২৮/৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৫৮৩-[১৮] - শেষ জান্নাতির জন্য দশগুণ দান
হাউজে কাওসার ও শাফায়াতের বর্ণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ
কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দুটি হাওয থাকবে। একটি পুলসিরাতের পূর্বে অবস্থানের জায়গায়, অন্যটি থাকবে জান্নাতে। উভয় হাওযের নাম কাওসার। তাদের ভাষায় কাওসার অর্থ অধিক কল্যাণ। সঠিক কথা হলো হাওযের ব্যবস্থা হবে মীযানের পূর্বে। কারণ মানুষেরা কবর থেকে পিপাসার্ত হয়ে বের হবে। অতঃপর তারা নবীদের অবস্থানস্থলে হাওয থাকবে। আমি বলি, জামি‘তে রয়েছে, হে নবী (ﷺ) আপনার জন্য হাওযে কাওসার রয়েছে।তারা গর্ব করে বলবে যে, কারা বেশি আগমন করেছে? আমি আশা করি যে, আমি তাদের মাঝে সর্বাধিক সংখ্যা নিয়ে আগমনকারী হব। রাগিব (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (الشَّفْعُ) বলা হয় কোন জিনিসকে অনুরূপ জিনিসের সাথে যুক্ত করা এখান থেকে (الشَّفَاعَةُ) নির্গত হয়েছে। আর তা বলা হয় অন্যকে সাহায্য করার জন্য তার সাথে যোগদান করা তার থেকে গোপন হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাধারণের তুলনায় বেশি মর্যাদাবান ব্যক্তির যুক্ত হওয়া তার চাইতে কম মর্যাদার লোকের সাথে শাফা‘আত সংঘটিত হবে কিয়ামতে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
শেষ জান্নাতিকে দশগুণ দানের বর্ণনা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৫৮৩-[১৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৫৮৩-[১৮]
وَفِي رِوَايَة لَهُ عَن أبي سعيدٍ نَحْوَهُ إِلَّا أَنَّهُ لَمْ يَذْكُرْ فَيَقُولُ: يَا ابْنَ آدَمَ مَا يَصْرِينِي مِنْكَ؟ إِلَى آخِرِ الْحَدِيثِ وَزَادَ فِيهِ: وَيَذْكُرُهُ اللَّهُ: سَلْ كَذَا وَكَذَا حَتَّى إِذَا انْقَطَعَتْ بِهِ الْأَمَانِيُّ قَالَ اللَّهُ: هُوَ لَكَ وَعَشَرَةُ أَمْثَالِهِ قَالَ: ثُمَّ يَدْخُلُ بَيْتَهُ فَتَدْخُلُ عَلَيْهِ زَوْجَتَاهُ مِنَ الْحُورِ الْعِينِ فَيَقُولَانِ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَاكَ لَنَا وَأَحْيَانَا لَكَ. قَالَ: فَيَقُولُ: مَا أَعْطَى أَحَدٌ مثلَ مَا أَعْطَيْترواہ مسلم (311 / 188)، (464) ۔ (صَحِيح)
(সহীহ মুসলিম-এর) অপর এক বর্ণনায় আবূ সা'ঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আল্লাহর উক্তি, ‘হে আদাম সন্তান! কবে নাগাদ আমি তোমার চাহিদা থেকে রেহাই পাব? তা থেকে শেষ পর্যন্ত হাদীসের অংশটি তিনি বর্ণনা করেননি। অবশ্য এ কথাগুলো বেশি আছে যে, আল্লাহ তা'আলা তাকে স্মরণ করিয়ে বলবেন, তুমি আমার কাছে এটা চাও, ওটা চাও।সবশেষে যখন তার আকাঙ্ক্ষা ফুরিয়ে যাবে, তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, যাও, তোমার চাহিদানুযায়ী যা তা তো তোমাকে দিলামই এবং অনুরূপ আরো দশগুণ প্রদান করলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : সে জান্নাতে তার ঘরে প্রবেশ করবে এবং সাথে প্রবেশ করবে হূরুল‘ঈন (ডাগর নয়নাবিশিষ্ট) থেকে তার দু'জন স্ত্রী। তখন হূরদ্বয় বলবে, সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি তোমাকে আমাদের জন্য এবং আমাদেরকে তোমার জন্য জীবিত রেখেছেন। তিনি (ﷺ) এটাও বলেছেন, তখন লোকটি বলবে, আমাকে যা কিছু দেয়া হয়েছে, তা আর কাউকেও দেয়া হয়নি।
সহীহ: মুসলিম ৩১১-(১৮৮), সহীহুল জামি ১৫৫৭, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত তারহীব ৩৭০৩, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ২৩১৪, মুসনাদে আহমাদ ১১২৩২, মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ্ ৩৪০১৩।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৫৮৩-[১৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনাটি শেষ জান্নাতির ঘটনার আরেকটি অংশ তুলে ধরে। এখানে বলা হয়েছে, আল্লাহ তাকে স্মরণ করিয়ে দেবেন, এটা চাও, ওটা চাও। যখন তার সব আকাঙ্ক্ষা শেষ হয়ে যাবে, তখন আল্লাহ বলবেন, তার চাওয়ার জিনিস তাকে দেওয়া হলো এবং আরও দশগুণ দেওয়া হলো। এরপর সে জান্নাতে তার ঘরে প্রবেশ করবে। তার কাছে হূরুলঈনের দুই স্ত্রী আসবে এবং তারা আল্লাহর প্রশংসা করবে। তাদের কথায় জান্নাতের আনন্দ ও আল্লাহর নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পায়। লোকটি তখন বলবে, আমাকে যা দেওয়া হয়েছে, তা আর কাউকে দেওয়া হয়নি। এই হাদিস জান্নাতের দান, আল্লাহর দয়া এবং শেষ জান্নাতির আনন্দকে সহজভাবে বুঝিয়ে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহ বান্দার চাওয়ার বাইরে আরও দান করতে পারেন।
- জান্নাতের নেয়ামত বান্দার কল্পনার চেয়েও বড় হিসেবে এসেছে।
- জান্নাতে প্রবেশের পর আল্লাহর প্রশংসা করা হবে।
- শেষ জান্নাতিও আল্লাহর দয়ায় বড় নেয়ামত পাবে।
