২৫/১০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৮৫৮-[৪৭] - রহমতকে সংকীর্ণ করে দোয়া নয়
জিহ্বার হেফাজত, গীবত এবং গালমন্দ প্রসঙ্গে - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
দোয়ায় রহমত সংকীর্ণ না করার শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৮৫৮-[৪৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৮৫৮-[৪৭]
وَعَن جُنْدُبٍ قَالَ: جَاءَ أَعْرَابِيٌّ فَأَنَاخَ رَاحِلَتَهُ ثُمَّ عَقَلَهَا ثُمَّ دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَصَلَّى خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا سَلَّمَ أَتَى رَاحِلَتَهُ فَأَطْلَقَهَا ثُمَّ رَكِبَ ثُمَّ نَادَى: اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي وَمُحَمَّدًا وَلَا تُشْرِكْ فِي رَحْمَتِنَا أَحَدًا. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَتَقُولُونَ هُوَ أَضَلُّ أَمْ بَعِيرُهُ؟ أَلَمْ تَسْمَعُوا إِلَى مَا قَالَ؟» قَالُوا: بَلَى؟.رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَذَكَرَ حَدِيثَ أَبِي هُرَيْرَةَ: «كَفَى بِالْمَرْءِ كَذِبًا» فِي «بَاب الِاعْتِصَام» فِي الْفَصْل الأول
জুনদুব ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক মরুচারী বেদুঈন এলো- নিজের উটকে বসাল এবং পা বাঁধল। অতঃপর মসজিদে প্রবেশ করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পিছনে সালাত আদায় করল। সালাতের সালাম ফেরানোর পর সে নিজের উটের কাছে এসে সেটার পা খুলল এবং উটটির পিঠে আরোহণ করে সশব্দে এ কথা বলে চলে গেল, (আল্ল-হুম্মার্ হামনী ওয়া মুহাম্মাদান ওয়ালা- তুশরিক ফী রহমতিনা- আহাদা-) “হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ও মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে অনুগ্রহ করো। আমাদের অনুগ্রহে অন্যকে অংশীদার করো না। এটা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন : তোমাদের কি ধারণা! এ বেদুঈন লোকটি বেশি মূর্খ, না তার উটটি? তোমরা কি শুননি, লোকটি কি বলল? তাঁরা বললেন : জ্বী হ্যাঁ।
[১] সহীহ তবে (فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ...) থেকে শেষ অংশটুকু য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৪৮৮৫, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১৬৪৪, আহমাদ ১৮৭৯৯।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৮৫৮-[৪৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক বেদুঈন উট বেঁধে মসজিদে এসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর পেছনে সালাত পড়ে। পরে উটে উঠে সে উচ্চস্বরে দোয়া করে—হে আল্লাহ, আমাকে ও মুহাম্মাদ (صلى الله عليه وسلم)-কে অনুগ্রহ করো, আমাদের অনুগ্রহে অন্য কাউকে অংশ দিও না। তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের জিজ্ঞেস করেন, লোকটি বেশি মূর্খ, না তার উট? তিনি তাঁদেরকে লোকটির কথার দিকে মনোযোগ করান। এই বর্ণনায় দোয়ার ভাষা নিয়ে শিক্ষা আছে। আল্লাহর রহমতকে নিজের জন্য সীমাবদ্ধ করে চাইতে শেখানো হয়নি। মুমিনের দোয়ায় নিজের সাথে অন্যদের কল্যাণও কামনা করা সুন্দর।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দোয়ায় নিজের সাথে অন্যদের কল্যাণও কামনা করা ভালো।
- রহমতকে শুধু নিজের জন্য সীমিত করে চাওয়া ঠিক নয়।
- নবীজি সাহাবীদের ভুল কথার দিকে মনোযোগ করিয়েছেন।
- দোয়ার ভাষায় আদব ও প্রশস্ততা থাকা উচিত।
