৩/৭. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৭৬-[৩] - নবী صلى الله عليه وسلم-এর ওজুর পানি ও মুহুরে নবুওয়াত

পানির বিবরণ - প্রথম অনুচ্ছেদ

অপবিত্রতা মিশ্রিত পানির বিষয়ে ‘আলিমগণ মতবিরোধ করেছেন। ইমাম মালিক এবং যাহিরীদের মতে পানির গন্ধ, স্বাদ এবং রং- এ তিনটি গুণ পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত পানিতে নাজাসাত মিশ্রিত হলেও তা অপবিত্র হবে না চাই তা যতই কম হোক না কেন। যেহেতু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, পানিকে কোন বস্তুতে অপবিত্র করতে পারে না তবে যদি তার গন্ধ, রং এবং স্বাদ পরিবর্তন হয় (তাহলে তা অপবিত্র হয়ে যাবে)।তারা অল্প বা বেশির মাঝে পার্থক্য করেননি বরং তাদের নিকট অপবিত্রতার মাপকাঠি হলো পানির গুণের পরিবর্তন। শাফি‘ঈ এবং হানাফীদের মতে পানি দু’ভাগে বিভক্ত। প্রথমত অল্প পানি যাতে অপবিত্রতা পতিত হলেই তা অপবিত্র হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত বেশি পানি যা তিনটি বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত অপবিত্র হয় না। বেশি পানির পরিমাণ নির্ধারণে মতবিরোধ রয়েছে। তবে সঠিক মত হলো, পানি দুই কুল্লা বা পাঁচশত রতল হলে তা বেশি পানি বলে পরিগণিত হবে। যেহেতু রাসূল (ﷺ) বলেছেন, পানির পরিমাণ দু’ কুল্লা হলে তা অপবিত্র হবে না।

ওজুর পানি ও মুহুরে নবুওয়াত দেখার ঘটনা

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৭৬-[৩]

وَعَنْ السَّائِبِ ابْنِ يَزِيْدَ قَالَ ذَهَبَتْ بِىْ خَالَتِىْ اِلَى النَّبِىِّ ﷺ فَقَالَتْ يَا رَسُوْلَ اللهِ اِنَّ ابْنَ اُخْتِىْ وَجِعٌ فَمَسَحَ رَاْسِىْ وَدَعَا لِىْ بِالْبَرَكَةِ ثُمَّ تَوَضَّاَ فَشَرِبْتُ مِنْ وُّضُوْئِه ثُمَّ قُمْتُ خَلْفَ ظَهْرِه فَنَظَرْتُ اِلى خَاتَمِ النُّبُوَّةِ بَيْنَ كِتَفَيْهِ مِثْلَ زِرِّ الْحَجْلَةِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমার খালা আমাকে নবী (ﷺ) এর কাছে নিয়ে গেলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার এ বোনপুত্র অসুস্থ। তিনি (ﷺ) আমার মাথায় হাত বুলালেন এবং আমার জন্য বারাকাতের দোয়া করলেন। তারপর তিনি (ﷺ) ওজু করলেন। আমি তাঁর ওজুর পানি (কিছু) পান করলাম। অতঃপর আমি তাঁর (ﷺ) এর পিছনে দাঁড়িয়ে তাঁর দুই কাঁধের মধ্যে মশারির বা পর্দার ঘণ্টির মতো ’মুহুরে নবুওয়াত’ দেখতে লাগলাম। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১৯০, মুসলিম ২৩৪৫।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৭৬-[৩]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সায়িব ইবনু ইয়াযীদ রা. তাঁর শৈশবের একটি ঘটনা বলেছেন। তাঁর খালা তাঁকে নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে নিয়ে গিয়ে অসুস্থতার কথা জানান। নবী صلى الله عليه وسلم তাঁর মাথায় হাত বুলিয়ে বারাকাতের দোয়া করেন। এরপর তিনি ওজু করেন, আর সায়িব রা. তাঁর ওজুর পানি থেকে কিছু পান করেন। পরে তিনি নবী صلى الله عليه وسلم-এর পেছনে দাঁড়িয়ে দুই কাঁধের মাঝখানে মুহুরে নবুওয়াত দেখেন, যা মশারী বা পর্দার ঘণ্টির মতো ছিল। এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم-এর দয়া, দোয়া, ওজুর পানি এবং মুহুরে নবুওয়াতের বর্ণনা এসেছে। এখানে মূল শিক্ষা হলো নবী صلى الله عليه وسلم-এর মমতা, বরকতের দোয়া এবং সাহাবিদের গভীর ভালোবাসা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নবী صلى الله عليه وسلم অসুস্থ শিশুর জন্য দোয়া করেছেন।
  • সাহাবিরা নবী صلى الله عليه وسلم-এর সাথে সম্পর্ককে গভীর ভালোবাসায় দেখতেন।
  • মুহুরে নবুওয়াত নবী صلى الله عليه وسلم-এর একটি বিশেষ নিদর্শন হিসেবে বর্ণিত।
  • বরকতের দোয়া ও স্নেহ মানুষের মনে শান্তি আনে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন