২৫/১৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৯২১-[১১] - আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার গুরুত্ব
অনুগ্রহ ও স্বজনে সদাচার - প্রথম অনুচ্ছেদ
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৯২১-[১১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৯২১-[১১]
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الرَّحِمُ مُعَلَّقَةٌ بِالْعَرْشِ تَقُولُ: مَنْ وَصَلَنِي وَصَلَهُ اللَّهُ وَمَنْ قَطَعَنِي قَطَعَهُ الله. مُتَّفق عَلَيْهِ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : রহিম” তথা আত্মীয়তা আল্লাহ তা'আলার আরশের সাথে ঝুলন্ত আছে এবং বলছে, যে ব্যক্তি আমাকে সংযোজন করবে তথা আত্মীয়তার সম্পর্ক বহাল রাখবে, আল্লাহ তা'আলা তার সাথে সম্পর্ক রক্ষা করবেন এবং যে ব্যক্তি আমাকে ছিন্ন করবে আল্লাহ তা'আলা তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবেন।
[১] সহীহ : বুখারী ৫৯৮৯, মুসলিম ১৭-(২৫৫৫), সহীহুল জামি‘ ৩৫৪৯, মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২৫৩৯৬, মুসনাদে আবূ ইয়া‘লা ৪৪৪৬, সহীহ ইবনু হিব্বান ৪৪৫, শু‘আবুল ঈমান ৭৯৩৫।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৯২১-[১১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আত্মীয়তার সম্পর্ক বা সিলাতুর রহিমের মর্যাদা খুব গভীরভাবে বোঝানো হয়েছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, ‘রহিম’ আল্লাহর আরশের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় যেন ঘোষণা করছে—যে তাকে সংযুক্ত রাখবে, আল্লাহ তার সাথে সম্পর্ক রাখবেন; আর যে তাকে ছিন্ন করবে, আল্লাহ তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবেন। এখানে আত্মীয়তার সম্পর্ককে সাধারণ সামাজিক আচরণ হিসেবে নয়, বরং আল্লাহর নৈকট্য ও রহমতের সাথে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে দেখানো হয়েছে। তাই পরিবার, নিকট আত্মীয়, রক্তের সম্পর্ক ও আপনজনের হক রক্ষা করা একজন মুমিনের জন্য বড় নৈতিক দায়িত্ব। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক রাখা শুধু মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার নয়; এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির একটি পথ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা আল্লাহর সাথে সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
- সম্পর্ক ছিন্ন করা হাদিসে কঠিন সতর্কতার সাথে উল্লেখ হয়েছে।
- পরিবার ও আত্মীয়দের হককে হালকা করে দেখা উচিত নয়।
- সিলাতুর রহিম শুধু সামাজিক কাজ নয়, এটি আল্লাহর নৈকট্যের সাথে জড়িত।
