ধি করা বৈধ। আর যদি সন্ধির মধ্যে কোনো কল্যাণ পরিলক্ষিত না হয় তাহলে সন্ধি করা বৈধ নয়।
আজওয়াহ খেজুর ও চিকিৎসা নেওয়ার নববী শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪২২৪-[৬৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪২২৪-[৬৬]
وَعَن سعدٍ قَالَ: مَرِضْتُ مَرَضًا أَتَانِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُنِي فَوَضَعَ يَدَهُ بَيْنَ ثَدْيِيَّ حَتَّى وَجَدْتُ بَرْدَهَا عَلَى فُؤَادِي وَقَالَ: «إِنَّكَ رجلٌ مفْؤودٌ ائْتِ الْحَارِثَ بْنَ كَلَدَةَ أَخَا ثَقِيفٍ فَإِنَّهُ رجل يتطبب فليأخذ سبع تمرات منم عَجْوَةِ الْمَدِينَةِ فَلْيَجَأْهُنَّ بِنَوَاهُنَّ ثُمَّ لِيَلُدَّكَ بِهِنَّ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক সময় আমি মারাত্মকভাবে পীড়িত হয়ে পড়লাম। নবী (ﷺ) আমার খোঁজ-খবর নিতে তাশরিফ আনলেন। তিনি (ﷺ) নিজের হাতখানা আমার দু' স্তনের মাঝখানে (বুকের উপর) রাখলেন। তাতে আমি আমার কলিজায় শীতলতা অনুভব করলাম। অতঃপর তিনি (ﷺ) বললেন : তুমি একজন হৃদ-বেদনার রোগী। সুতরাং তুমি সাক্বীফ গোত্রীয় হারিস ইবনু কালদাহ্- এর নিকট যাও। সে একজন চিকিৎসক। পরে তিনি (ﷺ) বললেন : সে যেন অবশ্যই মাদীনার সাতটি ‘আজওয়াহ্ খেজুর বীচিসহ পিষে তোমার মুখের মধ্যে ঢেলে দেয়।
[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৩৮৭৫, য‘ঈফুল জামি‘উস্ সগীর ২০৩৩, আল মু‘জামুল কাবীর লিতু ত্ববারানী ৫৩৪৬, য‘ঈফুল জামি‘ ২০৩৩। হাদীসটি য‘ঈফ হওয়ার কারণ হলো মুজাহিদ সা‘দ হতে বর্ণনা করাটা মুরসাল। আবূ যুর্‘আহ্ আর্ রাযী এমনটিই বলেছেন। বিস্তারিত দেখুন- ‘আওনুল মা‘বূদ ১০/২৫৫ পৃঃ, হাঃ ৩৮৭৫।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪২২৪-[৬৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সা‘দ (রাঃ)-এর অসুস্থতার কথা এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে দেখতে যান, বুকের ওপর হাত রাখেন, আর তিনি শীতলতা অনুভব করেন। এরপর নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তুমি হৃদ-বেদনার রোগী; সাক্বীফ গোত্রের হারিস ইবনু কালদাহর কাছে যাও, কারণ সে চিকিৎসা করে। তারপর তিনি মাদীনার সাতটি আজওয়াহ খেজুর বীচিসহ পিষে মুখে দেওয়ার কথা বলেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো অসুস্থ হলে খোঁজ নেওয়া, রোগ বুঝে চিকিৎসা গ্রহণ করা এবং উপকারী খাবার ব্যবহার করা। আজওয়াহ খেজুরের কথা হাদিসে এসেছে, তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনা নির্দিষ্ট রোগীর জন্য বলা হয়েছে। তাই এ হাদিস থেকে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া এবং আল্লাহর নিয়ামতকে চিকিৎসার অংশ হিসেবে গ্রহণ করার ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অসুস্থ মানুষের খোঁজ নেওয়া নববী চরিত্রের অংশ।
- রোগ হলে উপযুক্ত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া গ্রহণযোগ্য।
- আজওয়াহ খেজুরের বিশেষ মর্যাদা হাদিসে উল্লেখ আছে।
- চিকিৎসা ও দোয়া—দুটিই মুমিনের জীবনে গুরুত্ব রাখে।
