৩/৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৪২-[১৩] - সহবাসে ফরজ গোসলের বিধান
গোসলের বিবরণ - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
সহবাসে গোসল ফরজ হওয়ার স্পষ্ট বিধান
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৪২-[১৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৪২-[১৩]
وَعَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُوْل اللهِ ﷺ إِذَا جَاوَزَ الْخِتَانُ الْخِتَانَ فَقَدْ وَجَبَ الْغُسْلُ فَعَلْتُه أَنَا وَرَسُولُ اللهِ ﷺ فَاغْتَسَلْنَا. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وابن مَاجَةَ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পুরুষের খাতনার জায়গা মহিলার খাতনার জায়গা অতিক্রম করলেই গোসল করা ফরজ হয়ে যাবে। তিনি [‘আয়িশাহ্ (রাঃ)] বলেন, আমি ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা করেছি, তারপর দুইজনেই গোসল করেছি। [১]
[১] সহীহ : তিরমিযী ১০৮, ইবনু মাজাহ্ ৬০৮।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৪২-[১৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ফরজ গোসলের আরেকটি মূল বিষয় বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, পুরুষের খাতনার স্থান নারীর খাতনার স্থান অতিক্রম করলেই গোসল ফরজ হয়ে যায়। এখানে কথাটি দাম্পত্য সম্পর্কের একটি নির্দিষ্ট অবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে। হাদিসে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) নিজের অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ও রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এমনটি করেছেন, তারপর দুজনেই গোসল করেছেন। তাই এই বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, শুধু বীর্যপাতের বিষয় নয়; দাম্পত্য মিলনের এই অবস্থাও ফরজ গোসলের কারণ। বিষয়টি লজ্জার হলেও দীন শেখার ক্ষেত্রে সাহাবীগণ সরাসরি প্রশ্ন করেছেন, আর নবী (صلى الله عليه وسلم) পরিষ্কার উত্তর দিয়েছেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দাম্পত্য মিলনে নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে গোসল ফরজ হয়।
- পবিত্রতার বিধান শেখার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশ্ন করা লজ্জার বিষয় নয়।
- হাদিসে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের গোসলের কথা এসেছে।
- গোসলের কারণ বোঝার ক্ষেত্রে সরাসরি বর্ণিত শব্দের প্রতি খেয়াল রাখা জরুরি।
