২৫/১০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৮১৭-[৬] - আল্লাহর দুশমন বলা থেকে সতর্কতা
জিহ্বার হেফাজত, গীবত এবং গালমন্দ প্রসঙ্গে - প্রথম অনুচ্ছেদ
জিহ্বার হিফাযাত বলতে অশ্লীল-অবাঞ্ছিত কথা-বার্তা ইত্যাদি থেকে জিহ্বাকে রক্ষা করা। গীবত বলা হয় তোমার মুসলিম ভাইয়ের মধ্যে বিদ্যমান কোন দোষ তার অসাক্ষাতে আলোচনা করা যা সে শুনলে তা অপছন্দ করবে। তার মধ্যে যদি দোষটি না থাকে তবে সেটা হবে বুহতান বা অপবাদ।আরবীতেاَلشَّتَمُবলা হয় গালি প্রদান করা, অভিসম্পাত করা। এতে জীবিত-মৃত, উপস্থিত-অনুপস্থিত সকলেই এর অন্তর্ভুক্ত।
আল্লাহর দুশমন বলা: জিহ্বার কঠিন সতর্কতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৮১৭-[৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৮১৭-[৬]
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ دَعَا رَجُلًا بِالْكُفْرِ أَوْ قَالَ: عَدُوَّ اللَّهِ وَلَيْسَ كَذَلِكَ إِلاَّ حارَ عليهِ. مُتَّفق عَلَيْهِ
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : যে ব্যক্তি কাউকে কাফির বলে ডাকে অথবা আল্লাহর দুশমন বলে, অথচ সে ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে এরূপ না হয়, তবে এ বাক্য তার দিকে প্রত্যাবর্তন করবে।
[১] সহীহ : বুখারী (পাওয়া যায়নি), মুসলিম ১১২ (৬১), সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ১৯৮৫, সহীহুল জামি‘ ৯৫৬২।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৮১৭-[৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কাউকে কাফির বা আল্লাহর দুশমন বলার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কাউকে কাফির বলে ডাকে অথবা আল্লাহর দুশমন বলে, অথচ সে প্রকৃতপক্ষে তেমন না হয়, তবে সেই কথা তার দিকে ফিরে আসে। এটি জিহ্বার ভয়াবহ দায়িত্বের একটি স্পষ্ট উদাহরণ। কোনো মানুষের ঈমান, অবস্থান বা আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কঠোর শব্দ ব্যবহার করা সহজ বিষয় নয়। রাগ, বিতর্ক বা মতভেদে এমন ভাষা ব্যবহার করা বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই মুসলিমের উচিত অপমান, তাকফির এবং “আল্লাহর দুশমন” ধরনের বড় অভিযোগ থেকে দূরে থাকা, যতক্ষণ না নিশ্চিত শরঈ ভিত্তি থাকে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কাউকে আল্লাহর দুশমন বলা খুব বড় অভিযোগ।
- ভুল অভিযোগ বলনেওয়ালার দিকে ফিরে আসতে পারে।
- তাকফির বা কঠোর ভাষায় তাড়াহুড়া করা বিপজ্জনক।
- জিহ্বার হেফাজত ঈমানি চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
