২৭/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৩৮০-[২] - অন্তরে ফিতনার কালো দাগ
ফিতনা সম্পর্কিত - প্রথম অনুচ্ছেদ
ফিতনা ও অন্তরের কালো দাগ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৩৮০-[২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৩৮০-[২]
وَعَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: تُعْرَضُ الْفِتَنُ عَلَى الْقُلُوبِ كَالْحَصِيرِ عُودًا عُودًا فَأَيُّ قَلْبٍ أُشْرِبَهَا نَكَتَتْ فِيهِ نُكْتَةً سَوْدَاءَ وَأَيُّ قَلْبٍ أَنْكَرَهَا نُكِتَتْ فيهِ نُكْتَةٌ بَيْضَاءُ حَتَّى يَصِيرَ عَلَى قَلْبَيْنِ: أَبْيَضُ بِمثل الصَّفَا فَلَا تَضُرُّهُ فِتْنَةٌ مَا دَامَتِ السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ وَالْآخَرُ أَسْوَدُ مِرْبَادًّا كَالْكُوزِ مُجْخِيًّا لَا يَعْرِفُ مَعْرُوفًا وَلَا يُنْكِرُ مُنْكَرًا إِلَّا مَا أشْرب من هَوَاهُرَوَاهُ مُسلم رواہ مسلم (231 / 144)، (369) ۔ (صَحِيح)
হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, মানুষের হৃদয়ে ফিতনাসমূহ এমনভাবে প্রবেশ করে, যেমন- আঁশ একটির পর আরেকটি বিছানো হয়ে থাকে এবং যেই হৃদয়ের রন্ধ্রে রন্ধ্রে তা প্রবেশ করে তাতে একটি কালো দাগ পড়ে। আর যে অন্তর তাকে জায়গা দেয় না তাতে একটি সাদা দাগ পড়ে। ফলে মানুষের অন্তরসমূহ পৃথক পৃথক দু'ভাগে আলাদা হয়ে যায়।একপ্রকার অন্তর হয় মর্মর পাথরের মতো শ্বেত, যাকে আসমান ও জমিন বহাল থাকা পর্যন্ত (কিয়ামত পর্যন্ত) কোন ফিতনাই ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে না। অপরদিকে দ্বিতীয় প্রকার অন্তর হয় কয়লার মতো কালো। যেমন- উপুড় হওয়া পাত্রের মতো, যাতে কিছুই ধারণ করার ক্ষমতা থাকে না। তা ভালোকে ভালো জানার এবং মন্দকে মন্দ জানার ক্ষমতা রাখে না, ফলে শুধুমাত্র তাই গ্রহণ করে যা তার প্রবৃত্তির চাহিদা হয়।
সহীহ : মুসলিম ২৩১-(১৪৪), সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২৩১৯, মুসনাদে আহমাদ ২৩৩২৮, মুসনাদে বাযযার ২৮৪৪, সহীহুল জামি ২৯৬০, হিলইয়াতুল আওলিয়া ৪/৩৭০।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৩৮০-[২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم অন্তরের ওপর ফিতনার প্রভাব খুব গভীরভাবে বুঝিয়েছেন। ফিতনা মানুষের হৃদয়ে একটির পর একটি প্রবেশ করে, যেমন চাটাইয়ের আঁশ একটির পর একটি থাকে। যে অন্তর ফিতনাকে গ্রহণ করে, তাতে কালো দাগ পড়ে। আর যে অন্তর তা অস্বীকার করে, তাতে সাদা দাগ পড়ে। শেষে অন্তর দুই ধরনের হয়ে যায়। এক অন্তর হয় সাদা পাথরের মতো; আসমান-জমিন থাকা পর্যন্ত ফিতনা তাকে ক্ষতি করতে পারে না। অন্য অন্তর হয় কালো, উল্টানো পাত্রের মতো; সে ভালোকে ভালো আর মন্দকে মন্দ হিসেবে চিনতে পারে না, শুধু প্রবৃত্তির চাহিদা গ্রহণ করে। হাদিসটি শেখায়, অন্তরকে ফিতনা থেকে রক্ষা করা ঈমানি জীবনের বড় কাজ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফিতনা গ্রহণ করলে অন্তর ধীরে ধীরে অন্ধকার হতে পারে।
- ফিতনা অস্বীকার করলে অন্তর সাদা ও স্থির থাকে।
- ভালো-মন্দ চেনার শক্তি অন্তরের সুস্থতার সাথে জড়িত।
- প্রবৃত্তির অনুসরণ অন্তরকে সত্য থেকে দূরে নিতে পারে।
