৩/৬. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৬৭-[১৭] - ওজু করে আল্লাহর নাম নেওয়ার আদব
নাপাক ব্যক্তির সাথে মেলামেশা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
ওজু ছাড়া আল্লাহর নাম নেওয়া অপছন্দ করার শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৬৭-[১৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৬৭-[১৭]
وَعَنْ الْمُهَاجِرِ بْنِ قُنْفُذٍ أَنَّه أَتَى النَّبِيَّ ﷺ وَهُوَ يَبُولُ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ حَتّى تَوَضَّأَ ثُمَّ اعْتَذَرَ إِلَيْهِ وَقَالَ إِنِّي كَرِهْتُ أَنْ أَذْكُرَ اللهَ اِلَّا عَلى طُهْرٍ.رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَرَوَى النَّسَائِيُّ إِلى قَوْلِه حَتّى تَوَضَّأَ وَقَالَ فَلَمَّا تَوَضَّأَ رَدَّ عَلَيْهِ
মুহাজির ইবনু কুনফুয (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি নবী (ﷺ) এর নিকট এলেন। তিনি (ﷺ) তখন প্রস্রাব করছিলেন। তিনি (ﷺ) কে সালাম দিলেন। কিন্তু তিনি (ﷺ) (প্রস্রাবের পর) যে পর্যন্ত না ওযু করলেন তার সালামের কোন উত্তর দিলেন না। এরপর তিনি (ﷺ) ওজর পেশ করে বললেন, ওযু না করে আমি আল্লাহর নাম নেয়া পছন্দ করিনি (এ কারণেই তোমার সালামের উত্তর দেইনি)। [১] ইমাম নাসায়ীও এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, “যে পর্যন্ত ওযু না করলেন” বাক্য পর্যন্ত। ওজর পেশ করার কথা তিনি বলেননি। তার স্থানে বর্ণনা করেছেন, যখন ওযু করলেন, তার সালামের উত্তর দিলেন। [২]
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১৭, সিলসিলাহ্ আস্ সহীহাহ্ ৮৩৪।[২] নাসায়ী ৩৮।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৬৭-[১৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুহাজির ইবনু কুনফুযের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তিনি নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে এলেন, তখন নবী صلى الله عليه وسلم প্রস্রাব করছিলেন। তিনি সালাম দিলেন, কিন্তু নবী صلى الله عليه وسلم ওজু না করা পর্যন্ত তার সালামের উত্তর দিলেন না। পরে তিনি ওজর পেশ করে বললেন, ওজু ছাড়া আল্লাহর নাম নেওয়া তিনি পছন্দ করেননি। কারণ সালামের জবাবে আল্লাহর নাম থাকে। এই বর্ণনা থেকে আল্লাহর নামের প্রতি সম্মান এবং পবিত্রতার আদব বোঝা যায়। ইমাম নাসায়ীর বর্ণনায় ওজু করা পর্যন্ত অংশ এসেছে এবং বলা হয়েছে, ওজু করার পর তিনি সালামের উত্তর দিলেন। তাই মূল শিক্ষা হলো, আল্লাহর নাম উচ্চারণে পবিত্রতা ও সম্মান বজায় রাখা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর নাম নেওয়ার ক্ষেত্রে পবিত্রতার আদব মানা উচিত।
- নবী صلى الله عليه وسلم ওজু না করা পর্যন্ত সালামের উত্তর দেননি।
- সালাম ও তার জবাবের মধ্যেও আল্লাহর স্মরণ আছে।
- ইবাদতের ছোট কাজেও সম্মান ও সচেতনতা দরকার।
