৩/৯. অধ্যায়ঃ
মোজার উপর মাসাহ করা - প্রথম অনুচ্ছেদ
মাসাহ বলা হয় ভিজানো হাত কোন অঙ্গের উপর বুলানো।خُفٌّখুফ বলা হয় চামড়ার তৈরি পাদুকা যা পায়ের গ্রন্থীদ্বয় আবৃত রাখে। আরجَوْرَبٌহলো ঠাণ্ডা থেকে বাঁচার জন্য চুল, পশম বা মোটা চিকন চামড়া দ্বারা তৈরি মোজা যা টাকনুর উপরিভাগ পর্যন্ত আবৃত রাখে। মোজার উপর মাসাহ করার বিষয়টি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুতাওয়াতির সূত্রে প্রমাণিত। হাসান আল্ বসরী (রহঃ) বলেন, আমার নিকট এ মর্মে হাদীস পৌঁছেছে যে, সত্তরজন সাহাবী বলেছেন যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোজার উপর মাসাহ করতেন।
মিশকাতুল মাসাবিহ : ৫১৮-[২]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ৫১৮-[২]
وَعَنِ الْمُغِيْرَةِ بْنِ شُعْبَةَ اَنَّه غَزَا مَعَ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ غَزْوَةَ تَبُوْكَ قَالَ الْمُغِيْرَةُ فَتَبَرَّزَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ قِبَلَ الْغَائِطِ فَحَمَلْتُ مَعَه اِدَوَاةً قَبْلَ الْفَجْرِ فَلَمَّا رَجَعَ اَخَذْتُ اُهْرِيْقُ عَلى يَدَيْهِ مِنَ الاِدَاوَةِ فَغَسَلَ يَدَيْهِ وَوَجْهَه وَعَلَيْهِ جُبَّةٌ مِّنْ صُوْفٍ ذَهَبَ يَحْسِرُ عَنْ ذِرَاعَيْهِ فَضَاقَ كُمُّ الْجُبَّةِ فَاَخْرَجَ يَدَيْهِ مِنْ تَحْتِ الْجُبَّةِ وَاَلْقَى الْجُبَّةَ عَلى مَنْكِبَيْهِ فَغَسَلَ ذِرَاعَيْهِ ثُمَّ مَسَحَ بِنَاصِيَتِه وَعَلَى الْعِمَامَةِ ثُمَّ اَهْوَيْتُ لَانْزِعَ خُفَّيْهِ فَقَالَ دَعْهُمَا فَاِنِّىْ اَدْخَلْتُهُمَا طَاهِرَتَيْنِ فَمَسَحَ عَلَيْهِمَا ثُمَّ رَكِبَ وَرَكَبْتُ فَانْتَهَيْنَا اِلَى الْقَوْمِ وَقَدْ قَامُوْا اِلَى الصَّلَاةِ وَيُصَلِّىْ بِهِمْ عَبْدُ الرَّحْمنِ بْنِ عَوْفٍ وَّقَدْ رَكَعَ بِهِمْ رَكْعَةً فَلَمَّا اَحَسَّ بالنَّبِىِّ ﷺ ذَهَبَ يَتَاَخَّرُ فَاَوْمَا إِلَيْهِ فََاَدْرَكَ النَّبِىُّ ﷺ اِحْدَىِ الرَّكْعَتَيْنِ مَعَه فَلَمَّا سَلَّمَ قَامَ النَّبِىُّ ﷺ وَقُمْتُ مَعَه فَرَكَعْنَا الرَّكْعَةَ الَّتِىْ سَبَقَتْنَا. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
মুগীরাহ্ ইবনু শু‘বাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি রসুলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে তাবুক যুদ্ধে শরীক হয়েছিলেন। মুগিরাহ্ বলেন, একদিন ফজরের সালাতের আগে রসুলুল্লাহ (ﷺ) পায়খানার উদ্দেশ্যে বের হলেন। আর আমি তাঁর পিছনে একটি পানির পাত্র বহন করে গেলাম। তিনি (ﷺ) বেরিয়ে আসার পর আমি তাঁর দুই হাতের কব্জির উপর পানি ঢালতে লাগলাম। তিনি (ﷺ) তাঁর দুই হাত ও চেহারা ধুলেন। তখন তাঁর গায়ে একটি পশমের জুব্বাহ্ ছিল। তিনি (ﷺ) তাঁর (জুব্বার আস্তিন গুটিয়ে) হাত দুটি খুলতে চাইলেন। কিন্তু জুব্বার আস্তিন খুব চিকন ছিল। তাই জুব্বার ভিতর দিক দিয়েই তাঁর হাত দুটি বের করে নিজের দুই কাঁধের উপর রেখে দিলেন এবং হাত দুটি (কনুই পর্যন্ত) ধুলেন।অতঃপর মাথার সামনের দিক (কপাল) ও পাগড়ীর উপর মাসাহ করলেন। তারপর আমি তাঁর মোজাগুলো খুলতে চাইলাম। তিনি (ﷺ) বললেন, এগুলো এভাবে থাকতে দাও, আমি এগুলো পবিত্রাবস্থায় (অর্থাৎ উযু করে) পরেছি। তিনি (ﷺ) এগুলোর উপর মাসাহ্ করলেন।অতঃপর তিনি (ﷺ) সওয়ারীর উপর আরোহণ করলেন, আমিও আরোহণ করলাম এবং আমরা একটা দলের কাছে পৌঁছে গেলাম। তখন তারা সালাতে দাড়িয়ে গিয়েছিলেন, আর আব্দুর রহমান ইবন আওফ (রাঃ) তাদের সালাতের ইমামতি করছিলেন এবং তাদের নিয়ে এক রাক’আত সালাত আদায়ও করে ফেলেছিলেন। নবী (ﷺ) এর আগমন বুঝতে পেরে তিনি পিছনে সরে আসতে চাইলেন। কিন্তু নবী (ﷺ) তাকে তার স্থানে (স্থির থাকতে) ইশারা করলেন। নবী (ﷺ) তার সাথে দুই রাক’আতের মধ্যে এক রাক’আত সালাত পেলেন। তিনি সালাম ফিরালে নবী (ﷺ) দাঁড়িয়ে গেলেন এবং আমিও তাঁর সাথে দাঁড়িয়ে গেলাম। আর এক রাক’আত ছুটে যাওয়া সালাত আমরা আদায় করলাম। [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ২৭৪, নাসায়ী ১০৮, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৫১৪৩, ইবনু মাজাহ্ ১২৩৬।
