২৫/১০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৮২০-[৯] - অভিশাপকারীর আখিরাতের ক্ষতি
জিহ্বার হেফাজত, গীবত এবং গালমন্দ প্রসঙ্গে - প্রথম অনুচ্ছেদ
জিহ্বার হিফাযাত বলতে অশ্লীল-অবাঞ্ছিত কথা-বার্তা ইত্যাদি থেকে জিহ্বাকে রক্ষা করা। গীবত বলা হয় তোমার মুসলিম ভাইয়ের মধ্যে বিদ্যমান কোন দোষ তার অসাক্ষাতে আলোচনা করা যা সে শুনলে তা অপছন্দ করবে। তার মধ্যে যদি দোষটি না থাকে তবে সেটা হবে বুহতান বা অপবাদ।আরবীতেاَلشَّتَمُবলা হয় গালি প্রদান করা, অভিসম্পাত করা। এতে জীবিত-মৃত, উপস্থিত-অনুপস্থিত সকলেই এর অন্তর্ভুক্ত।
অধিক অভিশাপকারীর ক্ষতি: কেয়ামতের সতর্কতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৮২০-[৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৮২০-[৯]
وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ اللَّعَّانِينَ لَا يَكُونُونَ شُهَدَاءَ وَلَا شُفَعَاء يَوْم الْقِيَامَة». رَوَاهُ مُسلم
আবুদ্ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন : নিশ্চয় অধিক অভিসম্পাতকারীরা কিয়ামতের দিন সাক্ষ্যদাতা হবে না এবং সুপারিশকারীও হবে না।
[১] সহীহ : মুসলিম ৮৬-(২৫৯৮), সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৭৪৬, মুসনাদ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ৩৯, হিলইয়াতুল আওলিয়া ৩/২৫৯, সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ ২৪০, মুসান্নাফ ‘আবদুর রাযযাক ১৯৫৩০, আহমাদ ২৭৫২৯, শু‘আবুল ঈমান ৫১৫২, আস্ সুনানুল কুবরা ২১৩১২।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৮২০-[৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে অধিক অভিশাপ করার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন যে, অধিক অভিশাপকারীরা কেয়ামতের দিন সাক্ষ্যদাতা হবে না এবং সুপারিশকারীও হবে না। এখানে জিহ্বার একটি বড় বিপদ দেখানো হয়েছে। অভিশাপ দেওয়া শুধু কঠোর শব্দ নয়; এটি মানুষের প্রতি কঠিন মনোভাব প্রকাশ করে। যদি কেউ বারবার অভিশাপ দেওয়াকে স্বভাব বানিয়ে ফেলে, তাহলে তা আখিরাতের মর্যাদার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই মুমিনের কথা হওয়া উচিত সতর্ক, দয়ালু ও সংযত। রাগ হলেও লানত ও অভিশাপকে অভ্যাস বানানো থেকে বাঁচা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অধিক অভিশাপ করার অভ্যাস আখিরাতে ক্ষতির কারণ হতে পারে।
- কেয়ামতের মর্যাদা রক্ষার জন্য জিহ্বা সংযম দরকার।
- মুমিনের ভাষায় দয়া ও সতর্কতা থাকা উচিত।
- রাগের সময় অভিশাপ না দিয়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা ভালো।
