২৬/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫২৩৩-[৩] - জান্নাতে দরিদ্রদের অগ্রগতি
গরিবদের ফজিলত ও নবী (ﷺ)-এর জীবন-যাপন - প্রথম অনুচ্ছেদ
ফাযীলাত বা মর্যাদা দ্বারা উদ্দেশ্য অতিরিক্ত সাওয়াব ও পুরস্কার। ধন-সম্পদের মাধমে অর্জিত মর্যাদার কথা বুঝানো হয়নি। নাবী (ﷺ)-এর জীবন ‘ইবাদতের ক্ষেত্রে ছিল সবচেয়ে সমৃদ্ধ এবং বর্ণাঢ্য। কিন্তু জীবনের সুখ-সামগ্রী ও খানাপিনায় তিনি ছিলেন দরিদ্রের মতো।
জান্নাতের দরজায় দরিদ্রদের অবস্থান
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫২৩৩-[৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫২৩৩-[৩]
وَعَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «قُمْتُ عَلَى بَابِ الْجَنَّةِ فَكَانَ عَامَّةُ مَنْ دَخَلَهَا الْمَسَاكِينَ وَأَصْحَابُ الْجَدِّ مَحْبُوسُونَ غَيْرَ أَنَّ أَصْحَابَ النَّارِ قَدْ أُمِرَ بِهِمْ إِلَى النَّارِ وَقُمْتُ عَلَى بَابِ النَّارِ فَإِذَا عَامَّةُ مَنْ دَخلهَا النِّسَاء». مُتَّفق عَلَيْهِ متفق علیہ، رواہ البخاری (6547) و مسلم (93 / 2736)، (6937) ۔ (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আমি জান্নাতের দ্বারে দাঁড়াই, দেখলাম; যারা তাতে প্রবেশ করছে তাদের অধিকাংশই গরীব-মিসকীন। আর বিত্তবান-সম্পদশালী লোকেরা আটকা পড়ে আছে। তবে জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অতঃপর আমি জাহান্নামের দ্বারে দাঁড়াই তখন (দেখলাম) তাতে যারা প্রবেশ করছে তাদের অধিকাংশ নারী সম্প্রদায়।
সহীহ : বুখারী ৫১৯৬, মুসলিম ৯৩-(২৭৩৬), সহীহুল জামি ৪৪১১, সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ৩১৯১, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ২৫৮৬, সহীহ ইবনু হিব্বান ৬৯২।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫২৩৩-[৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم জান্নাত ও জাহান্নামের দরজায় দেখা একটি বিষয় জানিয়েছেন। তিনি জান্নাতের দরজায় দাঁড়িয়ে দেখেন, সেখানে প্রবেশকারীদের অধিকাংশই গরীব-মিসকীন। আর সম্পদশালী লোকেরা আটকে আছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, জাহান্নামীদের জাহান্নামের দিকে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি জাহান্নামের দরজায় দাঁড়িয়ে দেখেন, সেখানে প্রবেশকারীদের অধিকাংশ নারী। এই হাদিস মানুষকে সম্পদ, দারিদ্র্য ও আখিরাতের হিসাব সম্পর্কে ভাবায়। দরিদ্র হওয়া নিজে নিজে মর্যাদার একমাত্র কারণ নয়; বরং ধৈর্য, ঈমান ও আল্লাহর আনুগত্যই মূল। একইভাবে সম্পদ থাকলে তার হিসাবও আছে। নারীদের বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে বোঝা উচিত—এটি আত্মসমালোচনা ও সংশোধনের শিক্ষা, কাউকে তুচ্ছ করার সুযোগ নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দরিদ্র মানুষকে তুচ্ছ করা উচিত নয়।
- সম্পদশালীদের সম্পদের হিসাব আছে—এ কথা মনে রাখা দরকার।
- আখিরাতের দৃশ্য মানুষকে নিজের আমল নিয়ে ভাবতে শেখায়।
- হাদিসের সতর্কতা কাউকে অপমান করার জন্য নয়, নিজেকে সংশোধনের জন্য।
