২৫/১০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৮১৬-[৫] - ফাসিক ও কাফির অপবাদের ভয়
জিহ্বার হেফাজত, গীবত এবং গালমন্দ প্রসঙ্গে - প্রথম অনুচ্ছেদ
জিহ্বার হিফাযাত বলতে অশ্লীল-অবাঞ্ছিত কথা-বার্তা ইত্যাদি থেকে জিহ্বাকে রক্ষা করা। গীবত বলা হয় তোমার মুসলিম ভাইয়ের মধ্যে বিদ্যমান কোন দোষ তার অসাক্ষাতে আলোচনা করা যা সে শুনলে তা অপছন্দ করবে। তার মধ্যে যদি দোষটি না থাকে তবে সেটা হবে বুহতান বা অপবাদ।আরবীতেاَلشَّتَمُবলা হয় গালি প্রদান করা, অভিসম্পাত করা। এতে জীবিত-মৃত, উপস্থিত-অনুপস্থিত সকলেই এর অন্তর্ভুক্ত।
ফাসিক বা কাফির বলা: অপবাদ থেকে বাঁচার শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৮১৬-[৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৮১৬-[৫]
وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَرْمِي رَجُلٌ رَجُلًا بِالْفُسُوقِ وَلَا يَرْمِيهِ بِالْكُفْرِ إِلَّا ارْتَدَّتْ عَلَيْهِ إِنْ لَمْ يَكُنْ صَاحِبُهُ كَذَلِكَ» رَوَاهُ البُخَارِيّ
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : কোন ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে ফাসিক্ব বা পাপী বলে অপবাদ দেবে না এবং কাফির বলেও দুর্নাম করবে না। যদি উদ্দিষ্ট ব্যক্তি এরূপ না হয়, তবে তার প্রদত্ত অপবাদ তার দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে।
[১] সহীহ : বুখারী ৬০৪৫, সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ ৩৩৫, আহমাদ ২১৬১১, মুসনাদুল বাযযার ৩৯১৯, শু‘আবুল ঈমান ৬৬৬৩ সহীহাহ্ ২৮৯১, সহীহুল জামি‘ ৫৪৩১।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৮১৬-[৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে অপবাদমূলক ভাষা থেকে দূরে থাকার শিক্ষা এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোনো ব্যক্তি যেন অন্য ব্যক্তিকে ফাসিক বা পাপী বলে অপবাদ না দেয় এবং কাফির বলেও দুর্নাম না করে। যদি যার দিকে অপবাদ দেওয়া হয়েছে সে আসলে তেমন না হয়, তাহলে সেই অপবাদ বলনেওয়ালার দিকেই ফিরে আসে। এখানে মুসলিমের জিহ্বার দায়িত্ব খুব স্পষ্ট। আমরা অনেক সময় রাগ, বিতর্ক বা ব্যক্তিগত বিরোধে বড় বড় শব্দ ব্যবহার করি। কিন্তু এই হাদিস শেখায়, মানুষের চরিত্র ও ঈমান নিয়ে তাড়াহুড়া করে অপবাদ দেওয়া ভয়াবহ। তাই কথা বলার সময় নরম ভাষা, যাচাই ও আত্মসংযম জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কাউকে ফাসিক বা কাফির বলে অপবাদ দেওয়া থেকে বাঁচা দরকার।
- অন্যায় অপবাদ বলনেওয়ালার দিকেই ফিরে আসতে পারে।
- রাগের সময় বড় বড় অভিযোগ করা বিপজ্জনক।
- মুসলিমের সম্মান রক্ষায় জিহ্বা সংযম জরুরি।
