২৭/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৩৯৭-[১৯] - দুর্ভিক্ষ-মহামারি ও হত্যাযজ্ঞে করণীয়
ফিতনা সম্পর্কিত - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
দুর্ভিক্ষ ও হত্যাযজ্ঞে সংযমের শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৩৯৭-[১৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৩৯৭-[১৯]
وَعَن أبي ذَر قَالَ: كُنْتُ رَدِيفًا خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا علىحمار فَلَمَّا جَاوَزْنَا بُيُوتَ الْمَدِينَةِ قَالَ: «كَيْفَ بِكَ يَا أَبَا ذَرٍّ إِذَا كَانَ بِالْمَدِينَةِ جُوعٌ تَقُومُ عَنْ فِرَاشِكَ وَلَا تَبْلُغُ مَسْجِدَكَ حَتَّى يُجْهِدَكَ الْجُوعُ؟» قَالَ: قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: «تَعَفَّفْ يَا أَبَا ذَرٍّ» . قَالَ: «كَيْفَ بِكَ يَا أَبَا ذَرٍّ إِذَا كَانَ بِالْمَدِينَةِ مَوْتٌ يَبْلُغُ الْبَيْتَ الْعَبْدُ حَتَّى إِنَّهُ يُبَاعُ الْقَبْرُ بِالْعَبْدِ؟». قَالَ: قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: «تَصْبِرُ يَا أَبَا ذَرٍّ» . قَالَ: «كَيْفَ بِكَ يَا أَبَا ذَرٍّ إِذَا كَانَ بِالْمَدِينَةِ قَتْلٌ تَغْمُرُ الدِّمَاءُ أَحْجَارَ الزَّيْتِ؟» قَالَ: قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: «تَأْتِي مَنْ أَنْتَ مِنْهُ». قَالَ: قُلْتُ: وَأَلْبَسُ السِّلَاحَ؟ قَالَ: «شَارَكْتَ الْقَوْمَ إِذًا». قُلْتُ: فَكَيْفَ أَصْنَعُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «إِنْ خَشِيتَ أَنْ يَبْهَرَكَ شُعَاعُ السَّيْفِ فَأَلْقِ نَاحِيَةَ ثَوْبِكَ عَلَى وَجْهِكَ لِيَبُوءَ بإِثمك وإِثمه».رَوَاهُ أَبُو دَاوُد حسن، رواہ ابوداؤد (4261) ۔ (صَحِيح)
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পিছনে একটি গাধার উপরে আরোহী ছিলাম। যখন আমরা মাদীনার গ্রামাঞ্চল অতিক্রম করে বাহিরে গেলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন, হে আবূ যার! তখন তোমার কি অবস্থা হবে যখন মাদীনায় এমন দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে যে, ক্ষুধার তাড়নায় তুমি নিজ বিছানা হতে উঠে মসজিদ পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না, এমনকি ক্ষুধা তোমাকে পেরেশানী করে ফেলবে। আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই বেশি জানেন। তিনি (ﷺ) বললেন, হে আবূ যার! তখন তুমি আত্মসংযম করবে (হারাম কিংবা সন্দেহযুক্ত মাল ভক্ষণ করো না)।তিনি (ﷺ) পুনরায় বললেন, হে আবূ যর! তখন তোমার অবস্থা কিরূপ হবে যখন মাদীনায় এমন মহামারি দেখা দেবে যে, একটি ঘর একটি গোলামের মূল্যের সমপরিমাণে পৌঁছবে, এমনকি একটি ক্ববরের স্থান একটি গোলামের বিনিময়ে বিক্রয় হবে। আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক জানেন। তিনি (ﷺ) বললেন, হে আবূ যার! তখন তুমি ধৈর্য ধারণ করবে। তিনি (ﷺ) বললেন, হে আবূ যার! তখন তোমার অবস্থা কি হবে যখন মাদীনায় এমন এক হত্যাযজ্ঞের সূচনা হবে যার রক্ত ‘আজারুয্ যায়ত’ নামক স্থানকে ডুবিয়ে ফেলবে। আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক ভালো জানেন। তিনি (ﷺ) বললেন, তখন তুমি তার কাছেই চলে যাবে যার সাথে তুমি সম্পর্কিত (নিজের পরিবার অথবা নিজ ইমামের নিকট)।আমি বললাম, তবে কি আমি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হব? তিনি (ﷺ) বললেন, যদি তুমি এরূপ কর তাহলে তুমিও সে দলের সাথে শামিল হয়ে যাবে। আমি বললাম, তাহলে আমি কি করব? হে আল্লাহর রাসূল! তখন তিনি (ﷺ) বললেন, যদি তুমি তলোয়ারের চাকচিক্যকে ভয় কর (তলোয়ারের সম্মুখে ভয় পাও), তাহলে পরিহিত কাপড়ের একাংশ স্বীয় মুখের উপরে স্থাপন করবে, যাতে সে তোমার ও নিজের পাপ বহন করে।
সহীহ : আবূ দাউদ ৪২৬১, ইবনু মাজাহ ৩৯৫৮, হাকিম ৪/৪২৩।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৩৯৭-[১৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ যার (রাঃ) বলেন, তিনি একদিন নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর পেছনে গাধার ওপর ছিলেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাকে মাদীনার ভবিষ্যৎ কিছু কঠিন অবস্থার কথা বলেন। দুর্ভিক্ষের সময় তিনি আবূ যারকে আত্মসংযম করতে বলেন। মহামারি বা মৃত্যুর ব্যাপারে তিনি ধৈর্য ধরতে বলেন। এরপর হত্যাযজ্ঞের কথা এলে তিনি বলেন, তখন যার সঙ্গে সম্পর্ক আছে তার কাছে চলে যাবে। আবূ যার (রাঃ) জানতে চান, তিনি কি অস্ত্র ধারণ করবেন? নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তা করলে তিনিও তাদের দলে শামিল হয়ে যাবেন। এরপর নির্দেশ দেন, তলোয়ারের ঝলক ভয় হলে কাপড়ের একাংশ মুখের ওপর দেবে, যাতে আক্রমণকারী নিজের ও তার পাপ বহন করে। এই হাদিস ফিতনা, দুর্ভিক্ষ, মহামারি ও রক্তপাতের সময়ে সংযম, ধৈর্য ও অস্ত্রধারণ থেকে বিরত থাকার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুর্ভিক্ষের সময় সংযম ও হারাম থেকে বাঁচার শিক্ষা আছে।
- মহামারি বা মৃত্যুর কঠিন সময়ে ধৈর্য ধরতে বলা হয়েছে।
- হত্যাযজ্ঞের সময় অস্ত্র ধারণ করলে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
- ফিতনার সময় নিজেকে রক্তপাত থেকে দূরে রাখা জরুরি।
