২৮/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৫৪৭-[১৬] - কিয়ামতের দৃশ্য পড়ার সূরা
হাশর - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
কিয়ামতের দৃশ্য বোঝার তিন সূরা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৫৪৭-[১৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৫৪৭-[১৬]
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ كَأَنَّهُ رَأْيُ عَيْنٍ فليَقرأْ: (إِذا الشَّمسُ كُوِّرَتْ) و (إِذا السَّماءُ انفطرَتْ﴿ و (إِذا السَّماءُ انشقَّتْ) رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ اسنادہ حسن، رواہ احمد (2 / 27 ح 4806) و الترمذی (3333) ۔ (حسن)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : যে ব্যক্তি কিয়ামতের দৃশ্যটি এমনভাবে দেখতে পছন্দ করে যে, তা তার চোখের সামনে উপস্থিত সে যেন (إِذا الشَّمسُ كُوِّرَتْ) “যখন সূর্য আলোহীন হয়ে যাবে”- (সূরা আত্ তাকভীর ৮১ : ১); এবং (إِذا السَّماءُ انفطرَتْ) “যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে”- (সূরা আল ইনফিত্বা-র ৮২ : ১); ও (إِذا السَّماءُ انشقَّتْ) “ যখন আকাশ ভেঙ্গে খান খান হয়ে যাবে”- (সূরা আল ইনশিক্বা-ক্ব ৮৪ : ১); এ সূরা কয়েকটি (মর্ম বুঝে) পাঠ করে।
সহীহ: তিরমিযী ৩৩৩৩, সিলসিলাতুস সহীহাহ ১০৮১, মুসনাদে আহমাদ ৪৮০৬, সহীহুল জামি ৬২৯৩, আল মুসতাদরাক' লিল হাকিম ৮৭১৯।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৫৪৭-[১৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিনকে চোখের সামনে দেখার মতো বুঝতে চায়, সে যেন তিনটি সূরা পড়ে: সূরা তাকভীর, সূরা ইনফিতার এবং সূরা ইনশিকাক। এই সূরাগুলোতে সূর্য আলোহীন হওয়া, আকাশ বিদীর্ণ হওয়া এবং আকাশ ভেঙে যাওয়ার মতো কিয়ামতের বড় বড় দৃশ্য এসেছে। হাদিসটি কুরআনের আয়াত বুঝে পড়ার গুরুত্ব শেখায়। শুধু তিলাওয়াত নয়, মর্ম বোঝাও এখানে জরুরি। কিয়ামতের দৃশ্য নিয়ে ভাবলে মানুষের অন্তরে ভয়, সতর্কতা এবং আমলের চিন্তা আসে। তাই এই হাদিস কুরআন তিলাওয়াতকে আখিরাত স্মরণের একটি পথ হিসেবে সামনে আনে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কিয়ামতের দৃশ্য বুঝতে কুরআনের নির্দিষ্ট সূরা মর্মসহ পড়া উপকারী।
- তিলাওয়াতের পাশাপাশি অর্থ বোঝার চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ।
- আখিরাতের আয়াত হৃদয়ে ভয় ও সতর্কতা জাগাতে পারে।
- সূরা তাকভীর, ইনফিতার ও ইনশিকাক কিয়ামতের বড় দৃশ্য মনে করায়।
