২৫/১৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৯৮২-[৩৬] - কিয়ামতের দিন সম্মান রক্ষার বদলা
সৃষ্টির প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মুসলিম ভাইয়ের মান-সম্মান রক্ষার ফজিলত
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৯৮২-[৩৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৯৮২-[৩৬]
وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَرُدُّ عَنْ عِرْضِ أَخِيهِ إِلَّا كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَنْ يَرُدَّ عَنْهُ نَارَ جَهَنَّمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ». ثُمَّ تَلَا هَذِهِ الْآيَةَ: ﴾وَكَانَ حَقًّا عَلَيْنَا نصر الْمُؤمنِينَ﴿ رَوَاهُ فِي «شرح السّنة»
আবুদ্ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, যে মুসলিম তার অপর মুসলিম ভাইয়ের মান-সম্মান বিনষ্ট করা থেকে অন্যকে বিরত রাখে, আল্লাহ তা'আলার ওপর তার হক এই যে, তিনি কিয়ামতের দিন তার ওপর থেকে জাহান্নামের আগুন বিদূরিত করবেন।অতঃপর তিনি (ﷺ) কোরআনের এ আয়াত পাঠ করলেন : ...وَكَانَ حَقًّا عَلَيْنَا نَصْرُ الْمُؤْمِنِيْنَ “ … আর আমাদের ওপর বিশ্বাসীদের সাহায্য করা কর্তব্য”- (সূরা আর্ রূম ৩০ : ৪৭)।
[১] য‘ঈফ : শারহুস্ সুন্নাহ্ ৩৫২৮, য‘ঈফাহ্ ৫৮০। হাদীসটি য‘ঈফ হওয়ার কারণ এর সনদে আছে ‘‘লায়স ও শাহ্র ইবনু হাওশাব’’ নামে দু’জন য‘ঈফ রাবী। দেখুন- হিদায়াতুর্ রুওয়াত ৪/৪৩০ পৃঃ।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৯৮২-[৩৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুসলিম ভাইয়ের মান-সম্মান রক্ষা করার গুরুত্ব খুব পরিষ্কারভাবে এসেছে। কেউ যদি অন্য কোনো মুসলিমের ইজ্জত নষ্ট করার চেষ্টা করে, আর একজন মুসলিম তাকে থামায়, তবে কিয়ামতের দিন তার জন্য জাহান্নামের আগুন দূর করার প্রতিদানের কথা বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم এরপর কুরআনের আয়াত পাঠ করেছেন, যেখানে বিশ্বাসীদের সাহায্যের কথা এসেছে। তাই এই হাদিসের মূল বার্তা হলো—মুসলিম ভাইয়ের সম্মান শুধু ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এটি ঈমানী দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত। গীবত, অপবাদ, কটূক্তি বা মানহানি থেকে কাউকে বাঁচানো একটি বড় নেক কাজ। তবে সাহায্য হতে হবে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানহানি থামানো মুসলিম ভ্রাতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- কিয়ামতের দিনের প্রতিদানের কথা এই হাদিসে স্পষ্ট এসেছে।
- কুরআনের আয়াতের মাধ্যমে মুমিনদের সাহায্যের কথা স্মরণ করানো হয়েছে।
- ভাইয়ের সম্মান রক্ষা মানে অন্যায়ের কথাকে প্রশ্রয় না দেওয়া।
