২৫/১০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৮১৯-[৮] - অভিশাপ দেওয়া থেকে বাঁচা
জিহ্বার হেফাজত, গীবত এবং গালমন্দ প্রসঙ্গে - প্রথম অনুচ্ছেদ
জিহ্বার হিফাযাত বলতে অশ্লীল-অবাঞ্ছিত কথা-বার্তা ইত্যাদি থেকে জিহ্বাকে রক্ষা করা। গীবত বলা হয় তোমার মুসলিম ভাইয়ের মধ্যে বিদ্যমান কোন দোষ তার অসাক্ষাতে আলোচনা করা যা সে শুনলে তা অপছন্দ করবে। তার মধ্যে যদি দোষটি না থাকে তবে সেটা হবে বুহতান বা অপবাদ।আরবীতেاَلشَّتَمُবলা হয় গালি প্রদান করা, অভিসম্পাত করা। এতে জীবিত-মৃত, উপস্থিত-অনুপস্থিত সকলেই এর অন্তর্ভুক্ত।
অভিশাপ দেওয়া থেকে বাঁচা: মুমিনের জিহ্বার আদব
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৮১৯-[৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৮১৯-[৮]
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَنْبَغِي لِصِدِّيقٍ أنْ يكونَ لعَّاناً». رَوَاهُ مُسلم
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : একজন সিদ্দীকের পক্ষে অধিক অভিসম্পাতকারী হওয়া সমীচীন নয়।
[১] সহীহ : মুসলিম ৮৪-(২৫৯৭), সহীহুল জামি‘ ১৩৭৫৩, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২৭৮৪ সহীহাহ্ ২৬৩৬, শু‘আবুল ঈমান ৫১৫১, আস্ সুনানুল কুবরা ২১৩১৩, তিরমিযী ২০১৯, সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ ২৩৫, আল মুসতাদরাক ১৪৫।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৮১৯-[৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে অভিশাপ দেওয়ার অভ্যাস থেকে দূরে থাকার শিক্ষা এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একজন সিদ্দীক বা সত্যবাদী মানুষের পক্ষে অধিক অভিসম্পাতকারী হওয়া মানানসই নয়। এখানে শুধু একবার কোনো প্রসঙ্গে বলা নয়; বরং অভিশাপ দেওয়াকে অভ্যাস বানানো নিন্দনীয় বলা হয়েছে। একজন মুমিনের জিহ্বা হওয়া উচিত সত্যবাদী, নরম ও কল্যাণমুখী। রাগ, কষ্ট বা বিরক্তির সময় মানুষ সহজে বদদোয়া বা অভিশাপ দিয়ে ফেলে; কিন্তু এই হাদিস শেখায়, এমন ভাষা চরিত্রের সৌন্দর্য কমিয়ে দেয়। তাই মুমিনের উচিত কথায় দয়া, সংযম ও ভদ্রতা রাখা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অধিক অভিশাপ দেওয়া সত্যবাদী মুমিনের গুণ নয়।
- রাগের সময় বদদোয়া বা অভিশাপ থেকে বাঁচা দরকার।
- মুমিনের জিহ্বা কল্যাণমুখী হওয়া উচিত।
- কথায় নরমতা ও সংযম রাখা ভালো চরিত্রের অংশ।
