২৭/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৪৪৩-[৭] - ফুরাত নদীর স্বর্ণ ও ফিতনা
কেয়ামতের আলামত - প্রথম অনুচ্ছেদ
ফুরাত নদীর স্বর্ণের পাহাড় ও ফিতনার হাদিস
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৪৪৩-[৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৪৪৩-[৭]
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَحْسِرَ الْفُرَاتُ عَنْ جَبَلٍ مِنْ ذَهَبٍ يَقْتَتِلُ النَّاسُ عَلَيْهِ فَيُقْتَلُ مَنْ كُلِّ مِائَةٍ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ وَيَقُولُ كُلُّ رَجُلٍ مِنْهُمْ: لَعَلِّي أَكُونُ أَنَا الَّذِي أنجُو. رَوَاهُ مُسلم رواہ مسلم (29 / 2894)، (7272) ۔ (صَحِيح)
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : ফুরাত নদী তার তলদেশে রক্ষিত স্বর্ণের পাহাড় উন্মুক্ত না করা পর্যন্ত কেয়ামত সংঘটিত হবে না। উক্ত সম্পদ নিয়ে মানুষের মধ্যে মারাত্মক খুনাখুনি হবে। সে ফিতনায় শতকরা নিরানব্বই জন লোক নিহত হবে এবং তাদের প্রত্যেকেই বলবে, হয়তো আমি বেঁচে যাব (একাই সম্পদ ভোগ করব)।
সহীহ: মুসলিম ২৯-(২৮৯৪), ইবনু মাজাহ ৪০৪৬, সহীহুল জামি ৭৪২৩, মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ২০৮০৪, মুসনাদে আহমাদ ৮৩৭০, সহীহ ইবনু হিব্বান ৬৬৯১, হিলইয়াতুল আওলিয়া ১/২৫৫, আল মু'জামুল কাবীর লিত্ব তবারানী ৫৩৮।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৪৪৩-[৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, কেয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না ফুরাত নদী তার তলদেশ থেকে স্বর্ণের পাহাড় প্রকাশ করে। এরপর মানুষ সেই সম্পদ নিয়ে মারাত্মক লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়বে। হাদিসে বলা হয়েছে, সে ফিতনায় অনেক মানুষ নিহত হবে, আর প্রত্যেকে ভাববে হয়তো সে-ই বেঁচে যাবে। এখানে কেয়ামতের আলামত, ফুরাত নদীর স্বর্ণ এবং সম্পদের লোভ—এই তিনটি বিষয় স্পষ্টভাবে এসেছে। হাদিসটি আমাদের শেখায়, সম্পদ যখন মানুষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে, তখন তা শান্তির বদলে ধ্বংসের কারণ হতে পারে। তাই এমন ফিতনা থেকে দূরে থাকা নিরাপদ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সম্পদের লোভ মানুষকে বড় সংঘাতে ঠেলে দিতে পারে।
- ফিতনার সময় ব্যক্তিগত লাভের চিন্তা বিপজ্জনক হতে পারে।
- কেয়ামতের কিছু আলামত মানুষকে সতর্ক করার জন্য বলা হয়েছে।
- নবী صلى الله عليه وسلم যেসব ফিতনা থেকে সাবধান করেছেন, সেগুলোকে হালকা মনে করা উচিত নয়।
