২৬/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫২৩২-[২] - দুর্বলদের দোয়া ও মর্যাদা
গরিবদের ফজিলত ও নবী (ﷺ)-এর জীবন-যাপন - প্রথম অনুচ্ছেদ
ফাযীলাত বা মর্যাদা দ্বারা উদ্দেশ্য অতিরিক্ত সাওয়াব ও পুরস্কার। ধন-সম্পদের মাধমে অর্জিত মর্যাদার কথা বুঝানো হয়নি। নাবী (ﷺ)-এর জীবন ‘ইবাদতের ক্ষেত্রে ছিল সবচেয়ে সমৃদ্ধ এবং বর্ণাঢ্য। কিন্তু জীবনের সুখ-সামগ্রী ও খানাপিনায় তিনি ছিলেন দরিদ্রের মতো।
দুর্বলদের দোয়া ও মর্যাদা: অহংকার কমানোর শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫২৩২-[২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫২৩২-[২]
وَعَن مُصعب بن سعدٍ قَالَ: رَأَى سَعْدٌ أَنَّ لَهُ فَضْلًا عَلَى مَنْ دُونَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَلْ تُنْصَرُونَ وَتُرْزَقُونَ إِلَّا بِضُعَفَائِكُمْ؟». رَوَاهُ البُخَارِيّ رواہ البخاری (2896) ۔ (صَحِيح)
মুস’আব ইবনু সা’দ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
সা'দ (রাঃ) নিজের সম্পর্কে মনে করলেন যে, নিম্নশ্রেণির লোকেদের চেয়ে তাঁর অধিক মর্যাদা রয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (তাঁর এ ধারণাটি বুঝতে পেরে) বললেন : তোমাদের মধ্যকার দুর্বল ব্যক্তিদের ওয়াসীলায় এবং তাদের দোয়ায় তোমাদেরকে (শত্রুর মোকাবিলায়) সাহায্য করা হয় এবং রিযক দেয়া হয়।
সহীহ বুখারী ২৮৯৬, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ৩২০৫।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫২৩২-[২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সা'দ রা. নিজের মর্যাদা সম্পর্কে এমন ধারণা করেছিলেন যে, তিনি কিছু মানুষের চেয়ে বেশি সম্মানিত। তখন রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, তোমাদের দুর্বলদের ওসীলায় এবং তাদের দোয়ার কারণে তোমরা সাহায্য ও রিযক পাও। এখানে দুর্বল বলতে সমাজে কম শক্তি, কম সম্পদ বা কম প্রভাবশালী মানুষদের বোঝানো হয়েছে। হাদিসটি আমাদের অহংকার থেকে বাঁচায়। কেউ ধনী, শক্তিশালী বা প্রভাবশালী হলেই সে আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়—এ ধারণা ঠিক নয়। অনেক সময় যাদের আমরা কম মনে করি, তাদের দোয়া, নিষ্ঠা ও আল্লাহর নৈকট্য সমাজের জন্য রহমতের কারণ হতে পারে। তাই দুর্বলদের সম্মান করা এবং তাদের অবহেলা না করা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুর্বল মানুষকে ছোট করে দেখা উচিত নয়।
- অহংকার মানুষের ভালো দৃষ্টিকে নষ্ট করে।
- দুর্বলদের দোয়া ও উপস্থিতি সাহায্য ও রিযকের কারণ হতে পারে।
- মর্যাদার মাপকাঠি সম্পদ বা ক্ষমতা নয়।
