১৩/৪৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৩৪৫ - হারুরিয়া ও কুরআন পাঠের সতর্কতা
খারিজী সম্প্রদায় ও তাদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোচনা
হারুরিয়া প্রসঙ্গ ও কুরআন পাঠের অন্তরীণ শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ২৩৪৫
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৩৪৫
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ، يَقُولُ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، وَعَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّهُمَا أَتَيَا أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ فَسَأَلاَهُ عَنِ الْحَرُورِيَّةِ، هَلْ سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَذْكُرُهَا قَالَ لاَ أَدْرِي مَنِ الْحَرُورِيَّةُ وَلَكِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ «يَخْرُجُ فِي هَذِهِ الأُمَّةِ - وَلَمْ يَقُلْ مِنْهَا - قَوْمٌ تَحْقِرُونَ صَلاَتَكُمْ مَعَ صَلاَتِهِمْ فَيَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ . لاَ يُجَاوِزُ حُلُوقَهُمْ - أَوْ حَنَاجِرَهُمْ - يَمْرُقُونَ مِنَ الدِّينِ مُرُوقَ السَّهْمِ مِنَ الرَّمِيَّةِ فَيَنْظُرُ الرَّامِي إِلَى سَهْمِهِ إِلَى نَصْلِهِ إِلَى رِصَافِهِ فَيَتَمَارَى فِي الْفُوقَةِ هَلْ عَلِقَ بِهَا مِنَ الدَّمِ شَىْءٌ».
আবূ সালামাহ্ ও ‘আত্বা ইবনু ইয়াসার (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তারা উভয়ে আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ)-এর কাছে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে হারূরিয়াহ্ (খারিজী জাতি) সম্পর্কে কোন মন্তব্য করতে শুনেছেন? তিনি বলেন, ‘হারূরিয়াহ্’ কে তা আমি জানি না, তবে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ “এ উম্মাতের মধ্যে এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব হবে (কিন্তু তিনি তখনকার উম্মাতকে নির্দিষ্ট করে বলেননি) যাদের সালাতের তুলনায় তোমরা নিজেদের সালাতকে নিম্নমানের মনে করবে। তারা কোরআন পাঠ করবে, অথচ এ পাঠ তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে- তীর ছুঁড়লে যেভাবে বেরিয়ে যায়।অতঃপর শিকারী তার ধনুক, তীরের ফলা এবং এর পালকের দিকে লক্ষ্য করে। সে এর লক্ষ্য বস্তুর দিকে দৃষ্টি প্রসারিত করে চিন্তা করে তীরের কোন অংশ রক্তে রঞ্জিত হয়েছে কিনা (অর্থাৎ তাদের মধ্যে ইসলামের নামগন্ধ এবং সামান্যতম চিহ্নও থাকবে না)।
ই.ফা. ২৩২৩, ই.সে. ২৩২৪
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৩৪৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু সালামা ও আতা ইবন ইয়াসার আবু সাঈদ আল খুদরী (রাঃ)-কে হারুরিয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি বলেন, হারুরিয়া কে তা তিনি জানেন না; তবে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে তিনি বলতে শুনেছেন যে, এই উম্মতের মধ্যে এমন এক সম্প্রদায় বের হবে, যাদের সালাত দেখে মানুষ নিজের সালাতকে কম মনে করবে। তারা কুরআন পাঠ করবে, কিন্তু সেই পাঠ তাদের গলা বা কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমন তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায়। তীরের অংশে রক্ত আছে কি না তা খুঁজেও পাওয়া যায় না—এই উদাহরণ দিয়ে তাদের বিচ্যুতির গভীরতা বোঝানো হয়েছে। হাদিসটি বাহ্যিক ইবাদত, কুরআন পাঠ এবং অন্তরের সঠিক অবস্থার মধ্যে পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বাহ্যিকভাবে বেশি ইবাদত করলেই সঠিক পথ নিশ্চিত হয় না।
- কুরআন পাঠ অন্তরে প্রভাব না ফেললে তা বড় সতর্কতার বিষয়।
- আবু সাঈদ (রাঃ) না জানা বিষয়ে সরাসরি ‘জানি না’ বলেছেন।
- দ্বীন থেকে বিচ্যুতি কখনো বাহ্যিক ধার্মিকতার আড়ালেও থাকতে পারে।
