২৬/৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৩১৩-[১৯] - নির্যাতনেও ক্ষমার দোয়া
তাওয়াক্কুল (আল্লাহর উপর ভরসা) ও সবর (ধৈর্যধারণ) প্রসঙ্গে - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
নির্যাতনের মুখেও ক্ষমার দোয়া
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৩১৩-[১৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৩১৩-[১৯]
وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَحْكِي نَبِيًّا مِنَ الْأَنْبِيَاءِ ضَرَبَهُ قَوْمُهُ فَأَدْمَوْهُ وَهُوَ يَمْسَحُ الدَّمَ عَنْ وَجْهِهِ وَيَقُولُ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِقَوْمِي فَإِنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ متفق علیہ، رواہ البخاری (3477) و مسلم (105 / 1792)، (4646) ۔ (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি যেন এখনও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দিকে তাকাচ্ছি যখন তিনি কোন একজন এমন নবীর ঘটনা বর্ণনা করছিলেন, যাকে তার আপন কওমের লোকেরা প্রহার করে রক্তাক্ত করেছিল, আর তিনি নিজের চেহারা হতে রক্ত মুছছিলেন, আর বলছিলেন, হে আল্লাহ! তুমি আমার ক্বওমের কৃত অপরাধ ক্ষমা করে দাও। কেননা তারা অজ্ঞ।
সহীহ বুখারী ৩৪৭৭, মুসলিম ১০৫-(১৭৯২), আবূ ইয়া'লা ৫২১৬, মুসনাদে আহমাদ ৪১০৭।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৩১৩-[১৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এক নবীর ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তাঁর কওম তাঁকে প্রহার করে রক্তাক্ত করেছিল। তিনি নিজের মুখ থেকে রক্ত মুছছিলেন, আর বলছিলেন—হে আল্লাহ, তুমি আমার কওমকে ক্ষমা করো, কারণ তারা জানে না। এখানে ধৈর্য, ক্ষমা এবং মানুষের অজ্ঞতার প্রতি দয়ার শিক্ষা খুব স্পষ্ট। সাধারণত আঘাত পেলে মানুষ বদলা বা কঠোর কথা ভাবতে পারে। কিন্তু এই বর্ণনায় একজন নবীর অন্তর দেখা যায়—তিনি আঘাতের মাঝেও নিজের কওমের জন্য ক্ষমা চান। এই শিক্ষা অন্যায়ের প্রতি চুপ থাকা নয়; বরং কষ্টের সময় অন্তরকে আল্লাহর দিকে রাখা এবং দয়ার দরজা খোলা রাখার কথা মনে করায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কষ্টের সময়ও আল্লাহর কাছে দোয়া করা নবীদের পথ।
- অজ্ঞতার কারণে ভুল করা মানুষের জন্য ক্ষমা চাওয়া দয়ার লক্ষণ।
- আঘাত পেলে অন্তরকে বদলার আগুনে না জ্বালানো ভালো।
- ধৈর্য ও ক্ষমা বড় নৈতিক শক্তি।
