২৫/১৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৯২৩-[১৩] - প্রকৃত আত্মীয়তা রক্ষাকারী কে
অনুগ্রহ ও স্বজনে সদাচার - প্রথম অনুচ্ছেদ
প্রকৃত সিলাতুর রহিম: বদলার অপেক্ষা নয়, সম্পর্ক জোড়া রাখা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৯২৩-[১৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৯২৩-[১৩]
وَعَنِ ابْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «لَيْسَ الواصِلُ بالمكافىء وَلَكِنَّ الْوَاصِلَ الَّذِي إِذَا قُطِعَتْ رَحِمُهُ وَصَلَهَا». رَوَاهُ البُخَارِيّ
ইবনু ‘আম্র (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী সে নয়, যার সাথে সম্পর্ক রক্ষা করা হচ্ছে; বরং আত্মীয়তা রক্ষাকারী সে, যার সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়েছে, আর সে সেই সম্পর্ককে যোজন করে আত্মীয়তার বন্ধন বহাল রেখেছে।
[১] সহীহ : বুখারী ৫৯৯১, আবূ দাঊদ ১৬৯৭, তিরমিযী ১৯০৮, ইবনু হিব্বান ৪৪৫, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২৫৩৩, সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ ৪৯, শু‘আবুল ঈমান ৩৪২৮, হিলইয়াতুল আওলিয়া ৩/৩০২।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৯২৩-[১৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার একটি উচ্চ মানদণ্ড শিখিয়েছেন। সাধারণভাবে কেউ আমাদের সাথে ভালো আচরণ করলে আমরা তার সাথে ভালো ব্যবহার করি। কিন্তু হাদিস বলছে, প্রকৃত আত্মীয়তা রক্ষাকারী শুধু প্রতিদান দেওয়া মানুষ নয়। আসল সম্পর্ক রক্ষাকারী সেই ব্যক্তি, যার আত্মীয় তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে, তবুও সে সম্পর্ক জোড়া রাখার চেষ্টা করে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, সিলাতুর রহিমের মূল সৌন্দর্য হলো ধৈর্য, ক্ষমা ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এগিয়ে যাওয়া। এই শিক্ষা পারিবারিক জীবনে খুব দরকারি। কারণ আত্মীয়দের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি, দূরত্ব বা কষ্ট থাকতে পারে। তবু একজন মুমিনের কাজ হলো ন্যায়সঙ্গত সীমার মধ্যে সম্পর্ক ঠিক রাখার চেষ্টা করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভালো ব্যবহারের বদলে ভালো ব্যবহার করা সহজ, কিন্তু প্রকৃত সিলাতুর রহিম এর চেয়েও গভীর।
- কেউ সম্পর্ক ছিন্ন করলেও সম্পর্ক জোড়া রাখার চেষ্টা প্রশংসনীয়।
- আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষায় ধৈর্য ও ক্ষমার দরকার হয়।
- সদাচরণ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হলে তা আরও মূল্যবান হয়।
