২৭/০. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৩৮১-[৩] - আমানত উঠে যাওয়ার ভয়াবহতা

ফিতনা সম্পর্কিত - প্রথম অনুচ্ছেদ

আমানত হারালে সমাজে বিশ্বস্ততা কমে যায়

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৩৮১-[৩]

وَعَنْهُ قَالَ: حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدِيثَيْنِ رَأَيْتُ أَحَدَهُمَا وَأَنَا أَنْتَظِرُ الْآخَرَ: حَدَّثَنَا: «إِنَّ الْأَمَانَةَ نَزَلَتْ فِي جَذْرِ قُلُوبِ الرِّجَالِ ثُمَّ عَلِمُوا مِنَ الْقُرْآنِ ثُمَّ عَلِمُوا مِنَ السُّنَّةِ». وَحَدَّثَنَا عَنْ رَفْعِهَا قَالَ: يَنَامُ الرَّجُلُ النَّوْمَةَ فَتُقْبَضُ الْأَمَانَةُ مِنْ قَلْبِهِ أَثَرُهَا مِثْلُ أَثَرِ الْوَكْتِ ثُمَّ يَنَامُ النَّوْمَةَ قتقبض فَيَبْقَى أَثَرُهَا مِثْلَ أَثَرِ الْمَجْلِ كَجَمْرٍ دَحْرَجْتَهُ عَلَى رِجْلِكَ فَنَفِطَ فَتَرَاهُ مُنْتَبِرًا وَلَيْسَ فِيهِ شَيْءٌ وَيُصْبِحُ النَّاسُ يَتَبَايَعُونَ وَلَا يَكَادُ أَحَدٌ يُؤَدِّي الْأَمَانَةَ فَيُقَالُ: إِنَّ فِي بَنِي فُلَانٍ رَجُلًا أَمِينًا وَيُقَالُ لِلرَّجُلِ: مَا أَعْقَلَهُ وَمَا أَظْرَفَهُ وَمَا أَجْلَدُهُ وَمَا فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ مِنْ إِيمَانٍ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ متفق علیہ، رواہ البخاری (6497) و مسلم (230 / 143)، (367) ۔ (مُتَّفق عَلَيْهِ)

হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে দুটি হাদীস বর্ণনা করেন। যার একটি আমি সংঘটিত হতে দেখেছি। আর অপরটির প্রতীক্ষায় আছি।১. তিনি (ﷺ) আমাদেরকে বলেছেন যে, আমানত মানুষের অন্তরসমূহের অন্তস্থলে (আল্লাহর নিকট হতে) অবতীর্ণ হয়। অতঃপর তারা কোরআন হতে শিক্ষা গ্রহণ করেন, তারপর সুন্নাহ হতে শিক্ষা গ্রহণ করেন।২. আমানত কিরূপে উঠে যাবে- এ কথাটিও তিনি (ﷺ) আমাদেরকে বলেছেন। এমন সময় মানুষ নিদ্রা যাবে, এমতাবস্থায় তার অন্তর হতে আমানত তুলে নেয়া হবে। তখন শুধুমাত্র কালো দাগের মতো একটি সাধারণ চিহ্ন অবশিষ্ট থাকবে। অতঃপর মানুষ আবার নিদ্রা যাবে, তখন আমানত উঠিয়ে নেয়া হবে। এতে এমন ফোসকা সদৃশ চিহ্ন অবশিষ্ট থাকবে, যেমন জ্বলন্ত অগ্নিশিখা, তাকে তুমি নিজের পায়ের উপর রেখে রোমন্থন করলে তথায় ফুলে। তুমি অবশ্য স্ফীতি দেখতে পাবে, কিন্তু তার ভিতরে কিছুই নেই। আর লোকজন ভোরে উঠে স্বভাবত ক্রয়-বিক্রয়ে ব্যস্ত হবে, কিন্তু কাউকেও আমানত রক্ষাকারী পাবে না। তখন বলা হবে, অমুক সম্প্রদায়ে একজন বিশ্বস্ত ও আমানতদার লোক রয়েছে। আবার কোন ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হবে যে, সে কতই জ্ঞানী! সে কতই চালাক ও চতুর। এবং সে কতই সচেতন ও দৃঢ় প্রত্যয়ী! অথচ তার অন্তরে রাই পরিমাণও ঈমান নেই।

সহীহ: বুখারী ৬৪৯৭, মুসলিম ২৩০-(১৪৩), তিরমিযী ২১৭৯, ইবনু মাজাহ ৪০৫৩, সহীহুল জামি ১৫৮৪, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত তারহীব ২৯৯৪, মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ২০১৯৪, মুসনাদুল হুমায়দী ৪৪৬, মুসনাদে আহমাদ ২৩৩০৩, সহীহ ইবনু হিব্বান ৬৭৬২, শু’আবূল ঈমান ৫২৭১, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী ২০৮৮৬।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৩৮১-[৩]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আমানতের গভীর অবস্থান এবং তা উঠে যাওয়ার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন। আমানত মানুষের অন্তরের গভীরে নেমে আসে। এরপর মানুষ কুরআন থেকে শিক্ষা নেয়, তারপর সুন্নাহ থেকে শিক্ষা নেয়। অর্থাৎ আমানত শুধু কথার বিষয় নয়; এটি ঈমান, কুরআন ও সুন্নাহর শিক্ষার সঙ্গে জড়িত। হাদিসে বলা হয়েছে, একসময় মানুষের অন্তর থেকে আমানত তুলে নেওয়া হবে। তখন তার শুধু দাগের মতো চিহ্ন থাকবে, কিন্তু ভিতরে সত্যিকারের আমানত থাকবে না। মানুষ কেনাবেচা করবে, লেনদেন করবে, কিন্তু আমানত রক্ষা করার মতো লোক পাওয়া কঠিন হবে। কারও বুদ্ধি, চতুরতা বা শক্তির প্রশংসা করা হবে, অথচ তার অন্তরে রাই পরিমাণ ঈমানও থাকবে না। তাই আমানতদার হওয়া, বিশ্বস্ততা রক্ষা করা এবং ঈমানকে জীবন্ত রাখা এই হাদিসের মূল শিক্ষা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • আমানত মানুষের অন্তরের গভীর বিষয়; এটি শুধু বাহ্যিক আচরণ নয়।
  • কুরআন ও সুন্নাহর শিক্ষা আমানত রক্ষার বড় মাধ্যম।
  • বুদ্ধি ও চতুরতা থাকলেই কেউ সত্যিকারের আমানতদার হয় না।
  • লেনদেন ও সামাজিক জীবনে বিশ্বস্ততা হারানো বড় সতর্কতার বিষয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন