৩/৯. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫২১-[৫] - মোজার মাসাহ ও সনদের সতর্কতা
মোজার উপর মাসাহ করা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মোজার উপর মাসাহ: বর্ণনা ও সনদের সতর্কতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫২১-[৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫২১-[৫]
وَعَنْ الْمُغِيْرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ وَضَّاتُ النَّبِىَّ ﷺ فِىْ غَزْوَةِ تَبُوْكَ فَمَسَحَ اَعْلَى الْخُفِّ وَاَسْفَلَه. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَةَ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ هذَا حَدِيْثٌ مَّعْلُوْلٌ وَّسَاَلْتُ اَبَا زُرْعَةَ وَمُحْمَّدًا يَّعْنِى الْبُخَارِيُّ عَنْ هذَا الْحَدِيْثِ فَقَالَ لَيْسَ بَصَحِيْحٍ وَّكَذَا ضَعَّفَه أَبُوْ دَاوٗدَ
মুগীরাহ্ ইবনু শু'বাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি তাবুক যুদ্ধে নবী (ﷺ) এর ওজুর পানির ব্যবস্থা করলাম। তিনি মোজার উপর দিক ও তার নীচের দিক মাসাহ করেছিলেন। [১] ইমাম তিরমিযী বলেছেন, এ হাদীসটি ত্রুটিযুক্ত। আমি আবু যুর’আহ ও ইমাম বুখারীকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তাঁরা বলেছেন, হাদীসটির সনদ সহীহ নয়। এভাবে ইমাম আবু দাউদও হাদীসটিকে য’ঈফ বলেছেন (অর্থাৎ এর সনদ মুগিরাহ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে নেই, মধ্যখানে রাবী ছুটে গেছে।[১]
[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ১৬৫, তিরমিযী ৯৭, ইবনু মাজাহ্ ৫৫০। কারণ সানাদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে যেমনটি শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেছেন।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫২১-[৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রা.) তাবুক যুদ্ধের একটি ঘটনা বলেছেন। তিনি নবী صلى الله عليه وسلم-এর ওজুর পানির ব্যবস্থা করেন। বর্ণনায় এসেছে, নবী صلى الله عليه وسلم মোজার উপর দিক এবং নিচের দিক মাসাহ করেছেন। কিন্তু হাদিসের শেষে গুরুত্বপূর্ণ তাহকীকও আছে। ইমাম তিরমিযী এটিকে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন। আবু যুর‘আহ ও ইমাম বুখারী বলেছেন, সনদ সহিহ নয়। আবু দাউদও বর্ণনাটিকে দুর্বল বলেছেন। তাই মোজার উপর মাসাহ বিষয়ে এই হাদিস পড়ার সময় মূল শিক্ষা হলো, শুধু অনুবাদ নয়, সনদের অবস্থাও জানা দরকার। মাসাহের পদ্ধতি নিয়ে শক্ত দলিল আলাদা বর্ণনায় এসেছে; আর এখানে সতর্কতা হলো দুর্বল বর্ণনাকে একা ধরে সিদ্ধান্ত না নেওয়া।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মোজার উপর মাসাহ বিষয়ে হাদিসের সনদ যাচাই করা জরুরি।
- দুর্বল বর্ণনা দেখলে তা দিয়ে একা শক্ত বিধান তৈরি করা ঠিক নয়।
- তাবুকের ঘটনা থেকে সাহাবীদের সেবা ও ওজুর ব্যবস্থাপনার দিকও বোঝা যায়।
- ফিকহি বিষয়ে সহিহ বর্ণনার দিকে ফিরে যাওয়া নিরাপদ পথ।
