২২/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৪৪৮-[৩০] - প্রতিদিন মাথা আঁচড়ানোতে সংযম
চুল আঁচড়ানো - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মাথা আঁচড়ানোতে সংযম: প্রতিদিন নয়, পরিমিত যত্ন
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৪৪৮-[৩০]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৪৪৮-[৩০]
وَعَن عبد الله بن مغفَّل قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ التَّرَجُّلِ إِلَّا غِبًّا. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ
আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (প্রত্যহ) মাথা আঁচড়াতে নিষেধ করেছেন। তবে একদিন পর একদিন (অনুমতি রয়েছে)।
[১] সহীহ : তিরমিযী ১৭৫৬, আবূ দাঊদ ৪১৫৯, নাসায়ী ৫০৫৫, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৫০১, আল জামি‘উস্ সগীর ১২৮২৬, মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২০৫৫৭, শু‘আবুল ঈমান ৬৪৬৭, আল মু‘জামুল আওসাত্ব ২৪৩৬, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১৬৬৪।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৪৪৮-[৩০]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم প্রতিদিন মাথা আঁচড়াতে নিষেধ করেছেন, তবে একদিন পর একদিন করার অনুমতির কথা এসেছে। এখানে মূল শিক্ষা হলো সাজসজ্জায় সংযম। চুলের যত্ন নেওয়া ভালো, কিন্তু বারবার সাজতে গিয়ে নিজেকে বিলাসিতায় অভ্যস্ত করা ঠিক নয়। হাদিসটি চুল অগোছালো রাখার কথা বলছে না; বরং পরিমিত পরিচর্যার কথা বলছে। আগের হাদিসে চুল-দাড়ির যত্নের কথা এসেছে, আর এই হাদিস সেই যত্নকে সীমার মধ্যে রাখার শিক্ষা দেয়। তাই চুল আঁচড়ানো, তেল দেওয়া বা সাজানো—সবই হতে পারে, তবে তা যেন জীবনের মূল লক্ষ্য না হয়ে যায়। মুসলিমের জীবন সহজ, পরিষ্কার ও ভারসাম্যপূর্ণ হওয়া ভালো।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- চুলের যত্ন নেওয়া দরকার, কিন্তু অতিরিক্ত সাজে ডুবে যাওয়া ঠিক নয়।
- প্রতিদিন সাজসজ্জার অভ্যাসে বাড়াবাড়ি থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
- ইসলাম পরিচ্ছন্নতা ও সংযম—দুই দিকই শেখায়।
- চুল আঁচড়ানোতে পরিমিতি রাখা ভালো আদব।
