২৭/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৩৮৫-[৭] - ফিতনায় অস্ত্র ভেঙে দূরে থাকা
ফিতনা সম্পর্কিত - প্রথম অনুচ্ছেদ
ফিতনার সময় সংঘাতে না জড়ানোর নববী নির্দেশ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৩৮৫-[৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৩৮৫-[৭]
وَعَنْ أَبِي بَكْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّهَا سَتَكُونُ فِتَنٌ أَلَا ثُمَّ تَكُونُ فِتنٌ أَلا ثمَّ تكونُ فتنةٌ القاعدُ خَيْرٌ مِنَ الْمَاشِي فِيهَا وَالْمَاشِي فِيهَا خَيْرٌ مِنَ السَّاعِي إِلَيْهَا أَلَا فَإِذَا وَقَعَتْ فَمَنْ كَانَ لَهُ إِبل فَلْيَلْحَقْ بِإِبِلِهِ وَمَنْ كَانَ لَهُ غَنَمٌ فَلْيَلْحَقْ بغنمه وَمن كَانَت لَهُ أرضٌ فَلْيَلْحَقْ بِأَرْضِهِ»فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ مَنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ إِبِلٌ وَلَا غَنَمٌ وَلَا أَرْضٌ؟ قَالَ: «يَعْمِدُ إِلَى سَيْفِهِ فَيَدُقُّ عَلَى حَدِّهِ بِحَجَرٍ ثُمَّ لِيَنْجُ إِنِ اسْتَطَاعَ النَّجَاءَ اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ؟» ثَلَاثًا فَقَالَ: رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ أُكْرِهْتُ حَتَّى ينْطَلق بِي إِلَى أحدالصفين فَضَرَبَنِي رَجُلٌ بِسَيْفِهِ أَوْ يَجِيءُ سَهْمٌ فَيَقْتُلُنِي؟ قَالَ: «يَبُوءُ بِإِثْمِهِ وَإِثْمِكَ وَيَكُونُ مِنْ أَصْحَابِ النَّار» رَوَاهُ مُسلم رواہ مسلم (13 / 2887)، (7250) ۔ (صَحِيح)
আবূ বাকরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : অচিরেই বিভিন্ন ধরনের ফিতনাহ্ দেখা দেবে। জেনে রাখ, এটার পর নানান ধরনের ফিতনাহ্ এসে পড়বে, সে সময় বসা অবস্থায় থাকা ব্যক্তি চলমান ব্যক্তির তুলনায় হবে উত্তম এবং চলমান ব্যক্তি উক্ত ফিতনার দিকে দ্রুতগামী ব্যক্তির তুলনায় হবে উত্তম। জেনে রেখ! যখন সেই ফিতনাহ্ সংঘটিত হবে তখন যার কাছে উট আছে সে যেন তার উট নিয়ে থাকে, যার বকরি আছে সে যেন তার বকরি নিয়ে থাকে। আর যার ভূসম্পত্তি আছে, সে যেন উক্ত জমি-ভূমি নিয়েই থাকে।এ সময় জনৈক লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! যদি কারো উট, বকরি ও ভূসম্পত্তি না থাকে (তখন কি করবে)? তিনি। (ﷺ) বললেন, তখন সে যেন নিজের তলোয়ারের প্রতি দৃষ্টি দেয় এবং তার ধার-পার্শ্ব দিয়ে পাথরে আঘাত করে তা ভেঙ্গে ফেলে, অতঃপর সম্ভব হলে উক্ত ফিতনার স্থান থেকে পালিয়ে বাঁচবে। [অতঃপর তিনি (ﷺ) বললেন,] হে আল্লাহ! আমি কি তোমার আদেশসমূহ পৌঁছিয়ে দিয়েছি? এ কথাটি তিনি (ﷺ) তিনবার বললেন।এ সময় ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! যদি কোন লোক বলপূর্বক আমাকে নিয়ে দুই দলের কোন এক কাতারে দাঁড় করিয়ে দেয়, অতঃপর কোন লোক তলোয়ারের আঘাতে আমাকে হত্যা করে অথবা তীর এসে আমায় বিধে এবং তাতে আমার মৃত্যু ঘটে, তখন (আমার পরিণাম সম্পর্কে) আপনার কি মতামত? উত্তরে তিনি (ﷺ) বললেন, সে তার নিজের এবং তোমার গুনাহ বহন করবে এবং জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
সহীহ: মুসলিম ১৩-(২৮৮৭), মুসনাদে আহমাদ ২১৩৬৩।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৩৮৫-[৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) একের পর এক ফিতনার কথা বলেছেন। তিনি জানান, সে সময়ে বসে থাকা ব্যক্তি চলমান ব্যক্তির চেয়ে ভালো, আর চলমান ব্যক্তি ফিতনার দিকে দ্রুত যাওয়া ব্যক্তির চেয়ে ভালো। অর্থাৎ ফিতনার সংঘাতে অংশ নেওয়া থেকে দূরে থাকা এখানে বড় শিক্ষা। যার উট আছে সে উটের কাছে, যার বকরি আছে সে বকরির কাছে, যার জমি আছে সে জমির কাছে থাকবে—এভাবে নিজেকে ফিতনার ময়দান থেকে সরিয়ে রাখবে। যার এসব কিছু নেই, সে নিজের তলোয়ারের ধার পাথর দিয়ে ভেঙে ফেলবে এবং সম্ভব হলে পালিয়ে বাঁচবে। শেষে জোর করে কাউকে দুই দলের এক দলে দাঁড় করানো হলে এবং তাকে হত্যা করা হলে, হত্যাকারীর দায় সম্পর্কে কঠিন কথা বলা হয়েছে। এই হাদিস ফিতনার সময় যুদ্ধ-সংঘাত থেকে দূরে থাকা এবং নিরপরাধ রক্তপাত এড়ানোর শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফিতনার দিকে দ্রুত এগিয়ে যাওয়া থেকে দূরে থাকা উচিত।
- নিজের কাজ, সম্পদ বা জমির মধ্যে থাকা সংঘাত এড়ানোর একটি উপায় হতে পারে।
- অস্ত্রের ধার নষ্ট করার নির্দেশ ফিতনায় রক্তপাত এড়ানোর শিক্ষা দেয়।
- জোরপূর্বক সংঘাতে জড়ানো হলে হত্যাকারীর দায় গুরুতর।
