২৭/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৩৯১-[১৩] - ফিতনার সময় ইবাদতের ফজিলত
ফিতনা সম্পর্কিত - প্রথম অনুচ্ছেদ
ফিতনার সময় ইবাদত হিজরতের মতো মর্যাদার
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৩৯১-[১৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৩৯১-[১৩]
وَعَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «الْعِبَادَةُ فِي الْهَرْجِ كَهِجْرَةٍ إِلَيَّ». رَوَاهُ مُسلم رواہ مسلم (130 / 2948)، (7400) ۔ (صَحِيح)
মা’কিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : ফিতনার সময় ইবাদতে ব্যস্ত থাকার প্রতিদান আমার দিকে হিজরত করে আসার সমপরিমাণ।
সহীহ : মুসলিম ১৩০-(২৯৪৮), তিরমিযী ২২০১, ইবনু মাজাহ ৩৯৮৫, সহীহুল জামি ৪১১৯, মুসনাদে আবদ ইবনু হুমায়দ ৪০২, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৯৫৭, আল মু'জামুল কাবীর লিত্ব তবারানী ১৬৮৮৪।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৩৯১-[১৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, হারজ বা অস্থিরতা ও হত্যার সময়ে ইবাদত করা তাঁর দিকে হিজরত করার মতো। হাদিসটি ছোট হলেও এর শিক্ষা গভীর। যখন চারদিকে ফিতনা, ভয়, রক্তপাত ও অস্থিরতা থাকে, তখন মানুষ সহজেই উত্তেজনা, গুজব বা সংঘাতে জড়িয়ে যেতে পারে। কিন্তু এই হাদিস মানুষকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেয়। ফিতনার সময় ইবাদত মানে নিজেকে আল্লাহর স্মরণ, নামাজ, আনুগত্য ও ভালো কাজে ব্যস্ত রাখা—যতটুকু হাদিসের মূল অর্থের সঙ্গে মানানসই। এখানে প্রতিদানের তুলনা দেওয়া হয়েছে হিজরতের সঙ্গে, তাই এটিকে হালকা করে দেখা ঠিক নয়। তবে হাদিসের বাইরে নির্দিষ্ট আমলের তালিকা বানিয়ে দাবি করা ঠিক হবে না। মূল কথা হলো, ফিতনার সময় ইবাদত মানুষকে নিরাপদ ও সংযত পথে রাখে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফিতনার সময় ইবাদত করা বড় মর্যাদার কাজ।
- অস্থির সময়ে আল্লাহর দিকে ফিরে থাকা জরুরি।
- ইবাদত মানুষকে সংঘাত ও গাফিলতি থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।
- হাদিসে ফিতনার সময় ইবাদতের মর্যাদা হিজরতের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
