২২/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৩০৫-[২] - রোমীয় জুব্বা পরিধানের বর্ণনা
পোশাক-অধ্যায় - প্রথম অনুচ্ছেদ
"اللباس(আল লিবা-স) শব্দটিباب سمع(বা-বি সামি‘আ)-এর মাসদার। এটি পেশের সাথেও ব্যবহার করা হয়। যার অর্থ পোশাক। আরباب ضرب(বা-বি যরাবা) থেকেلبسا(লাবসান) লামের উপর যবর যোগে আসে। যার অর্থ সংমিশ্রণ করা। মহান আল্লাহ বলেনঃوَلَا تَلْبِسُوا الْحَقَّ بِالْبَاطِلِ وَتَكْتُمُوا الْحَقَّ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ’‘আর তোমরা হককে বাতিলের সাথে মিশ্রিত করো না এবং জেনে-বুঝে হককে গোপন করো না’’- (সূরাহ্ আল বাকারাহ্ ০২ : ৪২)।বিভিন্ন কারণে ইসলামে কতিপয় পোশাক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেগুলো হল- ১. পুরুষের জন্য রেশমের পোশাক ও স্বর্ণমিশ্রিত পোশাক।২. পুরুষের জন্য মহিলাদের পোশাক।৩. মহিলাদের জন্য পুরুষের পোশাক।৪. খ্যাতি ও বড়াই প্রকাশক পোশাক।৫. ভিন্ন ধর্মীয় পোশাক।৬. আঁটসাঁট পোশাক ইত্যাদি। [সম্পাদক]"
নবীজির রোমীয় জুব্বা পরিধানের হাদিস
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৩০৫-[২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৩০৫-[২]
وَعَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَبِسَ جُبَّةً رُومِيَّةً ضَيِّقَةَ الْكُمَّيْنِ
মুগীরাহ্ ইবনু শু'বাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) রোম দেশীয় আঁটসাট আস্তিনবিশিষ্ট জুব্বা পরিধান করেছেন।
[১] সহীহ : বুখারী ৫৭৯৮ নং হাদীসের অধ্যায়, মুসলিম (২৭৪)-৭৭, নাসায়ী ১২৫, তিরমিযী ১৭৬৮, আবূ দাঊদ ১৫১, মা‘রিফাতুস্ সুনান ওয়াল আসার লিল বায়হাক্বী ১৩৬০, মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ১৮৭৭, মুসনাদে আহমাদ ১৮২৩৯, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৪৩৫৭।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৩০৫-[২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে নবী (صلى الله عليه وسلم) রোম দেশীয় আঁটসাট আস্তিনবিশিষ্ট জুব্বা পরিধান করেছেন। বর্ণনাটি পোশাকের একটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথা জানায়। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, পোশাকের ধরন বা এলাকার নাম নিজে নিজে নিন্দনীয় নয়, যদি তা বৈধ, শালীন এবং ব্যবহারযোগ্য হয়। এখানে “রোমীয় জুব্বা” শব্দটি পোশাকের পরিচয় হিসেবে এসেছে। হাদিসটি পোশাকের আদব নিয়ে ভাবতে সাহায্য করে, তবে এর বাইরে অতিরিক্ত দাবি করা ঠিক হবে না। মূল শিক্ষা হলো নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর ব্যবহারিক জীবনে পোশাক ছিল বাস্তব প্রয়োজনের সাথে যুক্ত, শুধু বাহ্যিক চাকচিক্যের জন্য নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী (صلى الله عليه وسلم) জুব্বা পরিধান করেছেন—এটি তাঁর পোশাকের একটি বর্ণনা।
- পোশাক বৈধ ও শালীন হলে তার ব্যবহারিক দিক গুরুত্ব পায়।
- কোনো এলাকার পোশাকের নাম শুনেই অযথা সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
- হাদিসের টেক্সট অনুযায়ী সীমিত ব্যাখ্যা করা দরকার।
