২৫/১৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৯৬৭-[২১] - সালাত, যাকাত ও নসিহত
সৃষ্টির প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ - প্রথম অনুচ্ছেদ
প্রত্যেক মুসলিমের কল্যাণ কামনার অঙ্গীকার
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৯৬৭-[২১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৯৬৭-[২১]
عَن جرير بن عبد الله قَالَ: بَايَعْتُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى إِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَالنُّصْحِ لكل مُسلم. مُتَّفق عَلَيْهِ
জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাতে নিম্নোক্ত কথাগুলোর বায়'আত বা আজ্ঞানুবর্তী হওয়ার শপথ করলাম-১. সালাত প্রতিষ্ঠা করা,২. যাকাত আদায় করা এবং৩. প্রত্যেক মুসলিমের কল্যাণ কামনা করা।
[১] সহীহ : বুখারী ৫৭, ৫২৪, ১৪০১; মুসলিম ৯৭-(৫৬), ৯৯-(৫৬); নাসায়ী ৪১৭৫, তিরমিযী ১৯২৫, সহীহ আত্ তারগীব ৭৫১, আহমাদ ১৯২৪৮, সহীহ ইবনু হিব্বান ৪৫৪৬, সুনানুন্ নাসায়ী আল কুবরা ৩২১, দারিমী ২৫৪০, ‘ত্ববারানী’র আল মু‘জামুল কাবীর ২৩০৪, আল মু‘জামুল আওসাত্ব ৫৮৫, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১০৭৫৭।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৯৬৭-[২১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জারীর ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) তাঁর বায়আতের কথা বলেছেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর হাতে সালাত প্রতিষ্ঠা, যাকাত আদায় এবং প্রত্যেক মুসলিমের কল্যাণ কামনার অঙ্গীকার করেছিলেন। এখানে সালাত ও যাকাতের সঙ্গে মুসলিমদের জন্য নসিহত বা কল্যাণ কামনাকে একসঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, ইবাদত এবং মানুষের প্রতি আন্তরিকতা আলাদা করে দেখার বিষয় নয়। একজন মুসলিম আল্লাহর হক আদায় করবে, আবার মানুষের জন্যও ভালো চাইবে। কারও ক্ষতি নয়, বরং উপকার, সৎ পরামর্শ ও কল্যাণ—এগুলো মুসলিম চরিত্রের অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাত ও যাকাতের সঙ্গে মানুষের কল্যাণ কামনাও গুরুত্বপূর্ণ।
- প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ভালো চাওয়া ঈমানি চরিত্রের অংশ।
- ইবাদত ও সামাজিক দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করা দরকার।
