২৭/০. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৩৮২-[৪] - ফিতনার সময় মুসলিম জামাআত আঁকড়ে ধরা

ফিতনা সম্পর্কিত - প্রথম অনুচ্ছেদ

ফিতনার সময় মুসলিম জামাআত আঁকড়ে ধরা

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৩৮২-[৪]

وَعَنْهُ قَالَ: كَانَ النَّاسُ يَسْأَلُونَ رَسُول الله ﷺ عَن الْخَيْرِ وَكُنْتُ أَسْأَلُهُ عَنِ الشَّرِّ مَخَافَةَ أَنْ يُدْرِكَنِي قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا كُنَّا فِي جَاهِلِيَّةٍ وَشَرٍّ فَجَاءَنَا اللَّهُ بِهَذَا الْخَيْرِ فَهَلْ بَعْدَ هَذَا الْخَيْرِ مِنْ شَرٍّ؟ قَالَ: «نَعَمْ» قُلْتُ: وَهَلْ بَعْدَ ذَلِكَ الشَّرِّ مِنْ خَيْرٍ؟ قَالَ: «نَعَمْ وَفِيهِ دَخَنٌ». قُلْتُ: وَمَا دَخَنُهُ؟ قَالَ: «قَوْمٌ يَسْتَنُّونَ بِغَيْرِ سُنَّتِي وَيَهْدُونَ بِغَيْرِ هَدْيِي تَعْرِفُ مِنْهُمْ وَتُنْكِرُ».قُلْتُ: فَهَلْ بَعْدَ ذَلِكَ الْخَيْرِ مِنْ شَرٍّ؟ قَالَ: «نَعَمْ دُعَاةٌ عَلَى أَبْوَابِ جَهَنَّمَ مَنْ أَجَابَهُمْ إِلَيْهَا قَذَفُوهُ فِيهَا». قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ صِفْهُمْ لَنَا. قَالَ: «هُمْ مِنْ جِلْدَتِنَا وَيَتَكَلَّمُونَ بِأَلْسِنَتِنَا». قُلْتُ: فَمَا تَأْمُرُنِي إِنْ أَدْرَكَنِي ذَلِكَ؟ قَالَ: «تَلْزَمُ جَمَاعَةَ الْمُسْلِمِينَ وَإِمَامَهُمْ». قُلْتُ: فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُمْ جَمَاعَةٌ وَلَا إِمَامٌ؟ قَالَ: «فَاعْتَزِلْ تِلْكَ الْفِرَقَ كُلَّهَا وَلَوْ أَنْ تَعَضَّ بِأَصْلِ شَجَرَةٍ حَتَّى يُدْرِكَكَ الْمَوْتُ وَأَنْتَ عَلَى ذَلِكَ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ: قَالَ: «يَكُونُ بَعْدِي أَئِمَّةٌ لَا يَهْتَدُونَ بِهُدَايَ وَلَا يَسْتَنُّونَ بِسُنَتِي وَسَيَقُومُ فِيهِمْ رِجَالٌ قُلُوبُهُمْ قُلُوبُ الشَّيَاطِينِ فِي جُثْمَانِ إِنْسٍ». قَالَ حُذَيْفَةُ: قُلْتُ: كَيْفَ أَصْنَعُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ أَدْرَكْتُ ذَلِكَ؟ قَالَ: تَسْمَعُ وَتُطِيعُ الْأَمِيرَ وَإِنْ ضَرَبَ ظهرك وَأخذ مَالك فاسمع وأطعمتفق علیہ، رواہ البخاری (3606) و مسلم (52 ، 51 / 1847)، (4784 و 4785) ۔ (مُتَّفق عَلَيْهِ)

হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

লোকেরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট কল্যাণ সম্পর্কে প্রশ্ন করত। আর আমি ক্ষতিকর বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করতাম এই ভয়ে যেন আমি তাতে লিপ্ত না হই। হুযায়ফাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা এক সময় মূর্খতা ও অকল্যাণের মাঝে নিমজ্জিত ছিলাম অতঃপর আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে এই কল্যাণ (দীন-ইসলাম) দান করেন। তবে কি এ কল্যাণের পর পুনরায় অকল্যাণ আসবে? তিনি (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ, আসবে।আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম সেই অকল্যাণের পরে কি আবার কল্যাণ আসবে? তিনি (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ আসবে, তবে তা হবে ধোঁয়াযুক্ত। আমি জিজ্ঞেস করলাম, সেই ধোঁয়া কি ধরনের? তিনি (ﷺ) বললেন, লোকেরা আমার সুন্নাত বর্জন করে অন্য তরীকাহ্ গ্রহণ করবে এবং আমার পথ ছেড়ে লোকেদেরকে অন্য পথে পরিচালিত করবে। তখন তুমি তাদের মধ্যে ভালো কাজও দেখতে পাবে এবং মন্দ কাজও।আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, সেই কল্যাণের পরও কি অকল্যাণ আগমন করবে? তিনি (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ, জাহান্নামের পাশে দাঁড়িয়ে কতক আহ্বানকারী লোকেদেরকে সেই দিকে ডাকবে। যারা তাদের আহ্বানে সাড়া দেবে তাদেরকে তারা জাহান্নামে নিক্ষেপ করে ছাড়বে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদেরকে তাদের পরিচয় অবহিত করুন। তিনি (ﷺ) বললেন, তারা আমাদের মতোই মানুষ হবে এবং আমাদের ভাষায় কথা বলবে।আমি বললাম, আমি সে অবস্থায় উপনীত হলে তখন আমাকে কি কি আদেশ দেন? তিনি (ﷺ) বললেন, তখন তুমি মুসলিমদের দল ও মুসলিমদের ইমামকে আঁকড়ে ধরবে। আমি বললাম, সে সময় যদি কোন মুসলিম জামা'আত ও মুসলিম ইমাম না থাকে (তখন আমাকে কি করতে হবে)? তিনি (ﷺ) বললেন, তখন তুমি সেই সমস্ত বিচ্ছিন্ন দলকে বর্জন করবে, যদিও তোমাকে গাছের শিকড়ের আশ্রয় নিতে হয় এবং তুমি এই নির্জন অবস্থায় থাকবে যতক্ষণ না তোমার মৃত্যু উপস্থিত হয় (অর্থাৎ মৃত্যু পর্যন্ত বাতিল থেকে দূরে অবস্থান করতে হবে, এতে যে কোন দুঃখ-কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকারে তোমাকে প্রস্তুত থাকতে হবে)।সহীহ মুসলিম-এর এক রিওয়ায়াতে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আমার (ওফাতের) পরে এমন কতিপয় ইমাম ও বাদশাহর আগমন ঘটবে যারা আমার নির্দেশিত পথে চলবে না এবং আমার সুন্নাত ও তরীকানুযায়ী আমল করবে না। আবার তাদের মধ্যেও এমন কিছু লোকের আগমন ঘটবে যারা শরীরে গঠনে এবং চেহারা আকৃতিতে মানুষই হবে, কিন্তু তাদের অন্তরসমূহ হবে শয়তানের মতো।হুযায়ফাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি সেই অবস্থায় পতিত হই তখন আমার কর্তব্য কি হবে? তিনি (ﷺ) বললেন, তোমার আমির (শাসক) যা বলে তা মানবে এবং তার অনুসরণ করবে, যদিও তোমার পিঠে আঘাত করা হয় এবং তোমার ধন-সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়, তবুও তার নির্দেশ মেনে চলবে এবং তার আনুগত্য করবে।

সহীহ: বুখারী ৩৬০৬, মুসলিম ৫১-(১৮৪৭), আবূ দাউদ ৪২৪৪, সিলসিলাতুস সহীহাহ্ ১৭৯১, মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ২০৭১১, মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ্ ৩৭১১৩, মুসনাদে বাযযার ২৯৬০, মুসনাদে আহমাদ ২৩৪৭৬, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৯৬৩, আস্ সুনানুল কুবরা লিন্ নাসায়ী ৮০৩৩, হিলয়াতুল ১/২৭২, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী ১৭০৫৩।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৩৮২-[৪]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে হুযায়ফাহ্ (রাঃ) কল্যাণের পাশাপাশি ক্ষতিকর বিষয় সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন, যাতে তিনি তাতে জড়িয়ে না পড়েন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জানান, কল্যাণের পর অকল্যাণ আসবে, আবার অকল্যাণের পর কল্যাণ আসবে; তবে তাতে ধোঁয়া থাকবে। সেই ধোঁয়া হলো, কিছু মানুষ নবীজির সুন্নাহ ছেড়ে অন্য পথ নেবে এবং মানুষকে সেই পথে চালাবে। তাদের মধ্যে কিছু ভালো কাজও দেখা যাবে, আবার মন্দ কাজও দেখা যাবে। এরপর আরও ভয়াবহ অবস্থার কথা বলা হয়েছে—জাহান্নামের দরজার পাশে আহ্বানকারী থাকবে, তারা আমাদের মতোই মানুষ হবে এবং আমাদের ভাষায় কথা বলবে। তখন করণীয় হলো মুসলিমদের দল ও ইমামকে আঁকড়ে ধরা। যদি মুসলিম জামাআত ও ইমাম না থাকে, তবে সব বিচ্ছিন্ন দল থেকে দূরে থাকা। এই হাদিস ফিতনা থেকে বাঁচার পথ, সুন্নাহর অনুসরণ এবং বিভ্রান্ত আহ্বানকারীদের বিষয়ে সতর্ক করে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ক্ষতিকর পথ সম্পর্কে জানা জরুরি, যাতে মানুষ তাতে জড়িয়ে না পড়ে।
  • সুন্নাহ ছেড়ে অন্য পথ নেওয়া ফিতনার বড় লক্ষণ।
  • ফিতনার সময়ে মুসলিম জামাআত ও ইমামের সঙ্গে থাকা নির্দেশিত।
  • যদি নিরাপদ জামাআত না থাকে, বিভ্রান্ত দলগুলো থেকে দূরে থাকা উচিত।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন