২১/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪২৮৫-[২৩] - সোনা-রূপার পাত্রে পান করার সতর্কতা
পানীয় দ্রব্যের বর্ণনা - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
সোনা-রূপার পাত্রে পান: কঠিন সতর্কতার হাদিস
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪২৮৫-[২৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪২৮৫-[২৩]
عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ شَرِبَ فِي إِنَاءِ ذَهَبٍ أَوْ فِضَّةٍ أَوْ إِنَاءٍ فِيهِ شَيْءٌ مِنْ ذَلِكَ فَإِنَّمَا يُجَرْجِرُ فِي بَطْنِهِ نَارَ جهنمَ». رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيّ
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন : যে ব্যক্তি সোনা-রূপার পাত্রে অথবা এমন পাত্রে পান করল যাতে সোনা-রূপার কিছু অংশ মিশ্রিত আছে, সে যেন নিজের পেটে জাহান্নামের আগুনের ঢোক গিলল।
[১] য‘ঈফ : দারাকুত্বনী ১/১১, শু‘আবুল ঈমান ৬৩৮২, মা‘রিফাতুস্ সুনান ওয়াল আসার লিল বায়হাক্বী ১৩৮, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১০৭, আস্ সুনানুস্ সুগরা ২০০। হাদীসটি য‘ঈফ হওয়ার কারণ ‘‘ইয়াহ্ইয়া’’। ‘‘ইয়াহ্ইয়া ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু মিহরান আল জারী’’ নামক রাবী য‘ঈফ, দেখুন- তাহযীবুল কামাল, রাবী নং ৬৯১৩। আরেকজন রাবী ‘‘যাকারিয়্যা ইবনু ইবরাহীম ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু মুতি’’, তিনি তাঁর পিতার নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাঁর পিতার পরিচয় জানা যায় না (مجهول الحال)। আল জারহু ওয়াত্ তা‘দীল।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪২৮৫-[২৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যে ব্যক্তি সোনা-রূপার পাত্রে অথবা এমন পাত্রে পান করে যাতে সোনা-রূপার কিছু অংশ আছে, সে যেন নিজের পেটে জাহান্নামের আগুনের ঢোক গিলল। বক্তব্যটি খুব কঠিন সতর্কতা হিসেবে এসেছে। হাদিসের মূল বিষয় হলো পাত্রের বিধান এবং পানীয়ের আদব। এখানে সোনা-রূপার পাত্রকে শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের বিষয় হিসেবে দেখা হয়নি; বরং এমন ব্যবহারে গর্ব, অপচয় ও দুনিয়াবি আড়ম্বরের ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই একজন মুমিন পানীয় গ্রহণে হালাল-হারাম, নম্রতা এবং সরলতার দিকে খেয়াল রাখে। হাদিসটি আমাদের মনে করায়, খাবার-পানীয়ের পাত্রও দ্বীনের শিক্ষার বাইরে নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সোনা-রূপার পাত্রে পান করার বিষয়ে কঠিন সতর্কতা এসেছে।
- খাবার-পানীয়ের পাত্র বাছাইয়েও দ্বীনের নির্দেশনা মানা দরকার।
- বিলাসিতা ও অহংকারের দিকে নিয়ে যায় এমন ব্যবহার থেকে দূরে থাকা নিরাপদ।
