২৭/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৩৯৯-[২১] - ফিতনায় ঘরে থাকা ও অস্ত্র ভাঙা
ফিতনা সম্পর্কিত - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
ফিতনার সময় ঘরে থাকা ও অস্ত্র অকার্যকর করা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৩৯৯-[২১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৩৯৯-[২১]
وَعَنْ أَبِي مُوسَى عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: «إِنَّ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ فِتَنًا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ يُصْبِحُ الرَّجُلُ مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا وَيُمْسِي مُؤْمِنًا وَيُصْبِحُ كَافِرًا الْقَاعِد خير من الْقَائِم والماشي خَيْرٌ مِنَ السَّاعِي فَكَسِّرُوا فِيهَا قِسِيَّكُمْ وَقَطِّعُوا فِيهَا أَوْتَارَكُمْ وَاضْرِبُوا سُيُوفَكُمْ بِالْحِجَارَةِ فَإِنْ دُخِلَ عَلَى أَحَدٍ مِنْكُمْ فَلْيَكُنْ كَخَيْرِ ابْنَيْ آدَمَ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُد.وَفِي رِوَايَة لَهُ (ضَعِيف) : «ذَكَرَ إِلَى قَوْلِهِ» خَيْرٌ مِنَ السَّاعِي ثُمَّ قَالُوا: فَمَا تَأْمُرُنَا؟ قَالَ: كُونُوا أَحْلَاسَ بُيُوتِكُمْ. وَفِي رِوَايَةِ التِّرْمِذِيِّ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي الْفِتْنَةِ: «كَسِّرُوا فِيهَا قِسِيَّكُمْ وَقَطِّعُوا فِيهَا أَوْتَارَكُمْ وَالْزَمُوا فِيهَا أَجْوَافَ بُيُوتِكُمْ وَكُونُوا كَابْنِ آدَمَ».وَقَالَ: هَذَا حديثٌ صحيحٌ غريبٌ اسنادہ حسن، رواہ ابوداؤد (4259، 4262) و الترمذی (2204) ۔ (صَحِيح)
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি (ﷺ) বলেছেন : কিয়ামত আসার আগে ঘোর অন্ধকার রাত্রির একাংশের মতো ফিতনা সংঘটিত হতে থাকবে তাতে কোন ব্যক্তি সকালে মুমিন এবং বিকালে কাফির এবং বিকালে মুমিন এবং সকালে কাফিরে পরিণত হতে থাকবে। তাতে বসা ব্যক্তি দণ্ডায়মান ব্যক্তির তুলনায় উত্তম হবে। আর চলমান ব্যক্তি দ্রুতগামী ব্যক্তি অপেক্ষা উত্তম হবে। তখন তোমরা তোমাদের ধনুকগুলো ভেঙ্গে ফেলবে এবং তার রশিগুলো কেটে দিবে। আর তোমাদের তলোয়ার পাথরে ঘষে তার ধার নষ্ট করে দেবে। এ সময় যদি কেউ আগ্রাসী হয়ে তোমাদের কাউকে আক্রমণ করে, তখন সে যেন আদাম (আঃ)-এর দুই ছেলের মধ্যে উত্তম ছেলের নীতি অনুসরণ করে।আবূ দাউদ-এর অপর এক বর্ণনায়, خَيْرٌ مِّنَ السَّاعِىْ “দ্রুতগামী অপেক্ষা উত্তম” পর্যন্ত বর্ণনা করা হয়েছে। অতঃপর সহাবীগণ প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদেরকে সে সময় কী করতে নির্দেশ দেন? তিনি (ﷺ) বললেন, সেই সময় তোমরা আপন ঘরের চট হয়ে যাও। (বিছানা যেমন ঘরে পড়ে থাকে, তেমন তোমরাও ঘরে বসে থাকবে, অর্থাৎ ফিতনায় জড়িত হবে না) আর তিরমিযীর বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : ফিতনার সময় তোমরা নিজেদের ধনুক ভেঙ্গে ফেল এবং তার রশি কেটে ফেল। গৃহের ভিতরে আবদ্ধ থাক এবং আদাম-এর পুত্র (হাবিল)-এর নীতি অনুসরণ কর।
সহীহ: আবূ দাউদ ৪২৫৯, তিরমিযী ২১৯৫, ইবনু মাজাহ ৩৯৬১, ইরওয়া ২৪৫১, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ ১৫৩৫, সহীহুল জামি ২০৪৯, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত তারহীব ৩৩৫৩, মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ্ ৩৭১২০, মুসনাদে আহমাদ ৯০৬১, আবূ ইয়া'লা ৬৫১৫, মুসলিম ১৮৬-(১১৮), সহীহ ইবনু হিব্বান ৬৭০৪, আল মু'জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৫৫৮, আল মু'জামুল আওসাত্ব ২৭৭৪, আল মুসতাদরাক লিল হাকিম ৬২৬৩, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী ১৭২৪৯। ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেন, হাদীসটি সহীহ গরীব।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৩৯৯-[২১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) কিয়ামতের আগে অন্ধকার রাতের অংশের মতো ফিতনার কথা বলেছেন। তখন একজন মানুষ সকালে মুমিন এবং বিকালে কাফির হতে পারে, আবার বিকালে মুমিন এবং সকালে কাফির হতে পারে। সে সময়ে বসা ব্যক্তি দাঁড়ানো ব্যক্তির চেয়ে ভালো, আর চলমান ব্যক্তি দ্রুতগামী ব্যক্তির চেয়ে ভালো। এরপর নির্দেশ এসেছে—ধনুক ভেঙে ফেলো, রশি কেটে দাও এবং তলোয়ার পাথরে ঘষে ধার নষ্ট করো। যদি কেউ আক্রমণ করে, তবে আদম (আঃ)-এর দুই ছেলের মধ্যে উত্তম ছেলের নীতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। অন্য বর্ণনায় ঘরের চট হয়ে যাওয়ার কথা এসেছে, অর্থাৎ ফিতনায় জড়ানো থেকে নিজেকে ঘরে আটকে রাখা। এই হাদিস ফিতনার সময় রক্তপাত এড়ানো, অস্ত্র না তোলা এবং ঈমান রক্ষার গভীর শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অন্ধকার রাতের মতো ফিতনা ঈমানের জন্য বড় বিপদ।
- ফিতনায় সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়া থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে।
- অস্ত্র অকার্যকর করার নির্দেশ রক্তপাত এড়ানোর শিক্ষা দেয়।
- আক্রমণের সময়ও আদম (আঃ)-এর উত্তম ছেলের নীতি অনুসরণের কথা এসেছে।
